বিজ্ঞাপন

‘ডিসি হিলে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলিনি’

February 14, 2022 | 7:37 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রাণকেন্দ্র ডিসি হিল খুলে দিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি কাউকে ডিসি হিলে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলিনি।’

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে বোধন আবৃত্তি পরিষদ আয়োজিত বসন্ত বরণ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মোশাররফ।

নগরীর নন্দনকাননে দৃষ্টিনন্দন ডিসি হিলের চূড়ায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবন আছে। আর পাহাড়ের পাদদেশে মুক্তমঞ্চে বিভিন্ন সংগঠন সাংস্কৃতিক আয়োজন করত, যার অনুমতি নিতে হতো জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে। তবে মুক্তমঞ্চ তৈরির আগে থেকেই বর্ষবরণের আয়োজন হতো ডিসি হিলে।

২০১৭ সালে জেলা প্রশাসন শুধুমাত্র বাংলা বর্ষবরণ ছাড়া ডিসি হিলে সব ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন বন্ধ ঘোষণা করে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখেও তৎকালীন জেলা প্রশাসক এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এমনিক জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে ২০১৮ সালে ৪০ বছর ধরে আয়োজিত বর্ষবরণের অনুষ্ঠানও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। তখন চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মীরা রাস্তায় নামতেও বাধ্য হয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের আগস্টে সিআরবি রক্ষায় গঠিত নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দিতে গেলে জেলা প্রশাসক ১৬ ডিসেম্বর থেকে ডিসি হিল আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে ডিসেম্বরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেই আশ্বাসের আর বাস্তবায়ন হয়নি। ডিসি হিলে অনুষ্ঠান বন্ধে অনড় থাকা নিয়ে চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে এমন আলোচনা ছিল— স্থানীয় বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের আপত্তির কারণে সেখানে অনুষ্ঠান করতে দিচ্ছে না জেলা প্রশাসন।

তবে বসন্ত বরণ উৎসবে এসে ঘরোয়া আয়োজন নিয়ে হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি নিজের অবস্থানও খোলাসা করেন প্রবীণ সাংসদ মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ডিসি হিলে বাদামওয়ালা, আইসক্রিমওয়ালা এসে বাজার বসায়, ময়লা ফেলে। আমি সেগুলো দূর করার কথা বলেছিলাম। আমি কোনোভাবেই কাউকে ডিসি হিলে অনুষ্ঠান বন্ধ করার কথা বলিনি। আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এটা নিয়ে আলাপ করব। ইনশল্লাহ আপনারা আগামী দিনে সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারবেন। আগামী বছর ডিসি হিলে বসন্ত বরণের অনুষ্ঠান হবে, বোধনই করবে, আমি সেখানে থাকব।’

ছয় ঋতু নিয়ে উৎসব, বাঙালি সংস্কৃতির যে কোনো আয়োজন এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে যেকোনো অনুষ্ঠান উন্মুক্ত স্থানেই হওয়া উচিত বলে মত দেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক।

বিজ্ঞাপন

সিআরবিতে প্রবেশাধিকার সংকুচিত করা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘সিআরবিতে ঢুকতে দিচ্ছে না, গেট করে দিচ্ছে। এটি আমরা কোনোদিন হতে দেবো না। সিআরবির যে পাহাড়, এটা চট্টগ্রামকে আল্লাহ দিয়েছে। সেখানে আমাদের কেন ঢুকতে দেবে না ? এটা হতে পারে না।’

‘আমরা ছোট থেকে বড় হয়েছি প্রকৃতির মধ্যে। এই প্রকৃতি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। আমি মিউনিসিপ্যাল স্কুলে পড়তাম, তখন কোর্ট বিল্ডিংয়ের ওখানে পাহাড়ের যে সৌন্দর্য ছিল, সেটিও ভবন বানিয়ে পুরো নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এটা ঠিক করেনি। জায়গাটা অনেক সুন্দর ছিল, আমরা ছোটবেলায় সেখানে খেলতাম। প্রকৃতিকে যে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে এটা ঠিক না,’— বলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম এমন একটি শহর— এরকম শহর পৃথিবীর কোথাও সচরাচর দেখা যায় না। এখানে নদী আছে, সমুদ্র আছে, পাহাড় আছে। এরকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে শহর খুব কমই দেখা যায়। এই প্রকৃতিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে, আমরা এটাকে ধ্বংস করতে পারি না।’

বোধন আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি আব্দুল হালিম দোভাষের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রণব চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন বোধনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য প্রশান্ত চক্রবর্তী, সাবেক সভাপতি সুজিত রায়, বোধন আবৃত্তি স্কুলের অধ্যক্ষ পারভেজ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, সকালে বোধনের বসন্ত উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার রাজীব রঞ্জন। দিনব্যাপী আয়োজনে একক ও দলীয় আবৃত্তি, গান, নাটক, দলীয় নৃত্যসহ আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়েছে।

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন