বিজ্ঞাপন

৪৮ হাজার শিক্ষকের টাইমস্কেল ফেরতের আবেদন আপিলেও খারিজ

May 23, 2022 | 5:10 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বেসরকারি থেকে জাতীয়করণ হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরতের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১১ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটকারী শিক্ষকদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এম আমিন উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম বলেন, সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য ৫৫ নম্বর তালিকায় ছিল। শুনানি শেষে আদালত শিক্ষকদের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। এই আদেশের ফলে শিক্ষকদের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে বলেও জানান মোকছেদুল ইসলাম।

এর আগে, গত ১১ এপ্রিল চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের আদালতে এ বিষয়ে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানি হয়। গতকাল রোববার (২২ মে) মামলাটি শুনানির জন্য তালিকার পেছনে থাকায় শুনানি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১৪ জুন আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৪৮ হাজার ৭২০ শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নিয়ে জারি করা রুল খারিজের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হয়। শিক্ষকদের পক্ষে আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম এ আবেদন করেন।

তারও আগে হাইকোর্ট গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের টাইম স্কেল সুবিধা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। এর ফলে বেসরকারি থেকে সরকারি (২০১৩-২০১৪ সালে) হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ‘টাইম স্কেল’ সুবিধা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের বৈধতা পেয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

তারও আগে গত ১৩ জানুয়ারি বেসরকারি থেকে সরকারি হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ‘টাইম স্কেল’-এর সুবিধা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছিল আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র নিয়ে এ রিট মামলাটি তিন সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ১২ আগস্ট বেসরকারি থেকে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ‘টাইম স্কেল’-এর সুবিধা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশের মাধ্যমে ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের ক্ষেত্রে টাইম স্কেল বাতিল করে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট পরিপত্র স্থগিত করে রুল জারি করে। অতঃপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। পরে স্থগিতাদেশ তুলে দিতে শিক্ষকরা আপিল বিভাগে আবেদন করে। আপিল বিভাগ তিন সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগকে রিট মামলাটি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন।

পরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আজ তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এসএসএ

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন