বিজ্ঞাপন

সুপ্রিম কোর্টে তথ্য প্রদান ইউনিট চালুর নির্দেশনা চেয়ে রিট

May 26, 2022 | 3:12 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সুপ্রিম কোর্টে তথ্য প্রদান ইউনিট চালু এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ রিট দায়ের করেন। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি ওপর শুনানি হতে পারে।

এর আগে গত ৬ মে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

বিজ্ঞাপন

এতে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে তথ্য প্রদান ইউনিট চালু এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

রিটে বলা হয়েছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ সচেতন নাগরিক হিসেবে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতে বিধান করার লক্ষ্যে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ (২০০৯ সনের ২০ নং আইন) প্রণয়ন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

এতে আরও বলা হয়, আইনের ধারা-৩ মতে অন্যান্য প্রচলিত আইনের বিধানাবলির ওপর ওই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাবে। ওই আইনের ধারা-৪ মতে কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকবে এবং কোনো নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে।

আইনের ধারা ২(খ)(অ) এ প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুসারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এ আইনের আওতাধীন একটি কর্তৃপক্ষ। ওই আইনের ধারা ১০ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের জন্য প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রদান ইউনিটের জন্য একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করবে।

বিজ্ঞাপন

ওই আইনের বিধানের প্রতিপালনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইন প্রণয়নের এক যুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে এমন কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯ এর বিধান প্রতিপালনের জন্য অতিদ্রুত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে তথ্য প্রদান ইউনিট চালু এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা জরুরি বলে রিটে বলা হয়েছে।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন