বিজ্ঞাপন

সীতাকুণ্ড চোখে আঙুল দিয়ে ব্যর্থতা দেখিয়ে দিয়েছে: সংসদে বাবলা

June 6, 2022 | 11:59 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখনো যোজন যোজন পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমরা যদি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের হাতে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র তুলে দিতে পারতাম, তাহলে শীতলপুরের ট্র্যাজেডির গল্পটা হয়তো ইতিবাচকভাবে বৈশ্বিক গণমাধ্যমে আসত। কিন্তু তা তো হলো না। আমি সরকারকে বলব, দেশের কল্যাণে যত প্রকল্প করার দরকার করুন। কিন্তু শীতলপুরের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় যোজন যোজন দূরে আমরা যে পিছিয়ে আছি, বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন আমাদের তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

সোমবার (৬ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি এ কথা বলেন। এসময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

সীতাকুণ্ডের ওই ডিপোর ভয়াবহ আগুন ও বিস্ফোরণের কথা তুলে ধরে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, এই দুর্ঘটনার পর অনেক প্রশ্ন সামনে আসছে। খবরের কাগজে, টেলিভিশনের পর্দায়, সোস্যাল মিডিয়ায় অনেকে অনেক প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তারাও বিভিন্ন কথা বলছি। সরকারের পক্ষের লোকের কাছে সব ইতিবাচক, আর বিরোধী পক্ষের কাছে সব নেতিবাচক। আমি ইতিবাচক-নেতিবাচক কোনো কথা বলতে চাই না। আমি শুধু আপনার মাধ্যমে সরকারের কাছে দুইটি প্রশ্ন রাখতে চাই।

বাবলা সেই প্রশ্ন দুইটি রেখে বলেন, জনবহুল এলাকাতে কীভাবে ডিপোর মধ্যে রাসায়নিক দ্রব্য থাকে? এ প্রশ্ন শুধু আমার নয়, পুরো দেশবাসীর। দ্বিতীয়ত, আমরা যখন ৬ লাখ কোটি টাকা বাজেট পেশ করি, তারপরও কেন ফায়ার সার্ভিসের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি আমরা আনতে পারি না?

বিজ্ঞাপন

জাপার এই সংসদ সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্বে আমরা যখন দেশের মানুষের টাকায় পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প করি, তখন বিশ্ব দরবারে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। এটি সত্য। কিন্তু এর বিপরীতে সীতাকুণ্ডের শীতলপুর ট্র্যাজেডিতে যখন আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ারকর্মীদের নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়, তখন সেই লজ্জা আমরা রাখি কোথায়?

ভয়াবহ এই আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় মানবিক দিকও ফুটে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন আবু হোসেন বাবলা। তিনি বলেন, আগুনে দগ্ধ ও হতাহতদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি যেভাবে বীর চট্টলার সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা নির্ভিকভাবে ছুটে গেছেন, তা অতুলনীয়। আমি সেসব সাহসী ও মানবিক মানুষগুলোকে স্যালুট জানাই।

বিজ্ঞাপন

গণকমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু মাওলানা সাহেব সবার আগে গিয়ে শত শত পোড়া মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন। আবার ইসকনের পক্ষ থেকে প্রভুরা গিয়ে রক্তদান করেছেন। এটিই আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশের চিত্র। এই বাংলাদেশ নিয়েই আমরা অহংকার করি। কিন্তু দুঃখ লাগে যখন কোথাকার কোন হরিদাশ পালরা এসে গণকমিশনের নাম করে ধর্মীয় নেতাদের দুর্নীতি খোঁজার জন্য দুদকে তালিকা দেয়।

‘আমি ওই হরিদাশ পাল বাবুদের বলব, সবকিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। সবকিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি ভালো না। আগুনে ঘি ঢালার চেষ্টা করবেন না। কে সাধু আর কে অসাধু, বাংলাদেশের সব মানুষ জানে। যদি সৎ সাহস থাকে, যেসব কুলঙ্গারা দেশের মানুষের লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, পারলে সেই তালিকা প্রকাশ করে দেখান এবং সেই তালিকা দুদককে দেন। সরকার, দুদক এবং দেশের জনগণ আপনাদের সাধুবাদ জানাবে,’— বলেন জাপা এমপি বাবলা।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, গত দুই দিন ধরে বাংলাদেশের সব মানুষ শোকাহত, বির্মষ, মর্মাহত। আমরা বাংলাদেশের কোনো মানুষ শীতলপুর ট্র্যাজেডির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। হঠাৎ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা হারিয়ে ফেলেছি অনেক তাজা প্রাণ। শত শত মানুষ হারিয়েছে তাদের অঙ্গ। কী নিষ্ঠুর, কী ভয়াবহ! আমরা এই ঘটনাকে শুধু দুর্ঘটনা বলে সান্তনা নেব? নাকি এর পেছনে কোনো নাশকতা রয়েছে, তা নিশ্চয় সরকার তদন্ত করে বের করবে বলে আশা রাখি। যদিও কোনো তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে বলে আমরা দেখতে পাই না।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন