বিজ্ঞাপন

‘শিমুর গল্পটায় মনে হয় না কারো আপত্তি থাকার কথা’

March 6, 2022 | 5:49 pm

আহমেদ জামান শিমুল

বিজ্ঞাপন

রুবাইয়াত হোসেনের তৃতীয় ছবি ‘শিমু- মেইড ইন বাংলাদেশ’। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছে ছবিটি। প্রদর্শিত হয়েছে ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক ও পুর্তগালের সিনেমা হলে। আগামী ১১ মার্চ থেকে দেশের দর্শকরা ‘শিমু’ দেখতে পাবেন।

ছবিটির কাহিনি গড়ে উঠে একজন গার্মেন্টসকর্মী ডালিয়ার জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে। যিনি ২০১৭ সালে গার্মেন্টস থেকে চাকরি হারিয়ে ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর জর্ডান যান। সেখানকার একটি গার্মেন্টসে চাকরিও করেন ৭ মাস। এরপর থেকে তিনি বেকার। বর্তমানে প্রস্তুতি নিচ্ছেন লেবানন যাবার। তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু।

বিজ্ঞাপন

‘শিমু’-র বাংলাদেশে মুক্তি উপলক্ষ্যে সারাবাংলার সিনিয়র নিউজরুম এডিটর আহমেদ জামান শিমুলের মুখোমুখি রুবাইয়াত হোসেন

 

বিজ্ঞাপন

‘আন্ডারকনস্ট্রাকশন’সহ আপনার আগের ছবিগুলোতে অনেক তারকাশিল্পী ছিলেন। যেটা একটা ছবির প্রচারণায় বেশ বড় প্রভাব ফেলে। এ ছবিতে ও অর্থে কোন তারকাশিল্পী নেই।

আমি সব সময় চরিত্র অনুযায়ী শিল্পী নির্বাচন করি। তারকা দেখে কাউকে নিই না। আগের ছবিতে শাহানা গোস্বামী ছিলেন, কিন্তু তিনি সে সময়ে ওই অর্থে তারকা ছিলেন না। রাহুল বোসকে নিয়েছিলাম, কারণ তিনি আমার বন্ধু এবং একই সঙ্গে ওই চরিত্রে তিনি ঠিকঠাক ছিলেন। হ্যাঁ, জয়া বচ্চন, ভিক্টর ব্যানার্জীরা ছিলেন। ওটা অন্যরকম একটা ছবি ছিলো, বেশ জীবনঘনিষ্ঠ। হয়তো ভারতে মুক্তি দিলে তাদের তারকাখ্যাতি কাজে লাগতো। কিন্তু আমি তো ফ্রান্সে মুক্তি দিয়েছিলাম।

বিজ্ঞাপন

‘শিমু’ নির্মাণের প্রস্তুতিটা কীভাবে নিয়েছিলেন?

‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বা ‘শিমু’ যখন শুরু করলাম তখন চেয়েছিলাম সম্পূর্ণ নতুন শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে। অভিনয়শিল্পীদের একদম শুরু থেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমরা অনেকদিন রিহার্সেল করেছি। ওদেরকে আমার প্রচুর সময় দিতে হয়েছিলো। যার কারণে আমি অডিশনের মাধ্যমে তাদের ওইভাবেই নির্বাচন করেছিলাম, যেন তারা সময় দিতে পারে। যেমন শিমু ২০১৬ থেকে জানতো সে এ ছবিতে অভিনয় করবে। তখন কিন্তু চিত্রনাট্যও লিখি নাই। শুধু একটা কাহিনি সংক্ষেপ ছিলো।

বিজ্ঞাপন

আমরা একটা স্টুডিও ভাড়া করেছিলাম। সেখানে প্রথম চিত্রনাট্য পড়া, এরপর এমনি এমনি অভিনয় করে দেখা, তারপর ক্যামেরায় রিহার্সেল করা, শিমু গার্মেন্টেসে যেতো, সেলাইয়ের কাজ শিখেছে, ওদের জীবনযাপন, চলাফেরা সঙ্গে অভ্যস্থ হয়েছে—এভাবেই এগিয়েছি আমরা। ওই সময়ে তারা কেউই অন্য কোনো কাজ করেনি। আমরা তাদেরকে রিহার্সেলের জন্য কোনো পারিশ্রমিক দিতে পারি নাই। শুধু তাদের যাতায়াত ভাড়া দিয়েছি। ওই সময়ে ডালিয়াও ছিলো আমাদের সঙ্গে। সে আমাদের সংলাপগুলো সংশোধনে বেশ সহায়তা করেছে।

‘শিমুর গল্পটায় মনে হয় না কারো আপত্তি থাকার কথা’
ডালিয়ার জীবন অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে 'শিমু'

আপনার এ ছবিতে দুটো জনপ্রিয় গান (লোকাল বাস, রূপবান) ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কি কোনো গান রয়েছে?

গান ওই অর্থে ব্যবহার করা হয়নি। যেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো এক-দুই মিনিট করে আছে। একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রাসঙ্গিক গান হিসেবে এসেছে। সেগুলো আমরা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স নিয়েছি। সবমিলিয়ে একটাই গান।

এ মুহূর্তে দেশের সিনেমা হলের অবস্থা খারাপ। যারা সিনেমা হলের আওতার বাইরে তাদের ছবিটি দেখার ব্যবস্থা কী?

আমাদের ইচ্ছে আছে ওটিটিতেও মুক্তি দেওয়ার। আমরা চেষ্টায় আছি সিনেপ্লেক্সগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন অডিটোরিয়ামে চালানোর। পরিকল্পনা রয়েছে শ্রমিকদের নিয়ে আলাদা শো করার। শ্রমিক সংহতি একটা শো করবে। আবার সাভার, আশুলিয়াসহ যেসব এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের বাস বেশি সেখানেও দেখাতে চাই।

নারী দিবসকে উপলক্ষ করে যেহেতু ছবিটি মুক্তি দিচ্ছেন, নারীদের জন্য কোনো বিশেষ অফার রাখছেন কিনা?

না। তবে এটা আপনি ভালো একটা আইডিয়া দিলেন। হয়তো আমরা দিতে পারি।

এ ছবির নাম তো প্রথমে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ছিলো। পরিবর্তন করে ‘শিমু’ রাখা হলো কেনো?

যখন আমরা চিত্রনাট্য লিখি তখন এর নাম শিমুই ছিলো। তারপরে একটা পর্যায়ে গিয়ে আমাদের আন্তর্জাতিক পরিবেশক ও প্রযোজকরা যুক্ত হয়। তখন আমরা নামটা পরিবর্তন করে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ রাখি আমাদের আন্তর্জাতিক মুক্তির জন্য।

আর বাংলাদেশে যখন মুক্তি দিতে গেলাম তখন মনে হলো ‘শিমু’ নামটা বেশি কমিউনিকেবল হবে। আর এখানে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটা ছবি ইতোমধ্যে হয়েছে।

‘শিমুর গল্পটায় মনে হয় না কারো আপত্তি থাকার কথা’
রিকিতা নন্দিনী শিমু

প্রধান অভিনয়শিল্পীকে কিভাবে খুঁজে ফেলেন? তার আসল নামও তো শিমু।

তাকে আমি অডিশনের মাধ্যমে খুঁজে পেয়েছি। এর আগে অবশ্য 'রানওয়ে'-তে ওকে দেখেছিলাম। আমি যখন চিত্রনাট্য লিখি তখনই প্রধান চরিত্রের নাম ছিলো শিমু। এরপর ওকে যখন নির্বাচন করি তখন আর পরিবর্তন করি নাই। আমি চেয়েছি, শিমুই ‘শিমু’ হয়ে উঠুক।

‘শিমু’-এর সিক্যুয়েল বানাবেন বলেছেন। ওখানে কি শিমুই থাকছেন?

ওর প্রথম অভিনয় ছিলো শাহানার সঙ্গে। তখন ওর বয়স ছিলো মাত্র ১৬। অথচ সে শাহানার চেয়ে বেশি স্বতঃস্ফূর্ত ছিলো। আর যখন সিক্যুয়েল বানাবো তখন অবশ্যই সে-ই থাকবে। কারণ এটি বানাতে আমার কমপক্ষে ৫ বছর লাগবে। ততদিনে শিমুও অনেক বেশি পরিনত হবে। শুধু ও না, এ ছবিতে অন্য যারা অভিনেতা ছিলো, আমরা চেষ্টা করবো তাদের সবাই রাখার।

আপনার প্রথম ছবি ‘মেহেরজান’ সেন্সর ছাড়পত্র নিয়ে সিনেমা হলে চলার পর নিষিদ্ধ হয়েছিলো। আবার এ ছবির বিষয় গার্মেন্টেস। আবার আমাদের দেশের অর্থনীতির বড় অংশ গার্মেন্টেসের উপর নির্ভরশীল। এখন এ ছবি মুক্তির পরে কোনো প্রকার রোষানলে পড়ার আশঙ্কার করেন কিনা?

আমার প্রথম ছবি আর এ ছবির ঘটনার অনেক পার্থক্য। আর এটা তো বাস্তবধর্মী গল্প। যার জীবনের উপর গল্প সে এখানেই বসে আছে। এখানে কার কী বলার থাকতে পারে। এটাকে আমরা উল্টো পজেটিভ অর্থে দেখাচ্ছি। এখানে তো নারী মুক্তির গল্প বলা হচ্ছে। শিমুর গল্পটায় মনে হয় না কারো আপত্তি থাকার কথা। আরেকটা জিনিস হচ্ছে, আমাদের তো শ্রমিকের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে গল্পটা জানারও দরকার আছে।

আপনি কি ছবিটিকে সত্য ঘটনা অবলম্বনে বলবেন? এটা কি পোস্টারে বা ছবিতে লেখা থাকবে?

হ্যাঁ, সত্য ঘটনা অবলম্বনে বলছি। তবে পোস্টারে লেখা আমি মনে করি না ওইভাবে সিনেম্যাটিক ট্রিটমেন্ট। তবে সিনেমার ক্রেডিট লাইনে লেখা আছে— দিস ফিল্ম ইজ ইন্সপার্ড বাই লাইফ অব ডালিয়া।

সারাবাংলা/এজেডএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন