বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-ভারত রেল চলাচল শুরু ২৯ মে

May 18, 2022 | 3:12 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাসের কারণে দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ২৯ মে ফের বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেল চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের পাশাপাশি উদ্বোধন হয়ে থাকা মিতালী এক্সপ্রেসও নতুন করে চালু হতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র বলছে, ২৯ মে ঢাকা থেকে কলকাতা ছেড়ে যাবে মৈত্রী এক্সপ্রেস। একই দিনে কলকাতা থেকে খুলনা ছেড়ে আসবে বন্ধন এক্সপ্রেস। আর ১ জুন নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকা ছেড়ে আসবে মিতালী এক্সপ্রেস।

রেলের সূত্রানুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল ফের চালুর জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারত সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৭ মে) সেই চিঠির জবাব দিয়েছে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে। সেখানে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ট্রেন চলাচলে যে পরামর্শ দিয়েছিল সরকার, সেই পরামর্শে অনুযায়ীই চিঠির জবাব দিয়েছে ভারতের রেলওয়ে। সেই চিঠির একটি কপি বুধবার (১৮ মে) সারাবাংলার এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৯ মে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থেকে আগের সিডিউল অনুযায়ীই কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে মৈত্রী এক্সপ্রেস। আবার কলকাতা থেকে খুলনা ছেড়ে আসবে বন্ধন। অন্যদিকে, উদ্বোধনের পর প্রথমবারের মতো ১ জুন যাত্রী নিয়ে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে মিতালী এক্সপ্রেস। জানা যায়, ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্রানুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দুই দেশের মধ্যে চালু করা তৃতীয় ট্রেন ‘মিতালী এক্সপ্রেস’। ঢাকা- জলপাইগুড়ি পথে চলাচলের উদ্দেশে ২০২১ সালের ২৭ মার্চ এই ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়। এটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে গিয়ে ভারতের শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়িতে গিয়ে থামবে। মিতালী উদ্বোধনের পর এবারই যাত্রী পরিবহন করতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’। ওই যাত্রার উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী। দীর্ঘ ৪৩ বছর পর দুই দেশের মধ্যে এ ট্রেন যাত্রার সূচনা হয়েছিল।

ঢাকা-কলকাতা পথে সপ্তাহে মৈত্রী এক্সপ্রেসের দশ ট্রিপ আসা-যাওয়া করতো। সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত মৈত্রী ঢাকা থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ছেড়ে যায়। শুক্রবার/শনিবার, রবিবার/সোমবার এবং মঙ্গলবার/বুধবার ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। আর কলকাতা থেকে শুক্র/শনি, মঙ্গল/বুধবার ছেড়ে আসে ঢাকার উদ্দেশে। ঢাকা-কলকাতা এসি কেবিনের ভাড়া প্রতি সিট ভ্রমণ কর ৫০০ টাকাসহ ৩৫০৫ টাকা। আর এসি চেয়ার ভ্রমণ করসহ ২৫০৫ টাকা। ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৫০ শতাংশ ছাড় প্রযোজ্য হবে। তবে তা নির্ধারিত হবে পাসপোর্ট অনুযায়ী।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা পথে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ চলাচলের সূচনা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এই ট্রেন সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। প্রাথমিকভাবে একদিন করে চালু হলেও পরে বাড়ানো হয় উভয় ট্রেনের ট্রিপ। এটি প্রথম দিকে বাংলাদেশের খুলনা থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার ছেড়ে যেত। সেটি আবার কলকাতা যাত্রা শুরু করে পেট্রাপোল, বেনাপোল, যশোর হয়ে খুলনা পৌঁছায়।

এছাড়া মিতালী চালু হলে সপ্তাহে দুই দিন চলবে। রবি ও বুধবার নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ছেড়ে আসবে ঢাকাতে আর ঢাকা থেকে সোমবার ও বৃহস্পতিবার ছেড়ে যাবে এনজিপিতে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মহামারি করোনাভাইরাসের হানা শুরু হওয়ার সময়েই মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ২০২০ সালে ১৫ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর করোনার সংক্রমণ মাথায় নিয়ে উদ্বোধন হওয়া মিতালী যাত্রাই শুরু করতে পারেনি। সব মিলিয়ে টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ট্রেন চলাচল। করোনা সংক্রমণ কমে আসার পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ান রেলওয়েকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেখানে বাংলাদেশ রেল চলাচলের জন্য প্রস্তুত বলে জানানো হয়। ওই চিঠির জবাব গত ১৪ মার্চ পাঠায় ইন্ডিয়ান রেলওয়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই রেলগুলো ফের চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে স্বাধীনতা দিবসে চালুর কথা হয়, পরে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ চালুর দিন ঠিক করা হলেও ভিসা জটিলতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। যা আগামী ২৯ মে চালু হচ্ছে।

সারাবাংলা/জেআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন