বিজ্ঞাপন

শ্রীলংকায় পেট্রোলের মজুত শেষ!

May 17, 2022 | 10:14 am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত শ্রীলংকায় পেট্রোলের মজুত শেষ হয়ে এসেছে। দেশটির নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে জানিয়েছেন, আর মাত্র একদিন চলার মতো পেট্রোলের মজুত রয়েছে দেশটিতে। এ অবস্থায় ভারত থেকে পেট্রোল আমদানির আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিবিসির খবরে বলা হয়, গত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটকাল পার করছে শ্রীলংকা। দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে বহুগুনে। এর মধ্যে করহার কমিয়ে দেওয়ার ‘জনতুষ্টিবাদী’ সিদ্ধান্তে রাজস্ব কমে গেছে। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায় আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির কারণে ওষুধসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

রাজধানী কলম্বোতে চলাচলের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যানবাহন হলো অটোরিকশা। সোমবার কলম্বোর পেট্রোল পাম্পগুলোতে এসব অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতিতে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে টিভিতে দেওয়া এক ভাষণে বলেছেন, পেট্রোলের যে মজুত রয়েছে তাতে আর মাত্র একদিন চলবে। আগামী কয়েক মাসে আমাদের কঠিন সময় পার করতে হবে। আগামী কয়েকদিন ভারত থেকে ঋণের আওতায় পেট্রোল ও ডিজেল আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।

চলমান পরিস্থিতিতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জরুরি নিত্যপণ্য আমদানির জন্য ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন বলে জানান রনিল। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং অন্যান্য সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নতুন টাকা ছাপানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রনিল বলেন, ইচ্ছার বিরুদ্ধেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নতুন নোট ছাপানোর অনুমতি দিতে আমি বাধ্য হচ্ছি। কারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে। সরকারকে অন্যান্য ব্যয়ও করতে হবে। তবে এটিও আমাদের স্মরণে রাখতে হবে, নতুন নোট ছাপালে রুপির দামে অবনমন ঘটবে।

শ্রীলংকার রাষ্ট্রায়ত্ত শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সকেও বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবের কথাও জানিয়েছেন রনিল। ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত আগের এক বছরে এই প্রতিষ্ঠানটি ৪ হাজার ৫০০ কোটি শ্রীলংকান রুপি (১২ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার) আর্থিক লোকসানে ছিল। বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিলে সেটি চলমান আর্থিক দুরবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে মনে করছে রনিলের নেতৃত্বাধীন সরকার।

বিজ্ঞাপন

গত কয়েক মাস ধরেই শ্রীলংকা অর্থনৈতিকভাবে এমন বেহাল দশা পার করছে। নিত্যপণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে দেশটির জনগণ। বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ অবস্থায় দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সদ্যই শপথ নিয়েছেন এর আগেও চার মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বর্ষীয়ান রাজনীতিক রনিল বিক্রমাসিংহে।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন