বিজ্ঞাপন

মিতু খুন: দ্বিতীয় চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের শুনানি ২২ ফেব্রুয়ারি

February 6, 2022 | 5:55 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো : সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় তার বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে কি না- এ বিষয়ে শুনানির জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

গত ২৫ জানুয়ারি তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোশাররফের মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেটি গ্রহণের জন্য আদালতের নির্ধারিত শুনানির দিন ছিল রোববার (০৬ ফেব্রুয়ারি)। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম হোসেন মো. রেজা বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পিছিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেন।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘চূড়ান্ত প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতার শুনানির সময় মামলার বাদির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাদি মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন না। তিনি শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে ২২ ফেব্রুয়ারি শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন।’

বিজ্ঞাপন

বাবুল আক্তারের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী পৃথক দু’টি আবেদন আদালতে দাখিল করেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বাবুলের জামিনের আবেদন। এ ছাড়া মোশাররফের মামলার ডকেট বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করার যে আবেদন পিবিআই আদালতে দাখিল করেছে, সেটি নামঞ্জুরের জন্য পৃথক আরেকটি আবেদন করা হয়েছে।

ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘দ্বিতীয় মামলার ডকেট প্রথম মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করা— এটি আইনগতভাবে বৈধ নয়। আমরা বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে আবেদন করেছি। আসামির জামিন প্রার্থনা করেছি। দ্বিতীয় মামলার বাদি মোশাররফ হোসেন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন মর্মে আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেছেন। আদালত আমাদের দু’টি আবেদন এবং গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি সময় নির্ধারণ করেছেন।'

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি করে ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় মিতুকে। স্ত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ২০১৬ সালের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন প্রথম এই খুনে বাবুলের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর। প্রায় দেড় বছর পর ২০২১ সালের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। পরদিন বাবুল আক্তারের মামলায় আদালতে ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, যাতে উল্লেখ করা হয়- তদন্তে বাদি বাবুল আক্তারের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

ওইদিনই অর্থাৎ ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাকি সাত আসামি হলেন- মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু এবং শাহজাহান মিয়া।

পিবিআই হেফাজতে থাকা বাবুল আক্তারকে ১২ মে মোশাররফের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে বাবুল আক্তার কারাগারে আছেন। ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর মামলার এক আসামি এহতেশামুল হক ভোলা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জানান, বিশ্বস্ত সোর্স কামরুল ইসলাম শিকদার মুছাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাকে দিয়ে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুন করায় পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার। তার ঘনিষ্ঠ সাইফুল হক, গাজী আল মামুন, মোকলেসুর রহমান ইরাদ এবং আসামি মুসার স্ত্রী পান্না আক্তারও আদালতে জবানবন্দি দেন।

বিজ্ঞাপন

তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এসব জবানবন্দির একপর্যায়ে নিজের মামলায় পিবিআইয়ের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন দাখিল করেন বাবুল আক্তার। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত বাবুল আক্তারের নারাজি আবেদন প্রত্যাখান করেন। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও প্রত্যাখান করে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন।

ফলে মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলাটির পাশাপাশি করা বাবুল আক্তারের মামলাটিও সক্রিয় হয়ে যায়। দুই মামলার সমান্তরাল তদন্তভার এসে পড়ে পিবিআইয়ের ওপর। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বাবুল আক্তারকে তার নিজের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক। ৯ জানুয়ারি আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে বাবুলকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

কিন্তু গত ২৫ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে মোশাররফের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একইসঙ্গে ওই মামলার ডকেট প্রথম মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্তের জন্য আবেদন করেন।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন