বিজ্ঞাপন

সাবেক এমপি হাবিবের জামিন আদেশ প্রত্যাহার

May 26, 2022 | 12:28 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় ১০ বছরের দণ্ডিত বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) হাবিবুল ইসলাম হাবিবের জামিন আদেশ প্রত্যাহার করেছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাশের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার (২৫ মে) এ আদেশ দেন। বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে দেওয়া জামিন আদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনালের এস এম মুনীর।

তিনি জানান, এ মামলায় ১০ বছরের দণ্ড হয়েছে হাবিবুল ইসলাম হাবিরের। আপিলেও দণ্ড বহাল রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে তার জামিন নেওয়া হয়েছিল। সেই জামিন করানোর বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ জানতে পারে নাই। পরে গত মঙ্গলবার (২৪ মে) এ বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার (২৫ মে) আদালতের নজরে আনার পর স্পেশাল কোর্ট (বিশেষ আদালত) বসিয়ে তার (হাবিবুল ইসলাম হাবিব) জামিন রিকল (জামিন আদেশ প্রত্যাহার) করা হয়েছে। এর ফলে তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি যে, গত ২৮ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের আগে আদালতের শেষ কর্মদিবস ছিল। এজন্য সেদিন আদালতে অত্যাধিক ভিড় ছিল। এই ভিড়ের মধ্যে এই জামিন আদেশটি করিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সে জন্য আমাদের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বিষয়টি বুঝতে পারে নাই। এরপর গত মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) খবর পেয়ে বুধবার (২৫ এপ্রিল) আদালতে মেনশন করে এই জামিন অর্ডার রিকল (জামিন আদেশ প্রত্যাহার) করা হয়েছে।

আসামি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বর্তমানে যশোর কারাগারে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে এবং বাকি ৪৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ুন কবীর।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০০২ সালে কলারোয়ার এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখে মাগুরায় যাচ্ছিলেন। কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহর পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র, বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা গুলিবর্ষণ করে এবং বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা প্রাণে রক্ষা পেলেও তার গাড়িবহরে থাকা সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী ফাতেমা জাহান সাথী, জোবায়দুল হক রাসেল, শেখ হাসিনার ক্যামেরাম্যান শহীদুল হক জীবনসহ অনেকেই আহত হন। বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও এ ঘটনায় আহত হন।

বিজ্ঞাপন

কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ মোসলেম উদ্দিন এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। থানা মামলাটি রেকর্ড না করায় একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর তিনি সাতক্ষীরার আমলি আদালতে মামলাটি করেন। এ মামলা খারিজ হয়ে যাবার পর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এ সময় তদন্ত করে পুলিশ তৎকালীন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়।

মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পর ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে কোয়াশমেন্ট করেন আসামিরা। এরপর গত বছরের ২২ অক্টোবর মামলাটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে ৯০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ করার জন্য সাতক্ষীরা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ৪ নভেম্বর মামলাটির বিচার কাজ নতুন করে শুরু হয়। এরপর ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ মামলায় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে এবং বাকি ৪৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন