বিজ্ঞাপন

ইসির কাছে মহিলা পরিষদের ১৭ দাবি

May 16, 2022 | 10:59 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সংখ্যালঘু, আদিবাসী, প্রান্তিক গোষ্ঠীর নারীসহ সব জনগণের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বানসহ ১৭ দফা দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যায় জাতীয় মহিলা পরিষদ। এ সময় তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিনিধিদলকে আশস্ত করেন যে, সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের কমিটি সমূহে ৩৩ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তিনি দেখবেন। এ ছাড়া নির্বাচন পূর্ববর্তীকালীন ও পরবর্তী সময়ে প্রান্তিক নারীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ সময় আরেক নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার (১৬ মে) সকালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি দল নির্বাচন কমিশনে যান। সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সহ-সভাপতি ডা. মাখদুমা নার্গিস, সহ-সভাপতি রেখা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, এবং এ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামী।

বিজ্ঞাপন

এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্র মনিটরিং এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রান্তিক নারীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিসহ আরও কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়।

মহিলা পরিষদের ১৭ দফা দাবি—
১. নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
২. নির্বাচনে যাতে অধিক সংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করতে পারে সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।
৩. রাজনৈতিক দলগুলো থেকে যেন অধিক সংখ্যক নারীদের মনোনয়ন দেওয়া হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে এবং জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ২০০৮ এর বাস্তবায়নে অগ্রগতি মনিটরিং করতে হবে।
৪. নির্বাচনে সাধারণ, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক নারীরা যেন অবাধে নিজের মতামতের ভিত্তিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে বুথের সংখ্যা বাড়িয়ে হলেও কেন্দ্রের পরিবেশ নারীবান্ধব করতে হবে।
৫. বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৬. নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে প্রার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে এবং লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৭. কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
৮. নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মকে যেন কোনভাবেই ব্যবহার করা না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
৯. প্রার্থীদের দাখিলকৃত তথ্যাদি নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১০. মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী, নারী উন্নয়ন-বিরোধী, সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী ও সমাজ-বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, দুর্নীতিবাজ প্রার্থী যাতে কোনভাবেই মনোনয়ন না পায় সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ প্রহণ করতে হবে।
১১. নারী নির্যাতনকারী ও নারীর মানবাধিকার লংঘনকারী ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
১২. নির্বাচনকালীন সময়ে নারী ভোটারগণ যাতে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে জন্য বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
১৩. নির্বাচনের পূর্বে, নির্বাচনকালীন এবং পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।
১৪. ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নির্বাচনকালীন সময়ে সেই সকল এলাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১৫. স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে যাতে পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতিফলন না ঘটে সে দিকে লক্ষ্যে রাখতে হবে।
১৬. সকল রাজনৈতিক দলের সকল কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব বিষয়ক গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ২০০৮ এর ৯০ নং ধারাটি সংশোধিত অধ্যাদেশেও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
১৭. ইভিএম-এ ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষত নারী ভোটারদের ইভিএম ব্যবহার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরএফ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন