বিজ্ঞাপন

ঢাবি হল ছাত্রলীগ: নির্দেশনার কারণে আটকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি

May 15, 2022 | 8:28 pm

রাহাতুল ইসলাম রাফি, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দীর্ঘ পাঁচ বছর পর গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে নতুন কমিটি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এর পর প্রায় সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি ১৮টি হলের কোনো কমিটিই। এসব হলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা বলছেন, ‘উপর মহল’ তথা কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ চার নেতার নির্দেশনা না থাকায় কমিটি দিতে পারছেন না তারা।

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ চার নেতার অনুসারী বিভিন্ন হলের অন্তত আট জন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা হয় সারাবাংলার এই প্রতিবেদকের। এদের প্রত্যেকেই শীর্ষ চার নেতার ‘নির্দেশনা’র অপেক্ষায় আছেন বলে জানান। এদের কেউ কেউ হল কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ব্যাপারে পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। আবার অনেকেই বলছেন, যাচাই-বাছাই চলছে। তবে এদের কেউই গণমাধ্যমে নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ এক নেতা বলছেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। সুনির্দিষ্ট মাস কিংবা তারিখের ব্যাপারে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল কমিটি হয়েছিল। পরে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সনজিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসেন। একই সময়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী। নানা অভিযোগে ২০১৯ সালের শেষে রেজওয়ানুল ও রাব্বানী ছাত্রলীগের পদ হারালে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব পান আল নাহিয়ান ও লেখক ভট্টাচার্য। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তাঁদের ‘ভারমুক্ত’ করা হয়।

আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য পূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর আরও দুই বছর সময় সময় পেরিয়ে গেলে গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে হলগুলোতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে রাজনীতি করছেন এমন অনেকেরই হল ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়তা দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছরের। হলগুলোতে দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় জটেরও সৃষ্টি হয়েছে। বছর বছর সেশনভিত্তিক কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও হল কমিটির গঠনতান্ত্রিক আকার অপরিবর্তিত থাকায় ‘মূল্যায়িত’ না হওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন হলের কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মী সারবাংলাকে বলেন, ‘আমি তৃতীয় বর্ষে পড়ি। আমার সেশন ২০১৮-১৯। সেই হিসাবে আমি ছাত্রলীগের সঙ্গে আছি প্রায় সাড়ে চার বছর। শ্রম দিয়েছি, প্রোগ্রাম করেছি। কিন্তু আমার আগে পদপ্রত্যাশী এবং ছাত্রলীগের জন্য পরিশ্রম করা আরও অন্তত তিনটি ব্যাচের অনেকেই আছেন। এখন কমিটি করার ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে কি না— সেটাই প্রশ্ন! অনেকগুলো ব্যাচ একসঙ্গে হয়ে গেছে। কমিটির আকার অনুযায়ী উপযুক্ত মূল্যায়ন অনেকেই পাবেন না।’

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের এক ছাত্রলীগ কর্মী সারাবাংলাকে বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে ছাত্রলীগের সঙ্গে আছি। নেতার পর নেতা পরিবর্তন হয়েছে। কখনো কেন্দ্রীয়, কখনোবা হল ক্যান্ডিডেট চেঞ্জ হয়েছে। বিভিন্ন হিসাব থেকে অনেক কর্মী বেড়ে গেছে। সেক্ষেত্রে শঙ্কার জায়গা তো আছেই।’

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের অনুসারী একটি হলের সভাপতি সারাবাংলাকে বলেন, ‘যারা আমার সঙ্গে রাজনীতি করে, তাদের তো আমি অনেকদিন ধরেই চিনি। নতুন করে চেনার কিছু নেই। আমরা যেটার জন্য অপেক্ষা করছি, সেটা হলো নির্দেশনা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নির্দেশনা দিলেই যেকোনো সময় কমিটি দিয়ে দেওয়া সম্ভব।’

সক্রিয় কর্মীসংখ্যার সঙ্গে কমিটির আকারের সমন্বয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, ‘যাচাই করার উপায় থাকলেও সময় কম। আমি যে বিষয়টি করব— যারা হলে পদ প্রত্যাশা করে, তাদের অবশ্যই নিজ এলাকার আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কারোর মাধ্যমে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে আমি বুঝতে পারব, কে আসলে মন থেকে ছাত্রলীগ করে কিংবা কে অনুপ্রবেশকারী। সামনের বছর নির্বাচন। সুতরাং সবদিক বিবেচনা করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী একটি হলের সাধারণ সম্পাদক সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা পেলেই আমরা কমিটি ঘোষণা করে দেব।’ এ সময় চলতি মাসেই কমিটি হওয়ার সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই নেতা বলেন, ‘আমাদের অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়াই আছে। এখন আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়ার অপেক্ষায়। নির্দেশনা পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই কমিটি করা সম্ভব।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী একটি হলের সভাপতি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। পেলেই দিয়ে দিতে পারব। কবে নাগাদ কমিটি হতে পারে, সে বিষয়ে শীর্ষ নেতারাই ভালো বলতে পারবেন। সুনির্দিষ্ট মাস বা তারিখ বলতে পারছি না।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুসারী একটি হলের সাধারণ সম্পাদক সারাবাংলাকে বলেন, ‘সত্যি বলতে এখনও পর্যন্ত আমাদের কোনো ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়নি। হলের সভাপতি ও আমি নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নিচ্ছি সব। এ ছাড়া সবার কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ব্যাপার বলেও একটি বিষয় আছে। ভিন্ন রাজনীতির কেউ যেন কমিটিতে স্থান না পায়, সেগুলো নিয়ে শেষ মুহূর্তের কাজ আছে।’ চলতি মাসেই কমিটি করার সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন করলে ‘আমি বলতে পারছি না’ বলে মন্তব্য করেন এই নেতা।

হল কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘হল কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ব্যাপারে অনানুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাজকর্ম চলছে। প্রত্যেক হলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’ চলতি মাসেই কমিটি হওয়ার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি। সাদ্দাম বলেন, ‘সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই আমরা জানিয়ে দেব। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হবে, এর মধ্যেই কমিটি হয়ে যাবে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউই কল রিসিভ করেননি।

সারাবাংলা/আরআইআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন