বিজ্ঞাপন

মিতু হত্যা: মোশাররফ বাদ, বাবুলের মামলার তদন্ত হবে

March 6, 2022 | 9:09 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মাহমুদা খানম মিতু খুনের ঘটনায় দুই মামলার মধ্যে কেবল তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলারই তদন্ত কার্যক্রম চলবে। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া আরেক মামলায় দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর বাদী মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের নারাজি আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৬ মার্চ) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হালিম নারাজি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সেটি খারিজ করে দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের আদেশ দেন।

এ আদেশের ফলে মিতু হত্যার ঘটনায় এখন কেবল নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

মিতু হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলারই তদন্তের দায়িত্বে আছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মোশাররফের দায়ের করা মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিল। আদালত ২২ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের শুনানির সময় নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু মোশাররফ সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দিয়ে মামলাটি পিবিআইয়ের পরিবর্তে র‌্যাব অথবা সিআইডিকে দিয়ে তদন্তের আরজি জানিয়েছিলেন। আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ এবং নারাজি আবেদনের বিষয়ে ৬ মার্চ শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।

মোশাররফের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের নারাজি আবেদন গ্রহণ করতে হলে একই ঘটনায় দুই মামলার তদন্ত চলমান হয়ে যায়। আদালত বলেছেন, যেহেতু একই ঘটনায় দুই মামলা চলতে পারে না, সেজন্য নারাজি আবেদন খারিজ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের মামলায় যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে সেগুলো প্রথম মামলার সঙ্গে সংযুক্তির আদেশ দিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে রিভিশন দায়ের করব।’

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি করে ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় মিতুকে। স্ত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ২০১৬ সালের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন প্রথম এই খুনে বাবুলের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর। প্রায় দেড় বছর পর ২০২১ সালের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। পরদিন বাবুল আক্তারের মামলায় আদালতে ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়— তদন্তে বাদী বাবুল আক্তারের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

ওই দিনই অর্থাৎ ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাকি সাত আসামি হলেন— মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু ও শাহজাহান মিয়া।

বিজ্ঞাপন

পিবিআই হেফাজতে থাকা বাবুল আক্তারকে ১২ মে মোশাররফের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে বাবুল আক্তার কারাগারে আছেন। ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর মামলার এক আসামি এহতেশামুল হক ভোলা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জানান, বিশ্বস্ত সোর্স কামরুল ইসলাম শিকদার মুছাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাকে দিয়ে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুন করায় পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার। তার ঘনিষ্ঠ সাইফুল হক, গাজী আল মামুন, মোকলেসুর রহমান ইরাদ এবং আসামি মুসার স্ত্রী পান্না আক্তারও আদালতে জবানবন্দি দেন।

তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এসব জবানবন্দির একপর্যায়ে নিজের মামলায় পিবিআইয়ের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন দাখিল করেন বাবুল আক্তার। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত বাবুল আক্তারের নারাজি আবেদন প্রত্যাখান করেন। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও প্রত্যাখান করে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন।

ফলে মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলাটির পাশাপাশি করা বাবুল আক্তারের মামলাটিও সক্রিয় হয়ে যায়। দুই মামলার সমান্তরাল তদন্তভার এসে পড়ে পিবিআইয়ের ওপর। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বাবুল আক্তারকে তার নিজের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক। ৯ জানুয়ারি আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে বাবুলকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

কিন্তু গত ২৫ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে মোশাররফের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একইসঙ্গে ওই মামলার ডকেট প্রথম মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্তের জন্য আবেদন করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, ‘মোশাররফ সাহেবের মামলাটি আদালতের আদেশে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এখন শুধু একটি মামলা অর্থাৎ যেটি বাবুল আক্তারের দায়ের করা, সেটির অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম চলবে।’

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন