বিজ্ঞাপন

প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তিতে ব্যাকফুটে দিন শেষ বাংলাদেশের

May 26, 2022 | 5:57 pm

স্পোর্টস ডেস্ক

মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা চলছে তখন। তবে স্কোরবোর্ডের দিকে তাকালে হুট করে মনে হতেই পারে এ যেন প্রথম দিনের ভুলে যেতে চাওয়া সকালটার চিত্র। ২৩ মে সকালে শুরু হওয়া শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম সেশনটা দুঃস্বপ্নের ছিল বাংলাদেশের জন্য। প্রথম ঘণ্টাতে মাত্র ২৪ রানে ৫ ব্যাটারকে হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলটাতেও সেই একই চিত্র। মাত্র ২৩ রান তুলতেই সাঁজঘরে ফিরতে হয়েছে টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটারকে। ১৩ ওভারে ৪ উইকেটে ৩৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ আর এতেই চতুর্থ দিন শেষ করেছে ১০৭ রানে পিছিয়ে থেকে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস মিলে রেকর্ড গড়া জুটি গড়েন। দুইজনই তুলে নেন সেঞ্চুরি। এতেই ২৪ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৩৬৫ রানের থামে। জবাবে লংকানরা প্রথম থেকেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করতে থাকে। সাকিব আল হাসানের ৫ আর ইবাদতের ৪ উইকেট নেওয়ার পরেও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও দীনেশ চান্দিমালের সেঞ্চুরিতে ৫০৬ রান তোলে শ্রীলংকা। আর লিড পায় ১৪১ রানের।

জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবারও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিংস্তম্ভ। দলীয় স্কোরবোর্ডে ১৫ রান যোগ হতেই সাঁজঘরে তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসের মতো রানের খাতা খুলতে পারেননি দ্বিতীয় ইনিংসেও। এরপর ১৯ রানের মাথায় নাজমুল হোসেন শান্ত (২) ফিরেছেন রানআউট হয়ে। পরের ওভারে অধিনায়ক মুমিনুল হক ফিরেছেন আবারোও সেই শূন্য রানে। পরের ওভারে আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ফিরেছেন ২৭ বলে ১৫ রান করে। এতেই ২৩ রানে ৪ উইকেট নেই বাংলাদেশের।

বিজ্ঞাপন

এরপর আবারও দলের হাল ধরেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম এবং লিটন দাস। মুশফিক ১৬ বলে ১৪ আর লিটন ১১ বলে ১ রান করে অপরাজিত আছেন। এতেই ১৩ ওভারে ৪ উইকেটে ৩৪ রানে দিন শেষ বাংলাদেশের। লংকানদের হয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন আসিথা ফার্নান্দো আর একটি উইকেট নিয়েছেন কাসুন রাজিথা।

প্রথম ওভারেই ফিরতে পারতেন জয়। তবে বেঁচে গেলেন ভাগ্যের জোরে। কাসুন রাজিথার করা ওভারের শেষ বলটি ছিল অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে। সুইং করে বেরিয়ে যাওয়া বল তাড়া করেন জয়। কিন্তু ব্যাটে লাগাতে পারেননি। বল যায় কিপারের গ্লাভসে। কিন্তু কিপার নিরোশান ডিকভেলা কিংবা শ্রীলংকার ফিল্ডাররা কেউই বোঝেননি ব্যাট ছুঁয়েছে বল। তাই কেউ আবেদনও করেননি। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, জয়ের ব্যাট স্পর্শ করেছে বল।

বিজ্ঞাপন

জয় বেঁচে গেলেও বেশিক্ষণ বাঁচতে পারেননি তামিম। আর এতেই টেস্ট ক্যারিয়ারে লজ্জার এক রেকর্ড গড়লেন এই টাইগার ওপেনার। প্রথমবারের মতো পেয়ারের স্বাদ পেলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ওপেনার। আসিথা ফার্নান্দোর বলটি অফ স্টাম্প লাইনে পড়ে কোনা করে বেরিয়ে যাচ্ছিল। রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলার চেষ্টা করেন তামিম। তার ব্যাটের বাইরের কানা নিয়ে বল যায় তৃতীয় স্লিপে। তিনবারের চেষ্টায় বল মুঠোয় জমাতে পারেন কুশল মেন্ডিস। প্রথমে বলে পড়ে তার বুকে, তাই কিছুটা ব্যথাও পান তিনি। প্রথম ইনিংস ৪ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি তামিম। এবার খেললেন ১১ বল।

তামিমকে হারিয়ে বাংলাদেশ তখন কিছুটা চাপে। এরপরেই চাপটা বাড়িয়ে দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আসিথা ফার্নান্দোর বল পয়েন্টে আলতো করে খেললেন শান্ত। ফিল্ডার খুব কাছেই থাকায় এখান থেকে রান নেওয়ার ঝুঁকি অনেক। সেই কাজটিই করলেন তিনি। দৌড় দিলেন রানের জন্য। শুরুতে কিছুটা রান নেবেন কি নেবেন না সেই দ্বিধায় খাপিয়েও শেষ পর্যন্ত দৌড় দেন তিনি। এক হাতে বল ধরে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থ্রো করে স্টাম্প ভেঙে দেন প্রাভিন জয়াভিক্রমা। সময়মতো দাগের ভেতরে ঢুকতে পারেননি শান্ত। ফেরেন ১১ বলে ২ রান করে।

বিজ্ঞাপন

১৯ রানে টপ অর্ডারের দুই ব্যাটারের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। তবে প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তিই দেখালেন টাইগার দলপতি। দলকে কঠিন বিপদে ঠেলে দিয়ে তিনিও ফিরলেন শূন্য রানে। কাসুন রাজিথার অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথ বল ড্রাইভ করেন মুমিনুল। ব্যাটের সামনে থেকে লাফিয়ে ওঠে বল জমা পড়ে কিপারের গ্লাভসে। জোরালো আবেদন করেন লংকান ফিল্ডাররা। আম্পায়ার তাতে সাড়া না দিলে রিভিউ নেন দিমুথ করুনারত্নে। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, মুমিনুলের ব্যাটে হালকা স্পর্শ করেছে বল। ২ বল খেলে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরলেন মুমিনুল। টেস্টে এ নিয়ে টানা ৭ ইনিংস দুই অংকে যেতে পারলেন না বাঁহাতি এই ব্যাটার।

এক ওভার পরের কথা, ইতোমধ্যেই দুইবার জীবন পেয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। দলকে কক্ষপথে ফেরাতে তার বড় ইনিংস খেলা ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই। তবে না তিনি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না।আসিথা ফার্নান্দোর বাউন্সারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন তিনিও।  ব্যাক অব লেংথ থেকে হুট করে লাফিয়ে ওঠা বলে হতবাক হয়ে যান জয়। বুকের উপরের বল ঠেকানোর চেষ্টায় পেতে দেন ব্যাট। কিন্তু ঠিকমতো খেলতে পারেননি। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে থাকা কুসল মেন্ডিসের হাতে। ৩ চারে ২৭ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন জয়। এতেই ২৩ রানেই বাংলাদেশ হারাল ৪ উইকেট। এরপর দিনের বাকি সময়টা প্রথম ইনিংসের দুই সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস মিলে পার করে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন