বিজ্ঞাপন

বলিখেলা-বৈশাখী মেলা আয়োজনের চেষ্টায় মেয়র রেজাউল

April 15, 2022 | 3:46 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের আব্দুল জব্বারের বলিখেলা ও বৈশাখী মেলা আয়োজনে এগিয়ে এসেছেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। শত বছর ধরে বলিখেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে। কিন্তু সংস্কার হওয়া লালদিঘী মাঠ খুলে না দেওয়ায় এবার আয়োজকরা বলিখেলা ও বৈশাখী মেলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পর ঐতিহাসিক এই আয়োজন অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন মেয়র।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী নিজ বাসভবনে জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও মেলা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারীসহ আয়োজকদের কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে বলিখেলা ও মেলা আয়োজনে একমত হন মেয়র এবং আয়োজকরা।

প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে— ঐতিহ্য অনুযায়ী ১২ বৈশাখ অর্থাৎ ২৬ এপ্রিলই বলিখেলা অনুষ্ঠিত হবে। মাঠ বন্ধ থাকায় নগরীর লালদিঘীর পাড়ে জেলা পরিষদ চত্বরে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে বলিখেলা হবে। তবে রমজানের কারণে এবার বিকেলের পরিবর্তে রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করে বলিখেলা অনুষ্ঠিত হবে। বলিখেলাকে কেন্দ্র করে ২৫ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনদিন বৈশাখী মেলা হবে।

বিজ্ঞাপন

তবে সার্বিক আয়োজন নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের মতামত প্রয়োজন বিধায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ওই বৈঠকে হয়নি।

জানতে চাইলে কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী সারাবাংলাকে বলেন, ‘মেয়র মহোদয় বলেছেন, বলিখেলা এবং বৈশাখী মেলা বন্ধ করা কোনোভাবেই সঠিক হবে না। সার্বিক আয়োজন করপোরেশনের পক্ষ থেকে স্পন্সর করার প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন। বলিখেলা ও মেলার পুরোটাই এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় হবে। জেলা পরিষদ চত্বরে রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থার করে খেলা হবে। বৈশাখী মেলা অন্যান্য বছরের মতো তিনদিন চলবে। এরপর আগামীবছর থেকে যথারীতি লালদিঘীর মাঠে বলিখেলা হবে। এটা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, শনিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় আয়োজক কমিটি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেয়রের বৈঠক হবে। সেখানে বলিখেলা ও মেলার আয়োজন নিয়ে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে আদৌ বলিখেলা ও মেলা করা যাবে কি না।

ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি যুব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর কুস্তির প্রবর্তন করেছিলেন যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘বলিখেলা’ নামে পরিচিত। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সনের ১২ বৈশাখ নিজ নামে লালদীঘির মাঠে এই বলিখেলার সূচনা করেন তিনি। সূচনার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর লালদীঘির মাঠে ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয় বলিখেলা। বলিখেলার একদিন আগে-পরে তিনদিন ধরে লালদিঘীর পাড়সহ আশপাশের এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে বসে মেলা। এ মেলায় গৃহস্থালী পণ্য থেকে শুরু করে নানা পণ্যের পসরা বসে।

বিজ্ঞাপন

করোনার সংক্রমণের কারণে গত দুই বছর বলিখেলা ও মেলা হতে পারেনি। এবার মেলার ১১৩ তম আসর হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বলিখেলার ভেন্যু লালদিঘী মাঠ বন্ধ অবস্থায় আছে। লালদিঘীর মাঠ সংস্কার করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা ঘোষণার ইতিহাসের আলোকে স্থায়ী মঞ্চ, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ আরও কিছু স্থাপনা তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকায় মাঠটি এখনও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়নি।

এ অবস্থায় গত বুধবার (১৩ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন করে জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও মেলা কমিটি বলিখেলা ও মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বক্তব্য-বিবৃতির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

ওইদিন রাতে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী চট্টগ্রাম নগরীর স্টেডিয়াম সংলগ্ন রোদেলা বিকেল রেস্তোঁরায় একুশে টেলিভিশনে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে এলে সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, হাসান ফেরদৌসসহ কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা মেয়রকে জব্বারের বলিখেলা ও বৈশাখী মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন