বিজ্ঞাপন

রেকর্ড ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তাবনা

April 17, 2022 | 11:18 pm

গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য প্রাথমিকভাবে ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। আকারের দিক থেকে এটি দেশের বৃহত্তম বাজেট, যা চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ১২ ৮৮ শতাংশ বেশি। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৭ এপ্রিল) ‘বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সভায় আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠকে সভাপতিত্বে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার আসন্ন এই বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রাক্কলন করা ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকার এই বাজেট মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’র ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন বাজেট চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৭৪ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞাপন

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত আগামী বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। ফলে আগামী বাজেটে মোট আয় বাড়ছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ মোট জিডিপি‘র সাড়ে ৫ শতাংশ। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। সে হিসাবে বাজেট ঘাটতি বাড়ছে ৩০ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা।

রীতি অনুযায়ী আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২২-২৩ অর্থবছরের এই বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫২তম এবং বর্তমান সরকারের টানা ১৪তম বাজেট। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের জন্য এটি হবে চতুর্থ বাজেট।

বিজ্ঞাপন

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক্কলিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে আগামী অর্থবছরের প্রাক্কলিত মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হয়েছে।

এদিকে, আগামী অর্থবছরের মোট আয়ের মধ্যে এনবিআরকে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি জিডিপির প্রায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছর এনবিআরকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া আছে। সে হিসেবে এনবিআরের জন্য আগামী অর্থবছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও আগামী বাজেটে মোট আয়ের মধ্যে এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে থেকে আয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। কর বহির্ভূত রাজস্ব ধরা হয়েছে  ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে, আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৪৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার এডিপির প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা রয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরের জিডিপির আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৪ লাখ ১৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন