বিজ্ঞাপন

মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় যে সাজা পেলেন ডেসটিনির ৪৬ জন

May 12, 2022 | 4:40 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদ, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনসহ ৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। রায়ে তাদের বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১২ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালত সাত আসামির উপস্থিততে এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে ৪৬ আসামিকে মোট ২ হাজার তিনশ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন কারাগারে ছিলেন। রায় ঘোষণার আগে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আসামি হারুন-অর-রশিদ, দিদারুল আলম, জেসমিন আক্তার, জিয়াউল হক ও সাইফুল ইসলাম জামিনে থেকে আদালতে হাজির হন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- ডেসটিনি গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে কমিটি গঠনের নির্দেশ

রায়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদকে চার বছর কারাদণ্ড ও সাড়ে ৩ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডেসিটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনকে ১০ বছর কারাদণ্ড ও দেড় কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এমডি রফিকুল আমীনকে ১২ বছর কারাদণ্ড, ২০০ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ডেসটিনির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক, পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন ও সাঈদ-উর-রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও ১৮০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককে আরও আড়াই বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- মানিলন্ডারিং মামলায় ডেসটিনির রফিকুলের ১২ বছর জেল

আদালত সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনকে ৯ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ইরফান আহমেদ সানীকে দিয়েছেন ৯ বছরের কারাদণ্ড ও দেড়শ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড।

বিজ্ঞাপন

মিসেস ফারাহ দীবা, ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়বুর রহমান ও নেপাল চন্দ্র বিশ্বাসকে ৮ বছর করে কারাদণ্ড ও ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আনাদায়ে তাদের আরও দুই বছর করে কারাভোগ করতে হবে। অন্যদিকে জমশেদ আরা চৌধুরীকে ৮ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকেও আরও ২ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

রায়ে জাকির হোসেন, আজাদ রহমান, সুমন আলী খান ও আকবর হোসেন সুমনকে ৯ বছর কারাদণ্ড ও ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, শিরীন আকতার, মো. সাইদুল ইসলাম খান রুবেল, রফিকুল ইসলাম সরকার ও মজিবর রহমানকে ৮ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. দিদারুল আলমকে ৮ বছর কারাদণ্ড ও দেড় কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ড. এম হায়দারুজ্জামানকে ৬ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে ১০ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড।

রায়ে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনকে ৬ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আর এক বছর কারাভোগ করতে হবে। কাজী ফজলুল করিমকে দেওয়া হয়েছে ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার সাজা। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাগারে থাকতে হবে তাকে।

সফিকুল ইসলামকে সাত বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সিকদার কবিরুল ইসলাম, জিয়াউল হক মোল্লা ও ফিরোজ আলমকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ওমর ফারুককে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সুনীল বরুন কর্মকরকে ৮ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফরিদ আক্তারকে ৮ বছর কারাদণ্ড ও আড়াই কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে এস এম শহিদুজ্জামান চয়নকে ৮ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ কোটি টাকা জরিমানার সাজা দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও দুই বছর কারাভোগ করতে হবে। আব্দুর রহমান তপনকে সাত বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা না দিলে আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খানকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এস এম আহসানুল কবির বিপ্লব ও এএইচএম আতাউর রহমানকে ৮ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে জি এম গোলাম কিবরিয়া মিল্টনকে ৮ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও দুই বছর কারাগারে থাকতে হবে। আতিকুর রহমানকে সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খন্দকার বেনজীর আহমেদ, এ কে এম সফিউল্লাহ ও দেলোয়ার হোসেনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে কারাগারে থাকতে হবে।

মিসেস জেসমিন আক্তার মিলনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সফিকুল হককে দেওয়া হয়েছে সাত বছররের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানার সাজা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আর মোল্লা আল আমিনকে চার বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড সাজা দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাকে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে।

দিদারুল আলমের সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আদালত থেকে চলে যান। বাকি আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

সারাবাংলা/এআই/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন