বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, যুদ্ধদিনের স্মৃতিগাথা

December 15, 2017 | 1:50 pm

সন্দীপন বসু

বিজ্ঞাপন

দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৬ বছর হলো। যুদ্ধের বারুদপোড়া গন্ধ, বধ্যভূমির গলিত লাশ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের চিহ্ন দেখার সুযোগ হয়নি এ প্রজন্মের তরুণদের। তাদের যা দেখা সবই অনলাইনে কিংবা গণমাধ্যমে। ফলে জাতির গৌরবময় এ অধ্যায়ের স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখতে যেতে হবে ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। ঢাকা চক্ষু হাসপাতালের ঠিক পেছনে ‘এফ-১১/এ-বি, সিভিক সেক্টরে’ অবস্থিত এ জাদুঘরটি যেন বুকে আগলে রেখেছে যুদ্ধদিনের সব স্মৃতিগাথা।

একাত্তরের উত্তাল ঘটনাপ্রবাহের স্মৃতিচিহ্নে সজ্জিত এ জাদুঘরটি সেগুনবাগিচার ছিমছাম ছোট্ট একটি তিন তলা বাড়ি থেকে এ বছরই নিজ ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছে। নতুন ভবনটি দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। তিনটি বেজমেন্টসহ নয় তলা বিল্ডিংয়ের মোট জায়গা প্রায় ২ লক্ষ বর্গফুট। ছয়টি গ্যালারি নিয়ে কার্যালয়, পাঠাগার, আর্কাইভ, স্টোর, অডিটোরিয়াম, উন্মুক্ত মঞ্চ, ক্যান্টিন, গিফট শপ রয়েছে নতুন এ ভবনে।

বিজ্ঞাপন

নাগরিক কোলাহলের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কংক্রিটের দৃপ্ত স্থাপনাটি। প্রজ্বলিত মশাল আর মুক্তিযোদ্ধার ম্যুরালে সজ্জিত স্থাপনাটি যেন বাঙালির ঐতিহ্য, বীরত্ব, সংগ্রাম আর ত্যাগের সাক্ষ্য বুকে ধারণ আছে দীপ্ত চেতনায়।

বিজ্ঞাপন

‘সত্যের মুখোমুখি হোন, ইতিহাসকে জানুন’ মুলমন্ত্রকে সামনে রেখে ২২ মার্চ ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণ এবং ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়গত বিভেদের নামে নৃশংসতার শিকার সব মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। মুক্তি ও স্বাধীনতার স্পৃহায় দৃঢপ্রতিজ্ঞ মানুষই যে পারে সব বাধা-বিপত্তি দূর করে এগিয়ে যেতে তারই পরিচয় মেলে ধরেছে এই জাদুঘর। সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ সংগ্রামে অকুতোভয় জনগণের বিপুল আত্মদান ও মুক্তির স্বপ্নকে বহন করে চলছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ।

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ট্রাস্ট জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা। এখানে স্থান পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র, বই, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র, তথ্য, স্মৃতি সংরক্ষণসহ মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় অর্জন। এখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও দলিলপত্রাদি সযত্নে সংরক্ষণ করা হয়েছে। যা দেশে নতুনপ্রজন্ম পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম এবং দেশের জন্য তাদের মহৎ আত্মত্যাগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে। দেশ ও জাতি সম্পর্কে তাদের চেতনাকে শাণিত করার প্রয়াস পাবে।

বিজ্ঞাপন

জাদুঘরের প্রবেশ পথেই রয়েছে ‘শিখা অম্লান’। এ শিখা জ্বলছে পৃথিবীর সেইসব মানবদের উদ্দেশে যারা আত্মোৎসর্গ করেছেন স্বাধীনতার জন্য। এ শিখা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পৌঁছে দেবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

যুদ্ধদিনের স্মৃতিগাথার এ সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কিছুই। যুদ্ধ ও যোদ্ধাদের মূল্যবান স্মারক থেকে শুরু করে শহীদদের দেহাবশেষ, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, অস্ত্র, দলিল, চিঠিপত্র ইত্যাদি মিলিয়ে ২১ হাজারের বেশি নিদর্শন এখন জাদুঘরের সংগ্রহে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বাঙালির অতীত, ঐতিহ্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস উপস্থাপিত হয়েছে ছয়টি গ্যালারির মাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, যুদ্ধদিনের স্মৃতিগাথা

জাদুঘরের প্রথম তলায় শিখা অম্লান, বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য, স্মারক বিক্রয়কেন্দ্র, টিকিট কাউন্টার, মুক্তমঞ্চ ও ক্যান্টিন। এই তলায় ঢোকার মুখে একটি হেলিকপ্টার ও একটি বিমানও রয়েছে ছাদের সঙ্গে আটকানো। এগুলো ব্যবহৃত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। দ্বিতীয় তলায় গবেষণা কেন্দ্র, পাঠাগার। তৃতীয় ও চতুর্থ  তলায় চারটি মূল প্রদর্শন কক্ষ। পঞ্চম  তলায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শন কক্ষ।

জাদুঘরের প্রথম গ্যালারির নাম ‘আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংগ্রাম’।  এই গ্যালারিটিতে বাংলার অতীত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা থেকে স্বাধীনতার জন্য বাঙালিদের সংগ্রামের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। ফসিল, প্রাচীন টেরাকোটা, মৃৎপাত্র, শিলাখণ্ডসহ নানা প্রকার নিদর্শনের সঙ্গে রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনা ও ব্যক্তির আলোকচিত্র। এখানে আছে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার রেপ্লিকা, প্রাচীন আমলের যুদ্ধাস্ত্র, ঢাল বর্মসহ বিভিন্ন দুর্গ ও নকশার প্রতিকৃতি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান পর্ব, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন হয়ে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত দেশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

দ্বিতীয় গ্যালারির নাম ‘আমাদের অধিকার আমাদের ত্যাগ’। এই কক্ষটি থেকেই দর্শক সরাসরি ঢুকে পড়বেন মহান মুক্তিযুদ্ধের পর্বে। এই গ্যালারিটি সাজানো হয়েছে মূলত পাকিস্তানি শাসনামল থেকে শুরু করে ৭০-এর সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ইতিহাসের পথপরিক্রমাকে কেন্দ্র করে । ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে রেসকোর্স ময়দানের বিশাল এক সাদাকালো ছবি। এখানে এলে দেখতে পাবেন তৎকালীন পত্রপত্রিকা, পাকিস্তান আমলের শাসন শোষণের বিভিন্ন দলিলপত্র এবং বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রথমধাপের বেশকিছু দুর্লভ ফটোগ্রাফ।

স্বাধীনতার দাবিতে রেসকোর্স ময়দানে অগণিত মানুষের বিশাল সমাবেশ, ১৯৭০ সালের ৩ জানুয়ারি ছবিটি তুলেছিলেন শুক্কুর মিয়া নামের এক আলোকচিত্রী। যে ক্যামেরাটি দিয়ে দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছিল, সেই ক্যামেরাটিও আছে ছবির নিচে। এখানে আছে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের ছবি।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, যুদ্ধদিনের স্মৃতিগাথা

এই গ্যালারির একটি অংশে চমৎকার স্থাপনা কর্মের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতের গণহত্যার ঘটনা। অপারেশন সার্চলাইট নামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ট্যাংক, কামান, সাঁজোয়া যান নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। গ্যালারির এই অংশটি অন্ধকার। সেখানে দেখা যায় ইটের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকছে একটি সামরিক যান। তার হেডলাইট জ্বলছে। সেই আলোয় চোখে পড়ে মেঝের চারপাশে পড়ে আছে গুলিতে নিহত মৃতদেহ। দেয়ালে আছে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চালানো গণহত্যার আলোকচিত্র।

তৃতীয় ও চতুর্থ গ্যালারি এর ওপরের  তলায়। তৃতীয় গ্যালারির নাম ‘আমাদের যুদ্ধ, আমাদের মিত্র’। এখানে ছবি, পেপার কাটিং এবং অন্যান্য তথ্যাদির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধেও প্রাক্কালে তৎকালীন ছাত্র জনতার গণআন্দোলন, পাকিস্তানি হানাদারদের নৃশংসতা ও গণহত্যা, লাখ লাখ শরণার্থীর দুর্গতির চিত্রও রয়েছে। তাদের ভারতে আশ্রয় গ্রহণ এবং শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবর্ণনীয় দুর্দশার চিত্রও প্রতিফলিত হয়েছে।

এখানে আছে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জীবনযাত্রা, বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বড় আকারের ডিজিটাল প্রিন্ট। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ হওয়া, রাজাকারদের তৎপরতা, মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলাযুদ্ধের আশ্রয়স্থল এসব।

এর পাশাপাশি আছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দেশে–বিদেশে যারা বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন, জনমত সৃষ্টি করেছেন সে দিকগুলো। জর্জ হ্যারিসনের কনসার্ট ফর বাংলাদেশের পোস্টার এবং কনসার্টেরবি শংকর, বব ডিল্যান, রিঙ্গো স্টার, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রিস্টনের গাওয়া গানের রেকর্ড, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সহায়তায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানবতাবাদী বিভিন্ন শিল্পী যেমন— লি ব্রেনন, পেটিথমাস, জন ব্রাউন, জিমি সেফটন, রুমা গুহঠাকুরতা, গ্ল্যান্জ জ্যাকসন, নরমা উইনস্টনের গাওয়া গানের অডিও ক্যাসেট সংরক্ষিত আছে এখানে। কনসার্টে বিটলসের বিখ্যাত শিল্পী জর্জ হ্যারিসন যে গানটি গেয়েছিলেন সেই ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ গানের জর্জের হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, সুরের স্টাফ নোটেশন।

আরও আছে আছে তৎকালীন বিশ্বখ্যাত পত্রিকা নিউজ উইক-এর বাংলাদেশ নিয়ে করা প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটি। এ ছাড়াও রয়েছে স্বাধীন বাংলা বেতার অনুষ্ঠানের পাণ্ডুলিপি, শিল্পীদের নাম, স্বাধীন বাংলা বেতারকাজে ব্যবহৃত ট্রান্সমিটারটি, নৌ-কমান্ডো, বিমান বাহিনী, নারী সমাজ, বৈদেশিক সমর্থন বিশেষ করে ভারতীয় জনসাধারণের সমর্থনের প্রতিবিম্ব যা এক কথায় বাংলাদেশের গণজাগরণের প্রতিচ্ছবি।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, যুদ্ধদিনের স্মৃতিগাথা

শেষ গ্যালারিটির নাম রাখা হয়েছে ‘আমাদের জয়, আমাদের মূল্যবোধ’। এতে আছে ফেনীর বিলোনিয়ার যুদ্ধের রেলস্টেশনের রেলিং, ট্রলি এসব। মিত্রবাহিনীর ছত্রীসেনাদের আক্রমণ। দগ্ধ বাড়ি-ঘরের নমুনা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর ক্ষয়-ক্ষতির রাষ্ট্রীয় দলিল, বিশ্বখ্যাত ন্যাশনাল জিওগ্রাফি পত্রিকার আলোকচিত্রী জিল ডুরাসের ক্যামেরায় ধর্ষিতা বাংলাদেশের প্রতীক এক রমণীর ছবি, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি ও তাদের যুদ্ধের বিবরণী ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পড়ে থাকা বুদ্ধিজীবীদের লাশের আলোকচিত্র। জাদুঘরের এই কক্ষে এসে দর্শক একাত্তরের পরম ত্যাগ ও বেদনার দংশন অনুভব করবে। স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে হারানো দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগের চিত্র এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।

এখানে আরও রাখা আছে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. ফজলে রাব্বির ব্যবহৃত গাড়িটি। যে গাড়িটি যুদ্ধদিনে প্রাণ বাঁচিয়েছিল অনেক মুক্তিসেনানীর। এই গ্যালারি শেষ হয়েছে ১৯৭২ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের অনুলিপিটি দিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের দুটি গ্যালারি এখনো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ওই গ্যালারি দুটিতে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকিস্তানি হানাদারদের ব্যবহৃত অস্ত্রের এক বিপুল প্রদর্শনী আছে বলে জানিয়েছেন জাদুঘরের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া হানাদারদের হত্যাযজ্ঞের সাক্ষ্য আছে ওই দুটি গ্যালারিতে। আছে মুক্তিযুদ্ধের আপামর জনসাধারণ ও বুদ্ধিজীবী, ভারতীয় বাহিনীর ব্যাপক অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের নিদর্শন। জাদুঘরটিতে মিরপুর মুসলিমবাজার ও জল্লাদখানা বধ্যভূমি থেকে উদ্ধার করা কঙ্কাল, শহীদদের ব্যবহৃত বস্তুসামগ্রী, পত্র, ডায়েরি , নোটবুকও রয়েছে।

আরও রয়েছে যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্বে আমাদের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর ব্যাপক অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের পরিচয়। এখানে আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার বাহিনীসহ পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র এবং তাদের কাপুরুষোচিত জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞের নিদর্শন। ১৯৯৯ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে মিরপুর ১২নং সেকশনের ডি ব্লকে নূরী মসজিদ সংলগ্ন মুসলিম বাজার বধ্যভূমির একটি পরিত্যক্ত কুয়া থেকে মাথার খুলিসহ পাঁচ শতাধিক হাড় উদ্ধার করা হয়। একই বছর মিরপুর ১০নং সেকশনের ডি ব্লকের ১নং এভিনিউতে জল্লাদখানা বধ্যভূমি থেকে ৭০টি মাথার খুলি এবং ৫৩৯২টি ছোট-বড় হাড় পাওয়াযায়। এসব হাড় এ গ্যালারিতে রাখা হবে। খুব তাড়াতাড়িই গ্যালারি দুটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের বেশিরভাগ স্মৃতিচিহ্ন দিয়েছেন শহীদদের স্ত্রী কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ। শহীদ ড. আলীম চৌধুরীর ব্যবহৃত কিছু সামগ্রী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে দান করেছেন তার স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। রোকাইয়া হাসিনা তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শহীদ রাশিদুল হাসানের ব্যবহৃত কলম সিল, স্যুট ও আলোকচিত্র জাদুঘরে জমা দেন। শহীদ ডাক্তার আতিকুর রহমানের মেয়ে মিমি রহমান তার বাবার ব্যবহৃত একটি কোর্ট ও একটি টুপি জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। এভাবে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সংগৃহীত উপকরণ নিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বর্তমানে প্রদর্শিত হচ্ছে তৎকালীন এশিয়া টুডে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, আনন্দবাজার, নিউজউইক, সংগ্রামী বাংলা, রণাঙ্গন, মুক্তিযুদ্ধ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও স্বাধীন বাংলাসহ বিভিন্ন দুর্লভ পত্রপত্রিকা ও পোস্টারের সংগ্রহ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ডা. সুলতান সালাহউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক উদ্ভাবিত হ্যান্ডবিল ছাপানোর মেশিন, তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার ও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ নকশা— এক কথায় মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পূর্ণাঙ্গ বিবরণী সংরক্ষিত আছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন