বিজ্ঞাপন

‘রুমে রুমে গিয়ে চা-সিঙ্গারা খাওয়া বন্ধ করুন’

June 16, 2022 | 3:59 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সহকর্মীদের রুমে রুমে গিয়ে চা-সিঙ্গারা খাওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে, কাজে গতি আনতে সার্কুলার জারি করে অফিসে খোশগল্প আর চা-সিঙ্গারা খাওয়ার ট্রাডিশন বন্ধ করতে মহাপরিচালকদের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

পাশাপাশি, দেশে ফলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষি কর্মকর্তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশনে (কেআইবি) জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বেনজীর আলমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, 'কৃষি অফিসে গেলে ডিজিকে ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায় না। একজন ডিরেক্টর বা ডেপুটি ডিরেক্টর, ইয়াং তরুণ তাদেরতো আরও বেশি কাজ করার কথা। তাদের আরও বেশি কাজে লাগাতে হবে। কে কী কাজ করে?'

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, 'একজন আরেকজনের রুমে বসে চা খায়। আমি বহুদিন বলেছি, আবারও বলছি- বারি (বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট), ব্রি (বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট), বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) রুমে রুমে বসে চা খাওয়া বন্ধ করে দিন। কেউ কারো রুমে গিয়ে চা খেতে পারবেন না। কেউ কারো রুমে গিয়ে সিঙ্গারা খেতে পারবেন না। বিদেশি কিংবা বড় কোনো উদ্যোক্তা আসলে তাদের আপ্যায়ন করবেন, তাকে আপনি চা খাওয়ান। কিন্তু পাশের রুমের বিজ্ঞানী আসলো আপনি তার জন্য চা-সিঙ্গারা অর্ডার দেবেন, সেগুলো একদম আইন করে, অর্ডার দিয়ে- আমি সব ডিজিদের বলছি তা বন্ধ করুন। খামারবাড়িতে (কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর) কেউ কোন কর্মকর্তাকে চা-সিঙ্গারা খাওয়াতে পারবেন না। একদম চিঠি দিয়ে তা বন্ধ করুন। আমি এই অর্ডার দিচ্ছি। আমাদের আরও বেশি করে কাজ করতে হবে। করোনার কারণে আমরা দুই বছর কাজ করতে পারিনি, আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি।'

দেশে ফলের উৎপাদন বাড়াতে কর্মকর্তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করার নির্দেশনাও দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের মাথাপিচু আয় কম হওয়ায় সবাই পুষ্টিসম্পন্ন ফল কিনে খেতে পারে না। আবার একটু বেশি উৎপাদন হলেই আর বিক্রি করতে পারে না কৃষক। দানাদার খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এখন পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করা প্রধান লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এখন আমরা ৮২ গ্রাম ফল খাই। এটা কমপক্ষে ২০০ গ্রাম প্রয়োজন। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে চলছি।

অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব সায়েদুল ইসলাম বলেন, আগে ৫৬ রকমের ফল ছিল। এখন ৭২ রকমের ফল আছে। তারপরও ফল খাওয়ার পরিমাণ কম। ধানের চেয়ে চার গুণ লাভ ফলে। ছাদ বাগানে ফল চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সারাবছর যাতে ফল খেতে পারি আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। নিরাপদ ফল উৎপাদন ও রফতানি অন্যতম লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, ১৬ জুন শুরু হওয়া জাতীয় ফল মেলা চলবে চলবে ১৮ জুন পর্যন্ত। মেলার এবারের প্রতিপাদ্য ‘বছরব্যাপী ফল চাষে, অর্থ পুষ্টি দুই-ই আসে’। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) এই মেলা চলছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা মেলার উদ্বোধন করেন। পরে তারা মেলায় অংশ নেওয়া সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল ঘুরে দেখেন। পরে মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী।

সারাবাংলা/ইএইচটি/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন