বিজ্ঞাপন

মুসল্লি সেজে ইদ জামাতে, নামাজ শেষে শুরু ‘মোবাইল চুরি’

May 9, 2022 | 3:51 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ইদুল ফিতরের জামাত থেকে চুরি করা ১৩টি মোবাইলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মুসল্লি বেশে ইদ জামাতে গিয়ে তারা ইদের নামাজও আদায় করেন। বের হওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে মুসল্লিদের পকেট থেকে মোবাইল হাতিয়ে নেয়।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৮ মে) রাতে নগরীর কোতোয়ালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার তিনজন হলেন মারুফ হাসান (৩৬), মনছুর আলম (৪৪) ও মো. ইসমাইল নিলয় (২৭)।

বিজ্ঞাপন

অভিযানে অংশ নেওয়া কোতোয়ালী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) অনুপ বিশ্বাস সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, ইদ জামাত থেকে ছয়জন মুসল্লির মোবাইল চুরির লিখিত অভিযোগ পেয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। রিয়াজউদ্দিন বাজার, স্টেশন রোডের মোবাইল কেনাবেচায় জড়িত মারুফকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর নন্দনকানন পুলিশ প্লাজা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

মারুফের কাছ থেকে চারটি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এরপর স্টেশন রোড থেকে ইসমাইল ও মনছুরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে নয়টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ১৩টি মোবাইলের সবগুলোই জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গনে ইদ জামাতে মুসল্লিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গত ৩ মে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে দুই দফা ইদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে। প্রতিবছরের মতো এবারও রাজনীতিক-জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ অনেক বিশিষ্টজন সেখানে ইদের নামাজ আদায় করেন।

জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে ইদুল ফিতরের নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি’র পাঞ্জাবির পকেট থেকে মোবাইল হাতিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অনেক মুসল্লিই মোবাইল খোয়া যাওয়ার অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এএসআই অনুপ বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রেফতার তিনজনসহ ১২ জনের একটি চক্র মোবাইল চুরির পরিকল্পনা নিয়েই মুসল্লির বেশে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে যায়। তারা সেখানে ইদের নামাজ আদায় করে। সাধারণত নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় ভিআইপিদের ঘিরে জটলা হয়। সেই ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা দিয়ে এই চোরচক্রের সদস্যরা পকেট থেকে মোবাইল নিয়ে নেয়। ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করেছি। ১৩টি মোবাইল উদ্ধার করলেও বাস্তবে চুরি হয়েছে আরও বেশি।’

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন