বিজ্ঞাপন

‘বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে’

June 5, 2022 | 9:02 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাজার ব্যবস্থাপনায় ‘সরকারের বড় দুর্বলতা’ দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৫ জুন) সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২১-২২: তৃতীয় অন্তবর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি অফিসে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানটির আরও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলন।

অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাজারে সরকারের আরও বেশি নজরদারি প্রয়োজন। সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনায় একটি বড় দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। এটি শুধু চালের বাজারে নয়- তেল, ডলার, জ্বালানি তেল সব বাজার ব্যবস্থাপনায় এক ধরণের দুর্বলতা দেখছি। বাজার ব্যবস্থাপনায় যে চ্যালেঞ্জ যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ পর্যাপ্ত বলে মনে হচ্ছে না।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কিছুটা হলেও স্লথ। আমরা আমদানি করার মাধ্যমে বাজারটা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছি। এই মুহূর্তে বাজারে চালের যে সরবরাহ তাতে কিন্তু চালের দাম বাড়ার কথা নয়। চালের এত উচ্চ মূল্য হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিগত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চাল আমদানি হয়েছে। চালের আমদানিও বেশি হয়েছে, আর মজুদও ঠিক আছে। যদিও চালের ব্যবহার বাড়ছে, সরকারের সামজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সামস্টিক অর্থনীতিতে যে স্থিতিশীলতা ছিল, সেখানে এখন চির ধরেছে। সেই ভঙ্গুরতার জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করা দরকার। আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণ সরকারের মাধ্যমে পেট্রোলিয়া আমদানি। আমদানির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পণ্য। এখন বেশি আমদানি হচ্ছে না কিন্তু বেশি ব্যয়ে আমদানি করতে হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে ডলারের মূল্য ভূমিকা রাখছে।’

বিজ্ঞাপন

সিপিডির এই গবেষণা পরিচালক বলেন, ‘আমার মনে হয় এই মুহূর্তে ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমানো দরকার। দেশে ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রে প্রণোদনা থাকা কিংবা বাড়ানো প্রয়োজন। ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারদের মাধ্যমে যে ডলার কেনাবেচা হয় সেখানেও নজরদারি প্রয়োজন। কারা কিনছেন, কী দামে কিনছেন, কীভাবে বিক্রি হচ্ছে- এই পরিস্থিতি নজরদারি করা দরকার।’

বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত উপস্থাপনের সময় ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। জিডিপির হিসাবটিকে বাস্তব সম্মত করা প্রয়োজন। কারণ এর উপর ভিত্তি করে আমরা অনেক হিসাব করে থাকি। যত বেশি প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে করা হবে, ততই আমরা বাস্তবসম্মত ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে পারব। আমাদের জিডিপিমুখী প্রবণতা, জিডিপির প্রতি দুর্বলতা, কিন্তু সেটা না করে কীভাবে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সেটা বণ্টন করা প্রয়োজন। উন্নয়নটা অন্তভুর্ক্তিমূলক হলো কি না সেদিকেই নজর দেওয়া উচিত।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়ানোটাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কিছু কিছু খাতে। মূল্যস্ফীতির চাপ আছে, যা আন্তর্জাতিকভাবেই হচ্ছে। এখন যা হচ্ছে তা আমদানিকৃত মূল্যস্ফীতি। মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ দেওয়ার জন্য কিছু কিছু খাতে ভর্তুকি এবং প্রণোদনা দেওয়ার প্রয়োজন। নিত্যপ্রয়োজনীয় ২৯টি পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে করের প্রভাব অনেক বেশি, এই পণ্যগুলো আমদানিতে কর কমানো প্রয়োজন। আমদানি কর না বাড়িয়ে প্রত্যক্ষ অর্থাৎ আয় করে জোর দিতে হবে ‘

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের একটি সম্পর্ক আছে। তবে আমরা মনে হয় এটা বলা ঠিক হবে না যে, কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক বাজারের কারণেই মূল্য বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ কারণেও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। সরকারকে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও নজর দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইএইচটি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন