বিজ্ঞাপন

বিচারহীনতায় কমছে না নারীর প্রতি সহিংসতা, ১১ দাবি মহিলা পরিষদের

June 12, 2022 | 7:48 pm

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এক প্রতিবাদ সমাবেশে পরিষদের নেতারা বলছেন, দেশে একের পর এক নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এর বিরুদ্ধে অনলাইন-অফলাইনে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, আন্দোলন হলেও কমছে না সহিংসতা। এসব ঘটনার সঠিক বিচার করা গেলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটত না।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১২ জুন) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতারা। এসময় তারা আরও বলেন, নারী কোনো পরজীবী শ্রেণি নয়, নারী এখন স্বাবলম্বী।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে এক নারী গণমাধ্যমকর্মীর সহিংসতার শিকার হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে এই সমাবেশ আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এসময় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আইন প্রণয়ন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরাসহ ১১টি দাবি উত্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিচারহীনতায় কমছে না নারীর প্রতি সহিংসতা, ১১ দাবি মহিলা পরিষদের

বাংলাদেশ করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হতে পারলেও নারীর প্রতি সহিংসতা থেকে মুক্ত হতে পারছে না উল্লেখ করে মহিলা পরিষদের সভাপতি  ডা. ফাওজিয়া মোসলেম বলেন, যারা নারী প্রতি সহিংসতার মাধ্যমে পৌরুষ দেখান, তারা প্রকৃতপক্ষে পুরুষত্বকে কলঙ্কিত করছেন। তারা মানবিক আচরণ না করে মানবতাকে কলঙ্কিত করছেন। সব পুরুষ নারীর প্রতি সহিংস আচরণ করেন না। সব পুরুষ নারীকে অসম্মানের চোখে, অমর্যাদার চোখে দেখেন না। যারা দেখেন, তাদের মতো গোটা কয়েক পুরুষের জন্য সবাই অপরাধের মুখে পড়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

যেসকল পুরুষ নারীর প্রতি সহিংস আচরণ করে সব পুরুষকে অপরাধের মুখে ফেলে দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি সংগ্রাম নারী-পুরুষ সবার— এমন মন্তব্য করেন ফাওজিয়া মোসলেম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মহিলা পরিষদের সভাপতি বলেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে এ ধরনের কাজ (নারীর প্রতি সহিংসতা) করছে, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের চিহ্নিত করুন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান আপনার সম্মানের সঙ্গে জড়িত।

বিজ্ঞাপন

বিচারহীনতায় কমছে না নারীর প্রতি সহিংসতা, ১১ দাবি মহিলা পরিষদের

পুরুষদের ‘নতুন ধরনের মানুষ’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আমরা বলছি— পুরুষ নতুন ধরনের শিক্ষা গ্রহণ করুন, নতুন ধরনের মানুষ হোন। একজন নারীকে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করুন। সে আপনার অধীন নয়— এই শিক্ষায় আপনারা শিক্ষিত হোন। যদি তা না হয়, তাহলে আপনার পরিবারেও একই ঘটনা ঘটবে। যেসব মৌলবাদী রাজনৈতিক শক্তি নারীর সাজসজ্জা, পোশাকের ওপর হস্তক্ষেপ করতে চায়, করতে শুরু করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন সমাজকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১১টি দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনটির আন্দোলন উপপরিষদের অ্যাডভোকেসি লবির পরিচালক জনা গোস্বমী। দাবিগুলো হলো—

১. এই সমাবেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং অবিলম্বে নির্যাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়;

২. নারী ও কন্যার প্রতি যৌন নিপীড়নসহ সব ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে;

৩. নারীদের উত্ত্যক্তকররণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, অ্যাসিড নিক্ষেপের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে;

৪. নারীর স্বাধীন চলাচলে নিরাপত্তা দিতে হবে;

৫. নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অপরাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে;

৬. নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার নারীকে দায়ী করার মানসিকতা পরিহার করতে হবে;

৭. উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন রোধে মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের আলোকে পৃথক আইন প্রণয়ন করতে হবে;

৮. ধর্ষণসহ নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বন্ধে সরকারের ঘোষিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান করতে হবে;

৯. কর্মক্ষেত্র ও রাস্তাঘাট, গণপরিবহনসহ ঘরে-বাইরে সবখানে নারী ও কন্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে;

১০. নারীর প্রতি প্রচলিত নৈতিবাচক প্রথা ও রীতিনীতি অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে; এবং

১১. সমাবেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয় সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।

প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদের সম্পাদক রেখা সাহা, উপপরিষদের আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, ও ডা. নাহীদ নবী লেখা।

সারাবাংলা/আরআইআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন