বিজ্ঞাপন

পুষ্টিগুণে ভরপুর তালের শাঁস

May 14, 2022 | 12:13 pm

ঝর্ণা রায়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আর মাত্র কয়দিন পরেই বিদায় নিচ্ছে বৈশাখ। শুরু হবে জ্যৈষ্ঠ মাস। জ্যৈষ্ঠকে বলা হয় মধু মাস। জাতীয় ফল কাঁঠালের পাশাপাশি এই মাসে পাওয়া যায় আম, জাম, লিচু, তরমুজের মতো সব রসালো ফল। গ্রীষ্মের খরতাপে এসব ফল শুধু তৃষ্ণাই মেটায় না, রয়েছে নানান পুষ্টিগুণ। এমনই একটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল তালের শাঁস। গ্রামের পাশাপাশি রাজধানীতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই কচি তাল বা তালের শাঁস।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাঁচ বছর আগেও ঢাকার মানুষ এই কঁচি তাল চিনতো না। এখন প্রচুর মানুষ কেনে।

ফল হিসেবে তালের পরিচিতি রয়েছে। পাঁকা তালের পিঠা গ্রাম বাংলার সুস্বাদু ও জনপ্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে একটি। তবে এখন তা শহুরেদের কাছেও বেশ পরিচিত। পাকা তালের তৈরি পিঠাসহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি হয়, তেমনই কাঁচা তালও খেতে ভালো। তাই এটি এখন পেয়েছে ব্যবসায়িক পরিচিতি।

বিজ্ঞাপন

পুষ্টিগুণে ভরপুর তালের শাঁস

রাজধানীর অলিগলি ও প্রধান সড়কের আশপাশে ভ্যানে বিক্রি করতে দেখা যায় তালের শাঁস। রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় বারডেম নারী ও শিশু হাসপাতালের সামনে তালের শাঁস বিক্রি করেন মুনির হোসেন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন তিনি দুই ভ্যান অর্থাৎ কমপক্ষে ৩ থেকে ৪শ’ তাল বিক্রি করেন। প্রতিটি তালের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা করে রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অন্য ফল বিক্রির চেয়ে তালের শাসে লাভ বেশি। হাসপাতালের সামনে বলে বিক্রি একটু বেশিই হয়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবচেয়ে বেশি কাঁচা তাল পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাক ভরে কাঁচা তাল এসে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পৌঁছায়। এখান থেকে পাইকারি দরে কিনে নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

পুষ্টিগুণে ভরপুর তালের শাঁস

রাজধানীতে স্থান ভেদে তালের দাম নির্ধারিত হয়। যেমন ধানমণ্ডি এলাকায় তিন শাঁসের একটি কাঁচা তাল পাওয়া যাবে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একই তাল গুলিস্তান কিংবা মৌচাকে বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকা দামে। আবার হাসপাতালের সামনে প্রতি তালে দাম বেড়ে যায় আরও ১০ থেকে ২০ টাকা। দাম যা ই হোক না কেন, স্বাদে অতুলনীয়। জলে ভরপুর এই তালের শাঁস প্রচণ্ড গরমে শরীরকে শান্ত করে দেয়।

বিজ্ঞাপন

তালের শাঁস নিয়ে অনেককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছবি লেখা শেয়ার করতে দেখা গেছে। তানবীর সিদ্দিকী নামের একজন ছবি পোস্ট করেছেন, Summer delights. এই বছরের প্রথম তালের শাঁস। একদম কচি আর নরম। পরে কিন্তু শক্তগুলো খেতে হবে।

এর আগে গত জানুয়ারি মাসে একই ব্যক্তি ছবিসহ ফেসবুকে লিখেছিলেন, অসময়ে সময় হলো তার গরমের মজা তালের শাঁস। তখন কিনেছিও। কদিন থেকে দেখছিলাম তালের শাঁস বিক্রি হতে। অসময়ে এটা দেখে অবাকই হয়েছিলাম। আজ জানলাম আরও কিছুদিন পাওয়া যাবে। কেউ খেতে চাইলে বিজয়নগর মোড়ের সামনে বটতলায় চলে আসেন। রাত ১০টা পর্যন্ত উনি থাকেন।

পুষ্টিগুণে ভরপুর তালের শাঁস

সুমন পাটোয়ারি নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘গরমে দারুণ তৃষ্ণা মেটায় তালের শাঁস।’ নীলিমা রহমান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘ছোটবেলা এই সময় গ্রামে প্রচুর তালের শাঁস খেতাম, ঢাকায় এসে এটা ভুলেই গিয়েছিলাম। আজ বাচ্চাকে স্কুল থেকে ফেরার সময় কিনলাম।’

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ গ্রামের একটি তালের শাঁসের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশই জলীয় অংশ। ক্যালোরি থাকে ২৯ শতাংশ, শর্করা ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৩ মিলিগ্রাম, খনিজ থাকে ০ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি থাকে ৪ মিলিগ্রাম।

এ প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদ ডা. সালমা খান জানান, তীব্র গরমে শরীর ও পেট ঠাণ্ডা রাখে তালের শাঁস। তালের শাঁসে রয়েছে আয়োডিন, মিনারেলস, পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও ফসফরাস। বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে ভরপুর তালের শাঁস নানা রোগের দাওয়াই হিসেবেও কাজ করে।

সারাবাংলা/জেআর/এএম

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন