বিজ্ঞাপন

মেনন-ইনু এখন কার খালু— সিপিবি সভাপতির প্রশ্ন

May 20, 2022 | 9:29 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দুই দশক আগে ১১ দলের জোট ভেঙে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভেড়া বামপন্থী দলগুলোর নেতাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহআলম। তিনি বলেছেন, ‘মেনন এখন কোথায়? মেনন এখন কার খালু? ইনু কার খালু?’

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২০ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে শাহআলম এসব কথা বলেন। সিপিবি, চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে প্রবীণ কমিউনিস্টদের সম্মাননা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিএনপি জাতীয় সরকারের নামে ছোট দলগুলোকে টোপ দিচ্ছে মন্তব্য করে শাহআলম বলেন, ‘বিএনপি এখন জাতীয় সরকারের কথা বলছে। এই জাতীয় সরকার কার জন্য, কীসের জন্য, কোন শ্রেণির জন্য? বিএনপি বলছে— যত ছোট দলই হোক, নির্বাচনে ভোট কম পাক, সংসদে আসন না থাকুক, জাতীয় সরকারে গেলে মন্ত্রীত্ব দেব। আমরা বলছি, আওয়ামী লীগ-বিএনপির গুঁতাগুঁতি সামলানোর জাতীয় সরকার আমরা চাই না। আমরা কোনো জাতীয় সরকার, উপজাতীয় সরকারের ফাঁদে পা দেব না।’

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগও একই টোপ দিয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যখন ১৪ দল গঠন করা হচ্ছিল, তখন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এসে বলেছিল, আসেন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, রাজপথে একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করি, একসঙ্গে নির্বাচন করি, একসঙ্গে সরকার গঠন করি। আমরা আওয়ামী লীগের ফাঁদে পা দিইনি। তখন ১১ দল ছিল। সেই জোট থেকে বেরিয়ে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভিড়ে গেল, ১৪ দল করল। পরে সেই ১৪ দল আর ১৪ দল থাকল না, ঢুকে গেল স্বৈরাচার এরশাদের দল জাতীয় পার্টি।’

১১ দল থেকে বেরিয়ে কেউ কেউ এমপি হলো। দিলীপ বড়ুয়া মন্ত্রী হলেন। ১৪ দল এখন কোথায়? মেনন এখন কোথায়? মেনন এখন কার খালু? ইনু এখন কার খালু? দিলীপ বড়ুয়া এখন কার খালু? অথচ আমরা (সিপিবি) আমাদের অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছি। মন্ত্রীত্বের টোপ দিচ্ছে বিএনপি। সেই ফাঁদে আমরা পা দেব না। আমরা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার রাজনীতিতে নেই, আমরা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার রাজনীতিতেও নেই। আমরা নিজেরাই এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চাই।’

বিজ্ঞাপন

শাহআলম আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত— এরা দেশের মাত্র পাঁচ ভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। লুটেরা, নব্য ধনী, মুক্তবাজার সিন্ডিকেট-এদের প্রতিনিধিত্ব করে এই দলগুলো। অথচ তারা পার্লামেন্ট দখল করে বসে আছে। আমরা কমিউনিস্টরা দেশের বাকি ৯৫ ভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করি। আমরা পার্লামেন্টে নেই। কিন্তু এই পাঁচ ভাগের প্রতিনিধিদের হটিয়ে এবার আমাদের পার্লামেন্টে যেতে হবে। মানুষের মুক্তির জন্য, দেশকে মুক্ত করার জন্য বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিতে হবে।’

একই অনুষ্ঠানে সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেন, ‘আওয়ামী লীগে থেকে যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় বিশ্বাস করে, তাদের বলতে চাই আওয়ামী লীগ আর আপনাদের দল নেই। বিএনপিতে যারা সাবেক ন্যাপ, জাসদ আছেন তাদের বলতে চাই, বিএনপি আর আপনাদের দল নেই। আপনারা যদি দেশকে ভালোবাসেন, তাহলে আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে নো বলুন। বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে হবে। সিপিবিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে নাকি সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর চেষ্টা চলছে। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সিপিবির নামটিও তিনি উচ্চারণ করেছেন। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, সিপিবি ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। সিপিবি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া দল। সিপিবি সবসময় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়িয়েছে। সিপিবি লুটেরাদের পাহারাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করছে। তবে এক লুটেরাদের পাহারাদারকে হটিয়ে আরেক লুটেরাদের পাহারাদারকে ক্ষমতায় আনার লড়াইয়ে সিপিবি নেই। আমরা বামশক্তিকে ক্ষমতায় নিতে চাই।’

চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য মৃণাল চৌধুরী এবং দক্ষিণ জেলার সভাপতি কানাইলাল দাশ।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে ৩৩ জন প্রবীণ কমিউনিস্টকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে আহসানউল্লাহ চৌধুরী, আব্দুল নবী, এস এম নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সিপিবির সংস্কৃতি শাখার আয়োজনে শিল্পীরা গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন।

এর আগে, শুক্রবার সকালে নগরীর হাজারী লেইনে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সিপিবির জেলা কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন