বিজ্ঞাপন

কোটি টাকা অনিয়ম করেছেন বদিউল আলম মজুমদার: সিইসি

January 27, 2022 | 3:39 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ কমিশনে রয়েছে। আমি সিইসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেও তিনি আমার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করে সুযোগ-সুবিধা চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে কোনো সুযোগ-সুবিধা না দেওয়ায় তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৭ জানিয়ারি) সকালে নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে, নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি— আরএফইডি’ টক শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা এসব কথা বলেন। আরএফইডি"র সভাপতি সোমা ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী জেবেল।

সিইসি বলেন, ‘বদিউল আলম মজুমদারকে ব্যক্তিগত সুবিধা না দেওয়ায় তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সমালোচনা করছেন। শামসুল হুদা কমিশনের আমলে বদিউল আলম মজুমদার এর বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার আমি কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম থেকেই আমার সঙ্গে দেখা করতে বারবার ফোন করেন। পরে আমি বাধ্য হয়ে তার সঙ্গে কমিশনে দেখা করি। তখন তিনি বিভিন্ন নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামা নিয়ে বড় বড় কয়েকটি বই আমাকে উপহার দেন। শামসুল হুদা কমিশনের সময় এ সব বইয়ে অর্থায়ন করা হয়েছিল বলেছিল বদিউল আলম মজুমদার আমাকে জানান। পাশাপাশি আমার কাছ থেকেও একই সুবিধা নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন কমিশনের বিভিন্ন লোকজন আমাকে জানিয়েছেন, বদিউল আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে কমিশনের এক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়টি জানার পর আমি তাকে এড়িয়ে চলি। তারপরেও তিনি শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে গিয়েও আমার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করে। আমি বাধ্য হয়ে দেখা করি, পাশাপাাশি একা দেখা না করে ৮/১০ জনকে নিয়ে দেখা করি। সেখানেও তিনি তাকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ করেন। আমি তা আমলে নিইনি।’

সিইসি বলেন, ‘সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদা হঠাৎ করেই আমাদেরকে ছবক দিতে শুরু করেছেন। শামসুল হুদা এতদিন পরে এসে আমাদেরকে ছবক দিচ্ছেন, তিনি ৯০ দিনের পরিবর্তে ৬৯০ দিন পর নির্বাচন করেছেন, এটি কীভাবে সম্ভব? দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা আর সামরিক শাসনের অধীনে নির্বাচন করা এক কথা নয় এটি তোকে বুঝতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

বদিউল আলম মজুমদার এর মতো একজন লোককে তিনি কীভাবে নির্বাচন কমিশনে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন! শামসুল হুদা কমিশন ক্যান্টনমেন্টের আশীর্বাদ নিয়ে নির্বাচন করেছেন বলেও সিইসি মন্তব্য করেন।

সিইসি আরও বলেন, ‘বদিউল আলম মজুমদার সংবিধান বিশেষজ্ঞ নন, তিনি নির্বাচন কমিশন বিশেষজ্ঞ নন; তাকে কেন নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব দেব। তিনি সংবাদ সম্মেলন বিশেষজ্ঞ।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জিএস/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন