বিজ্ঞাপন

‘আগামী অর্থবছরই হবে মহামারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার শেষ বছর’

June 9, 2022 | 7:13 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের অভিঘাতে দেশের উন্নয়নের অভিযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে অনেকটাই। এই প্রেক্ষাপটে তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ফেরার পরিকল্পনাকেই প্রাধান্য দিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। আর মহামারি মোকাবিলার তৃতীয় এই ধাপে এসে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আয়বর্ধন ও কর্মসৃজনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এই অর্থবছরের মধ্যেই বাংলাদেশ এই মহামারির প্রভাব পূর্ণাঙ্গভাবে কাটিয়ে উঠতে পারবে বলেও আশাবাদ জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের এই প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম।

মহামারি মোকাবিলার এই পর্যায়ে এসে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটটির শিরোনাম রেখেছেন ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’। বাজেট বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, মহামারি মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বর্তমানে রয়েছে তৃতীয় ধাপে। এ ক্ষেত্রে আগের দুই ধাপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেওয়া উদ্যোগগুলো আগামী অর্থবছরেও অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে সংকটের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অগ্রাধিকারে আগের সময়ের চেয়ে কিছুটা পরিবর্তন হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন-

‘আগামী অর্থবছরই হবে মহামারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার শেষ বছর’

বিজ্ঞাপন

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হলে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেটকে এই মহামারি মোকাবিলার প্রথম ধাপ বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, প্রথম বছরে সরকারের অগ্রাধিকার ছিল স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বাড়ানো, হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষদের খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দেওয়া এবং কৃষি ও রফতানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলোর উৎপাদন ও কর্মসংস্থান অব্যাহত রাখতে জরুরি সহায়তা দেওয়া। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত কোভিড চিকিৎসার দ্রুত সম্প্রসারণ, অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার প্রথম বছরের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০২১-২২ তথা শেষ পর্যায়ে থাকা চলমান অর্থবছরের বাজেটকে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন করোনা অভিঘাত মোকাবিলার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে। এই ধাপে সবাইকে কোভিড ভ্যাকসিনের আওতায় আনা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে শিল্প ও সেবা খাতকে সহায়তা দেওয়া ছিল সরকারের অগ্রাধিকার।

বিজ্ঞাপন

মুস্তফা কামাল বলেন, ১২ বছরের বেশি বয়সী প্রায় সব নাগরিককে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা এবং শিল্প ও সেবা খাতের জন্য নেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিতীয় বছরের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বৈশ্বিক মহামারি থেকে উত্তরণে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের তৃতীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ পর্যায়ে এসে আয়বর্ধন ও কর্মসৃজনের ধারা অব্যাহত রেখে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে টেকসই করা ও এর মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়াকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন-

‘আগামী অর্থবছরই হবে মহামারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার শেষ বছর’

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, এজন্য আমরা প্রণোদনা কার্যক্রমগুলোর বাস্তবায়ন আগামী অর্থবছরে (২০২২-২৩) অব্যাহত রাখব। পাশাপাশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প ও সেবা খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অর্থনীতির সব গুরুত্বপূর্ণ খাত যেন বৈশ্বিক মহামারির প্রভাব সম্পূর্ণরূপে কাটিয়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে সব ধরনের নীতি-সহায়তা প্রদান করব। আমি আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে জাতির কাছে এ আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই, আগামী অর্থবছরই হবে আমাদের বৈশ্বিক মহামারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য আমাদের শেষ বছর।

এর আগে, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় কোভিড-১৯-এর অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া গত দুই বছরের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের কার্যকর সব পদক্ষেপের কারণেই বাংলাদেশ করোনার প্রভাবে ব্যাপক প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক ও প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে সংকট কাটিয়ে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ২৮টি আর্থিক ও প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছি এবং এগুলোর সফল বাস্তবায়ন করে চলেছি। এসব আর্থিক ও প্রণোদনা প্যাকেজ গ্রহণের সময় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করেছি। এর মাধ্যমে আমরা একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে এ প্রণোদনা প্যাকেজগুলোকে সাজিয়ে, যেন সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের উপকার নিশ্চিত হয়। সরকারের এই ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ফলে এ পর্যন্ত ৭ কোটি ২৯ লাখ ৯৭ হাজার ব্যক্তি ও প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার প্রতিষ্ঠান সরাসরি উপকারভোগী হয়েছে বলে সংসদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানান অর্থমন্ত্রী।

আর্থিক ও প্রণোদনার কোন প্যাকেজে সুনির্দিষ্টভাবে কারা এবং কী পরিমাণে উপকার পেয়েছেন, সেসব তথ্যও বিস্তারিত আকারে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোভিড-১৯-এর অর্থনৈতিক ধাক্কা ভালোভাবে কাটিয়ে উঠেছে। করোনা সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ে শিল্প উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হলেও ২০২০ সালের জুলাই থেকেই তা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ২০২১ সালে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে শিল্প উৎপাদন ফের কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে সার্বিকভাবে ২০২১ সালে শিল্প উৎপাদন শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারে। এসময় চলতি অর্থবছরে রেকর্ড রফতানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে প্রভাব রাখতে সক্ষম হয় বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন-

‘আগামী অর্থবছরই হবে মহামারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার শেষ বছর’

বাজেট বক্তৃতায় দেশের উপযুক্ত সব নাগরিকের জন্য সরকারের কোভিড ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার তথ্যও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোভিড মোকাবিলায় সক্ষমতার স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সার্বিকভাবে সহায়তা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিবাচক চিত্র থেকে সহজেই প্রতীয়মান হয়, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সময়োপযোগী ও কার্যকর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার কর্মসৃজন ও কর্মসুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের মাধ্যমে করোনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউয়ের অর্থনৈতিক প্রভাবও সফলভাবে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে— ‘The bigger the challenge, the greater the opportunity for growth’। অসীম সাহসী ও দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব চ্যালেঞ্জ সুযোগে পরিণত করে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে।

এর আগে, বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। অর্থমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে এই বাজেট উপস্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে অর্থমন্ত্রী এই বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন।

এর আগে, দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

আরও পড়ুন-

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন