বিজ্ঞাপন

বিচারকের ওপর হামলার মামলায় দু’জন রিমান্ডে

February 15, 2022 | 7:21 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে বিচারকের ওপর হামলার মামলায় গ্রেফতার দু’জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশকে অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তবে একই ঘটনায় গ্রেফতার দুই নারীকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন আদালত নাকচ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম জুয়েল দেব এ আদেশ দিয়েছেন জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি-প্রসিকিউশন) কামরুল ইসলাম।

হামলার ঘটনায় গ্রেফতার চার জন হলেন— বেলজিয়াম প্রবাসী রানা মর্তুজা (৪৫), তার বোন মাসুকা সুলতানা (৩৫) ও জিবান সুলতানা (২৮) এবং গাড়িচালক আব্দুর রহিম (৩৮)।

বিজ্ঞাপন

এডিসি কামরুল সারাবাংলাকে বলেন, ‘গ্রেফতার চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত রানা মর্তুজাকে পাঁচ দিন ও গাড়িচালক আব্দুর রহিমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মাসুকা ও জিবানের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।’

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর জিইসি মোড় সংলগ্ন ও আর নিজাম রোডে সস্ত্রীক হামলার শিকার হন চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ মো. অলি উল্লাহ। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে চার জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। রানা মর্তুজার বোন মাসুকার স্বামী শিশির মাহমুদ (৪০) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ও আর নিজাম রোডে একটি কফি শপ থেকে বের হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট অলি উল্লাহ ও তার স্ত্রী হেঁটে যাচ্ছিলেন। এসময় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এসে পেছন থেকে বিচারককে ধাক্কা দেয়। তিনি প্রতিবাদ করলে গাড়ি থামিয়ে পাঁচ জন নেমে আসেন। রানা মর্তুজাসহ আসামিরা বিচারকের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং তার স্ত্রীকে নিয়ে অশ্লীল কথা বলেন। তিনি নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়ার পর তাকেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেন।

বিচারক প্রতিবাদ করলে তার শার্টের কলার ধরে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। পরে রাস্তায় ফেলে মারধর করে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে তার শ্বাসরোধের চেষ্টা করলে স্ত্রী তাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে যান। তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের পক্ষের আরও চার-পাঁচ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক সেখানে ততক্ষণে জড়ো হন। তারা বিচারককে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় একজন আইনজীবীসহ কয়েকজন পথচারী বিচারক ও তার স্ত্রীকে রক্ষায় এগিয়ে যান। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় বিচারককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর সারাবাংলাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। আমরা চার জনকে আটক করি। একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।’

বিজ্ঞাপন

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদিকুর রহমান সারাবাংলাকে জানান, রানা মর্তুজার বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার জয় নারায়ণপুর গ্রামে। বাসা নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে। রানা বেলজিয়ামে থাকেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। তার দুই বোন মাসুকা ও জিবানের বাসা ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। তারা চট্টগ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, বিচারকের সঙ্গে কথা কাটাকাটির সময় রানার এক বোন নগরীর লালখান বাজার এলাকার আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ফোন করে সহযোগিতা চান। ওই নেতা তার কয়েকজন অনুসারী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। এসময় তিনিও বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। তার অনুসারীদের কয়েকজন হামলায় যোগ দেন। কিন্তু ততক্ষণে সাধারণ লোকজন জড়ো হয়ে যাওয়ায় এবং পুলিশ পৌঁছে যাওয়ায় তারা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।

জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোখলেছুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিচারক সাহেব শুধুমাত্র উনাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িতে যারা ছিলেন, তাদের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। পরে যারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিল তাদের বিষয়ে উনি কোনো বক্তব্য দেননি। তবে মামলার এজাহারে চার-পাঁচ জন অজ্ঞাত লোকের কথা বলা আছে। তারা কারা, সেটি আমরা তদন্ত করে বের করব।’

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন