বিজ্ঞাপন

ফোর্বসের শীর্ষ ১০ সম্পদশালী নারী

April 6, 2022 | 12:16 am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০২২ সালে দুই হাজার ৬৬৮ জনের ধনকুবেরের তালিকা প্রকাশ করেছে বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস। এদের মধ্যে ৩২৭ জন নারী। যা গত বছরের তুলনায় এক জন কম। এই ৩২৭ নারী ধনকুবেরের মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১.৫৬ ট্রিলিয়ন যা গত বছরের চেয়ে সামান্য বেড়েছে। ২০২১ সালে এর পরিমাণ ছিল ১.৫৩ ট্রিলিয়ন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ২০২২ সালে বিশ্বের শীর্ষ সম্পদশালী ৩২৭ নারীর মধ্যে প্রথম তিনজনসহ ২২৬ জন উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদের মালিকানা পেয়েছেন। নতুন করে তালিকায় ঢোকা চেকিয়া রেনাটা এবং তার তিন সন্তানও ২০২১ সালের মার্চে তার স্বামী পিটার কেলনারের মৃত্যুর পর ধনকুবের হয়েছেন।

তালিকার বাকি ১০১ জন নারী নিজ চেষ্টায় বিলিয়নিয়ার হয়েছেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনে তাদেরকে সেলফ-মেড অর্থাৎ তারা নিজেরা একা বা অন্যের সঙ্গে শেয়ারে কোন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

নতুন করে এ বছরের তালিকায় এসেছে পপ তারকা থেকে মেকআপ মুগল হওয়া রিহানার নাম। বার্বাডোসের প্রথম নাগরিক হিসেবে তিনি এই তালিকায় এলেন। এছাড়াও আছেন ৩৪ বছর বয়সী ডিজাইন স্টার্টআপ ক্যানভা'র উদ্যোক্তা মেলিনা পার্কিনস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস যিনি ২০২১ সালের মাঝামাঝি বিল গেটসের সঙ্গে ডিভোর্সের পর এই তালিকায় এসেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ৯০ জন নারী ধনকুবের। এরপর চায়নায় ৬৩, হংকংয়ে ১১ এবং জার্মানিতে ৩৫ জন।

বিজ্ঞাপন

তালিকার ১০ নারী

১. ফ্র্যাঙ্কোইস বেটেনকোর্ট মেয়ারস

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী নারী ল'রিয়েলের চেয়ারপারসন ফ্র্যাঙ্কোইসের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৪.৮ বিলিয়ন ডলার। ফরাসী ফ্র্যাঙ্কোইস টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা ধনী নারী হলেন। তার নানার হাতে প্রতিষ্ঠিত এই ফ্রেন্স বিউটি ব্র্যান্ড এর আগে তার মা লিলিয়েন বেটেনকোর্ট চালাতেন। লিলিয়েনের হাত ধরেই ২০১৮ সালে প্রথমবারের মত বিলিয়নিয়ারের তালিকায় এসেছিল ল'রিয়েল।

২. এলিস ওয়ালটন

বিজ্ঞাপন

ওয়ালটনের মালিক মার্কিন নাগরিক এলিসের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৫.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওয়ালটনের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের মেয়ে এলিস এর আগে ২০২০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী ছিলেন। ২০২১ সালে বেটেনকোর্ট মেয়ার্সের কাছে জায়গা হারান তিনি।

৩. জুলিয়া কচ

ডেভিড এইচ কচ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মার্কিন নাগরিক জুলিয়া কচের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৪.৮ বিলিয়ন ডলার। রক্ষণশীলদের বড় পৃষ্ঠপোষক এবং মানবসেবী ডেভিড কচের মৃত্যুর পর জুলিয়া কচ ও তার সন্তানরা কচ ইন্ড্রাস্টিসের ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা পেয়েছেন। এই ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আরও ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিক ডেভিডের বড় ভাই চার্লস কচ এবং তিনিই বর্তমানে কচ ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

৪. ম্যাকেনজি স্কট

মার্কিন নাগরিক ম্যাকেঞ্জির সম্পদের পরিমাণ ৪৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯ অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর তিনি এই সম্পদের মালিক হন। মালিকানা পাওয়ার পর দুই বছরের মধ্যে ১২৫০ টি প্রতিষ্ঠানে ১২.৫ বিলিয়ন ডলার দান করে বিশ্বের অন্যতম সেরা দাতার তালিকায় আছেন ম্যাকেঞ্জি স্কট।

৫. জ্যাকুলিন মার্স

ক্যান্ডি ও পশুখাদ্য উৎপাদক মার্কিন নাগরিক জ্যাকুলিন মার্সের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্স ইনকর্পোরেটের এক তৃতীয়াংশ সম্পদের মালিক জ্যাকুলিন মার্স। মার্স ইনকর্পোরেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে বিশ্বখ্যাত চকলেট ব্র্যান্ড এমঅ্যান্ডএম, আইএএমএস ও পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পেডিগ্রি। ১৯১১ সালে জ্যাকুলিনের দাদা ফ্র্যাঙ্ক সি. মার্স এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

৬. জিনা রাইনহার্ট

মোট সম্পদ ৩০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক জিনা সেদেশের খনন ও কৃষিকাজে যুক্ত প্রতিষ্ঠান হ্যানকক প্রোস্পেক্টিং গ্রুপের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯২ সালে তার বাবা ল্যাং হ্যানকক এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

৭. মিরিয়াম অ্যাডেলসন

২৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক মিরিয়াম মার্কিন নাগরিক। ২০২১ সালে তার স্বামী রিপাবলিকান কিংমেকার ও ক্যাসিনো ম্যাগনেট শেলডন অ্যাডেলসনের মৃত্যুর পর মিরিয়াম ওই প্রতিষ্ঠানের পঞ্চাশ শতাংশ শেয়ারের মালিক হন।

৮. সুজান ক্ল্যাটেন

জার্মান নাগরিক সুজানের মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জার্মান গাড়ি তৈরির প্রতিষ্ঠান বিএমডাব্লিউএর ১৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক সুজান তার মা জোয়ানা কোয়ান্ডট ও বাবা হার্বার্ট কোয়ান্ডটের কাছ থেকে এই সম্পদ লাভ করেছেন। এছাড়াও ক্ল্যাটেন কেমিকেল কোম্পানি অলটানার মালিক।

৯. আইরিস ফন্টবোনা

চিলির নাগরিক আইরিসের মোট সম্পদের পরিমাণ ২২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। খননকাজ ও পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান চিলির বিজনেস ম্যাগনেট অ্যান্ড্রোনিকোর লুকসিকের মৃত্যুর পর তিনি এই সম্পদের মালিক হয়েছেন।

১০. অ্যাবিগেইল জনসন

মার্কিন নাগরিক অ্যাবিগেইলের মোট সম্পদের পরিমাণ ২১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৪ সালে বাবা নেড জনসনের উত্তরাধিকারী হয়ে ফিডালিটি ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মার্চে তার বাবা মারা যাওয়ার পর অ্যাবিগেইল ওই প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ২৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক হন। ওই প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সারাবাংলা/আরএফ/একেএম

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন