বিজ্ঞাপন

আফগানিস্তানে এবার মেয়েদের একা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

May 30, 2022 | 4:58 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এবার নারীদের ওপর আরও এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। নতুন জারি করা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এখন থেকে আফগান নারীরা পুরুষ অভিভাবক ছাড়া গণপরিবহনে উঠতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৯ মে) তালেবান সরকার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে তালেবান সরকার বলেছে, একা থাকলে কোনো মেয়ে গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারবে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি সংবাদ সংস্থা জুরিস্টের কাছে এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছেন কাবুলের এক আইনের ছাত্রী।

বিজ্ঞাপন

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানের আইনের শিক্ষার্থী ও আইনজীবীরা সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিতভাবে জুরিস্টের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ওই শিক্ষার্থী আফগান নারীদের অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর তালেবানের সবশেষ বিধিনিষেধের বিষয়ে অবহিত করেছেন। ছাত্রীটির নিরাপত্তার জন্য জুরিস্ট সংবাদদাতার নাম গোপন রেখেছে ও বক্তব্য কিছুটা সম্পাদনা করেছে।

ওই আফগান আইনের শিক্ষার্থী লিখেছেন, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি দিন একটু একটু করে দেশটির নাগরিকদের জীবন ও স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আফগান নারীদের অবস্থা সবার চেয়ে খারাপ। মেয়েদের স্কুল বন্ধ করা থেকে শুরু করে মেয়ে সাংবাদিক এবং টিভি উপস্থাপকদের নিকাব পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। আর আজ (২৯ মে) তালেবানরা আদেশ দিয়েছে, একা থাকলে কোনো মেয়ে গণপরিবহনে উঠতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, শনিবার (২৮ মে) তালেবানদের পাপ-পূণ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ বিষয়টির ঘোষণা দেন। তবে নারীদের চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ তালেবান সরকারের জন্য নতুন নয়। এর আগের এক আদেশে তারা বলেছিল, কোনো মেয়েকে দেশের ভেতরে বা বাইরে ভ্রমণ করতে হলে একজন মাহরাম সঙ্গে থাকতে হবে। মাহরাম হবেন একজন পুরুষ আত্মীয়, যার সঙ্গে ইসলাম ধর্মমতে বৈবাহিক সম্পর্কের সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি বেশ পরিষ্কার যে তালেবান কর্তৃপক্ষ নারীদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। জনসমক্ষে সবসময় তাদের মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্মের এমন কঠোর অনুশাসনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে তালেবানদের প্রথম লক্ষ্য হলো— দেশটির প্রান্তিক পর্যায়ের যোদ্ধা ও জনসাধারণকে ক্রমাগত মনে করিয়ে দেওয়া যে সাবেক আফগান প্রজাতন্ত্র তালেবানদের বিরুদ্ধে উসকানি দিতে ইসলাম সম্পর্কে যেসব কথা বলেছিল, এখন নতুন ইসলামি শাসনেও সেগুলোই প্রয়োগ করা হবে। এক্ষেত্রে নারী অধিকারকে চাপা দেওয়া এবং তাদের চলাচল সীমাবদ্ধ করা বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

তারা বলছেন, তালেবানদের দৃষ্টিতে নারীরা সাধারণত নৈতিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং পুরুষের জন্য যৌন প্রলোভনের পরীক্ষা হিসেবে নারীদের দেখা হয় বলে মনে করে তালেবান। দ্বিতীয়ত, নারীদের দুর্বল করার মাধ্যমে তাদের জিম্মি করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে এবং তাদের সঙ্গে যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে। তালেবানদের পিছু হটতে বাধ্য করতে পারে এমন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের টেবিলে যুক্তিসঙ্গত বা অন্তত ভীতিজনক বিকল্পের অভাব তাদের এ কাজে উৎহিত করে যাচ্ছে। এবং এখন তারা নিজেদের অবস্থান এতটাই শক্তিশালী ভাবছে যে ইচ্ছামতো মানবাধিকার লঙ্ঘন করতেও পিছুপা হচ্ছে না।

সারাবাংলা/আরএফ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন