বিজ্ঞাপন

সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

March 14, 2022 | 12:57 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৪ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

বিজ্ঞাপন

এর আগে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত স্ত্রী মাহমুদা খানম হত্যার ঘটনায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এরপর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন বাবুল আক্তার।

আরও পড়ুন- জামিন পেতে হাইকোর্টে এসপি বাবুল

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি করে ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় মিতুকে। স্ত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ২০১৬ সালের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরের বছর মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন প্রথম এই খুনে বাবুলের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর। প্রায় দেড় বছর পর ২০২১ সালের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। পরদিন বাবুল আক্তারের মামলায় আদালতে ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়— তদন্তে বাদী বাবুল আক্তারের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ওই দিনই অর্থাৎ ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আট জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- মিতু হত্যা: মোশাররফ বাদ, বাবুলের মামলার তদন্ত হবে

পিবিআই হেফাজতে থাকা বাবুল আক্তারকে ১২ মে মোশাররফের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে বাবুল আক্তার কারাগারে আছেন। এর মধ্যে মামলার আরও কয়েকজন আসামিসহ অন্যরা আদালতে জবানবন্দি দেন। এক পর্যায়ে নিজের মামলায় পিবিআইয়ের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন দাখিল করেন বাবুল আক্তার। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত বাবুল আক্তারের নারাজি আবেদন প্রত্যাখান করেন। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও প্রত্যাখান করে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

এবারে মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলাটির পাশাপাশি করা বাবুল আক্তারের মামলাটিও সক্রিয় হয়ে যায়। দুই মামলার সমান্তরাল তদন্তভার এসে পড়ে পিবিআইয়ের ওপর। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বাবুল আক্তারকে তার নিজের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক। ৯ জানুয়ারি আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে বাবুলকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। গত ২৫ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে মোশাররফের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আরও পড়ুন- মিতু খুন: দ্বিতীয় চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের শুনানি ২২ ফেব্রুয়ারি

আদালত ২২ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের শুনানির সময় নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু মোশাররফ সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দিয়ে মামলাটি পিবিআইয়ের পরিবর্তে র‌্যাব অথবা সিআইডিকে দিয়ে তদন্তের আরজি জানিয়েছিলেন। আদালত ৬ মার্চ চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ এবং নারাজি আবেদনের বিষয়ে শুনানি নিয়ে কেবল বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালানোর আদেশ দেন।

মোশাররফের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন সেদিন জানান, মোশাররফের নারাজি আবেদন নিতে হলে একই ঘটনায় দুই মামলার তদন্ত চলমান হয়ে যায়। আদালত বলেন, যেহেতু একই ঘটনায় দুই মামলা চলতে পারে না, সেজন্য নারাজি আবেদন খারিজ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। মোশাররফের মামলায় পাওয়া তথ্যপ্রমাণ প্রথম মামলার সঙ্গে সংযুক্তিরও আদেশ দেন আদালত।

সারাবাংলা/কেআইএফ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন