বিজ্ঞাপন

৩৫ খণ্ডে প্রকাশ পেল সৈয়দ হকের রচনাবলি

March 3, 2022 | 5:55 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জীবনসঙ্গী আনোয়ারা সৈয়দ হকের কাছে প্রায়ই বলতেন, আমি তো মহাকালের জন্য লিখি। আমার লেখা সমসাময়িককালে কতটা গুরুত্ব পেল, তাতে কী যায় আসে!

বিজ্ঞাপন

মহাকালের পথে জায়গা পাওয়া যার লেখক জীবনের গন্তব্য, তিনি লিখেছেনও দু’হাত ভরে। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, গল্প, অনুবাদ— সাহিত্যের এমন কোনো দিক নেই, যেখানে পদচারণা নেই তার। সেই সৈয়দ শামসুল হকের বিপুল সাহিত্যকর্ম আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল মহাকালের পথে। সব্যসাচী এই লেখকের মৃত্যুর পাঁচ বছরের মাথায় প্রকাশ পেল সৈয়দ শামসুল হকের রচনাসমগ্র।

১৯ হাজার ১১২ পৃষ্ঠার ৩৫ খণ্ডের এই রচনাবলি প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) গুলশানে অবস্থিত সৈয়দ হকের বাসভবন ‘মঞ্জুভবনে’ লেখকের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ৩৫ খণ্ডের এই রচনাসমগ্র। উপস্থিত কবিপত্নী ও আরেক প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক ও কবিপুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হকসহ পরিবারের অন্যদের হাতে বইগুলো তুলে দেন ঐতিহ্য প্রকাশক আরিফুর রহমান নাইম।

বিজ্ঞাপন

একই সময় কবির বাড়িতে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চেই আগে থেকে বুকিং দেওয়া কয়েকজনের হাতেও এই সমগ্র তুলে দেওয়া হয়। এসময় প্রকাশক আরিফুর রহমান নাইম বলেন, ঐতিহ্য নিবেদিত সৈয়দ শামসুল হক রচনাসমগ্র পাওয়া যাবে বইমেলায় ঐতিহ্য প্রকাশের ৩৫ নম্বর প্যাভিলিয়নে। আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে লেখকের অপ্রকাশিত লেখা নিয়ে আরও তিন থেকে চার খণ্ড বই প্রকাশের পরিকল্পনা আছে।

৩৫ খণ্ডে প্রকাশ পেল সৈয়দ হকের রচনাবলি

বিজ্ঞাপন

আনোয়ারা সৈয়দ হক সারাবাংলাকে বলেন, এত বড় একটি কাজ সাহস নিয়ে করার জন্য ঐতিহ্যকে ধন্যবাদ জানাই। একই দিনে একজন লেখকের ৩৫ খণ্ড বই লেখক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া একটি বিশেষ ঘটনা, যা বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। একজন লেখকের লেখক হয়ে ওঠার পেছনে পরিবারের অবদানকে এই প্রকাশক ভুলে যাননি।

তিনি বলেন, গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে ঐতিহ্যে প্রকাশের একটি দল অফিসেকেই ঘরবাড়ি বানিয়ে দিনরাত খেটে শেষ করেছেন বিপুল এই কর্মযজ্ঞ। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। এছাড়া সৈয়দ হকের অসংখ্য বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পী তার বন্ধু কাইয়ুম চৌধুরীর ৯০তম জন্মদিনে প্রকাশ পেল এই রচনাবলি, যা আমাদের জন্য আরও একটি বিশেষ ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

সৈয়দ হকের এই রচনাসমগ্র প্রকাশের আগেই তার পরিবারকে রয়্যালটি বুঝিয়ে দিয়েছে ঐতিহ্য। বাংলাদেশে সাহিত্যিকদের টাকা দেওয়ার রীতি বেশ সীমিত উল্লেখ করে রচনাবলি প্রকাশের সময়ই রয়্যালটি বুঝিয়ে দেওয়ায় সন্তুষ্টি জানিয়েছেন আনোয়ারা সৈয়দ হক।

৩৫ খণ্ডে প্রকাশ পেল সৈয়দ হকের রচনাবলি

বিজ্ঞাপন

সৈয়দ হকের সন্তান দ্বিতীয় সৈয়দ হক বলেন, ৩৫ খণ্ড বই বের করার পেছনে অনেক মানুষের অবদান থাকে। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। নুরলদিনের সারাজীবনে বাবা লিখেছেন— ‘মাটির মানুষ মাটিতেই মিলায়া যায়, হায় হায়’। এই বাড়িতে যখন আসি তখন আমার ছেলের চেয়েও কম বয়স আমার। খোলা মাঠ ছিল এখানে। সেখানে বাড়ি হলো, বাড়িটার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বড় হয়েছি। এই বাড়িতেই বাবার লেখালেখি।

তিনি বলেন, এই মধ্যজীবনে এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আমি কথা বলছি, ঠিক এইখানেই আমার বাবার মরদেহ রাখা হয়েছিল। সেই জায়গায় বাবার আজ এত সুন্দর আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাবার রচনাসমগ্র প্রকাশ করছি— এটিই প্রমাণ করে যে মানুষ আসে, চলে যায়, আবারও আসে। এটাই বাবা বলতে চেয়েছিলেন।

প্রকাশক আরিফুর রহমান নাইম বলেন, গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর আমাদের সঙ্গে সৈয়দ শামসুল হক পরিবারের চুক্তি হয়েছিল। এই সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যেই এই পুরো রচনাবলি প্রকাশ করা ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের কাজ। সেই চ্যালেঞ্জ আমরা নিয়েছিলাম। কারণ এর আগে আমরা রবীন্দ্র রচনাবলিসহ আরও বেশকিছু সাহিত্যিকের সম্পূর্ণ রচনাবলি সফলভাবে প্রকাশ করতে পেরেছিলাম। ঐতিহ্যের কর্মীরা যেমন দিনরাত খেটেছেন, তেমনি সৈয়দ হক পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে আনোয়ারা সৈয়দ হকের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি এ বাড়ির স্টাডি খুলে দিয়েছিলেন আমাদের কাজের সুবিধার জন্য।

৩৫ খণ্ডে প্রকাশ পেল সৈয়দ হকের রচনাবলি

নাইম আরও বলেন, আমাদের দেশে দেখা যায় এক এক খণ্ড করে সমগ্র প্রকাশ পায়, যার অধিকাংশই সরকারী উদ্যোগে। আমরা সাহস নিয়ে একযোগে সমগ্র খণ্ড প্রকাশ করার সাহস দেখিয়েছি। কবি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য।

বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ শামসুল হক এক বিস্ময়ের নাম। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ্ব থেকে সক্রিয় সৈয়দ হক মাত্র ৩১ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেছিলেন, যা বাংলাদেশি সাহিত্যিকদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়স। পরে ১৯৮৪ সালে একুশে পদক ও ২০০০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন জনপ্রিয় এই লেখক। সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তার ছিল অবাধ বিচরণ। শুধু তাই নয়, তার কমপক্ষে ১০টি কাহিনি থেকে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র।

সারাবাংলা/আরএফ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন