বিজ্ঞাপন

‘একই অঙ্গে অনেক রূপ’ নিয়ে মোটরসাইকেল চুরি

May 21, 2022 | 8:01 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মিনিট খানেকের মধ্যে মোটরসাইকেল চুরিতে পারদর্শী মিল্টন সরকার। তেমনি পারদর্শী পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গ্রেফতার এড়াতেও। এজন্য সে বার বার নিজের বেশভূষা পরিবর্তন করে। ৪৫ বছর বয়সী মিল্টন কখনও স্মার্ট তরুণের বেশ নেয়, কখনও ধর্মীয় পোশাকে নেয় নিজেকে রক্ষার কৌশল; যদিও সে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী।

বিজ্ঞাপন

আগের রাত থেকে শনিবার (২১ মে) সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরী এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রামে টানা অভিযান চালিয়ে মিল্টনসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নগরীর আকবর শাহ থানা পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের হেফাজত থেকে চুরি করা ছয়টি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া মিল্টনসহ দুই দলনেতা পাঁচ মাস আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আবার চুরির পেশায় ফিরে যায়। গত মাসে তাদের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম নগরীতে অন্তত ১০০ মোটরসাইকেল চুরির তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতার বাকি ৫ জন হলো- মেহেদী হাসান (২০), মামুন আলম (৩৪), জালাল উদ্দিন (২২),ইসমাইল হোসেন (২৮) এবং মহিন উদ্দিন সুমন (১৮)।

আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়ালী উদ্দিন আকবর সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত ২৬ এপ্রিল আকবর শাহ থানা এলাকা থেকে চুরি হওয়া একটি মোটর সাইকেলের খোঁজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সূত্রে এই চোর চক্রের সন্ধান পাই। এরপর আকবর শাহ থানার সিডিএ এলাকা থেকে মিল্টনকে গ্রেফতার করি। তার দেওয়া তথ্যে কুমিল্লা থেকে বাকি পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে আমরা মোট ছয়টি মোটরসাইকেল পেয়েছি, যেগুলো চট্টগ্রাম শহর থেকে চুরি করে কুমিল্লায় নিয়ে গিয়েছিল। ছয়জনের মধ্যে মিল্টন ও মেহেদী হচ্ছে দলনেতা। তাদের অধীনে বাকিরা কাজ করে।’

বিজ্ঞাপন

‘কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মেহেদী হাসানের নিজস্ব গ্যারেজ আছে। মোটরসাইকেল চুরি করে সেই গ্যারেজে নেওয়া হয়। নিজ গ্যারেজে রেখে গাড়ি রঙ, তেলের ট্যাঙ্কি পরিবর্তন করে এবং ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর ঘষামাজা করে মামুনকে দেয় বিক্রির জন্য’— বলেন ওসি ওয়ালী।

অভিযানে অংশ নেওয়া আকবর শাহ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অর্ণব বড়ুয়া সারাবাংলাকে জানান, মিল্টনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় ২২টি মামলা আছে। মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ১৩টি ও মামুনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা আছে। এর অধিকাংশই মোটরসাইকেল চুরির।

বিজ্ঞাপন

এসআই অর্ণব বড়ুয়া বলেন, ‘মিল্টন ও মেহেদী একাধিক মামলায় একইসঙ্গে আসামি। গত বছর মোটর সাইকেল চুরির এক মামলায় সিএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। গত জানুয়ারিতে দু’জনই জামিনে ছাড়া পায়। এরপর আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, গত চার মাসে তারা চট্টগ্রাম শহরে অন্তত ১০০ মোটরসাইকেল চুরি করেছে। চট্টগ্রাম শহর ছাড়া তারা অন্য কোথাও সেভাবে মোটরসাইকেল চুরি করে না। গ্রামগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরিতে বেশি সময় লাগে বিধায় তাদের এই কৌশল।’

মিল্টনের বিষয়ে এসআই অর্ণব বলেন, ‘মিল্টন একজন দুর্ধর্ষ চোর। সে খুব কৌশলী। গ্রেফতার হলে সে নিজের আসল নাম আড়াল করে। মামলার বিভিন্ন নথিপত্রে আমরা তার মিল্টন কুমার সাহা, মো. সোহেল- এ ধরনের আরও কয়েকটি নাম পেয়েছি। মোটরসাইকেল চুরি সংক্রান্তে কয়েকটি ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখেছি, সে বারবার নিজের বেশভূষা পরিবর্তন করে। কখনও মাথায় টুপি দিয়ে পাঞ্জাবি পরে মুসল্লির বেশ নেয়। কখনও তরুণ বয়সী সাজে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন