বিজ্ঞাপন

আত্মগোপনে গিয়ে ভুয়া ডাক্তার সেজেছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি

June 19, 2022 | 1:41 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বহুল আলোচিত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ মো. এনামুল হককে (৫৩) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বিজ্ঞাপন

শনিবার রাতে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এনামুল হক গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার মৃত শেখ আব্দুল মজিদের ছেলে।

জানা যায়, ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রীর গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় জনসভার অদূরে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় হত্যাচেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩টি মামলা রুজু হয়। তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ২৩ মার্চ শেখ মো. এনামুল হকসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এনামুল হককে গ্রেফতার করার বিষয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, এরইমধ্যে বেশ কয়েকজন পলাতক জঙ্গিদের তথ্য উপাত্ত নিয়ে কাজ করছে র‌্যাব।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পলাতক আসামি জঙ্গি ইকবাল ও রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক জঙ্গি মুফতি শফিকুর রহমান এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা ও রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি জঙ্গি সংগঠন হুজি-বি’র প্রতিষ্ঠাতা আমির মুফতি আব্দুল হাই’কে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ফলে র‌্যাব বর্ণিত জঙ্গি হামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জঙ্গি শেখ মো. এনামুল হককে গ্রেফতার করে।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

২০০০ সালে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় জনসভার অদূরে জঙ্গি শেখ মো. এনামুল করিমসহ তার অপরাপর জঙ্গি সদস্যরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় হত্যাচেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিষ্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩টি মামলা রুজু হয়। তদন্ত শেষে উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ২৩ মার্চ গ্রেফতারকৃত শেখ মো. এনামুল হক@ শেখ মো. এনামুল করিমসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জানায়, ব্যবসায়িক সূত্র ধরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হুজি’র আমীর মুফতি আব্দুল হান্নানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

সে ২০০০ সালে গোপালগঞ্জ শহরে বিসিক শিল্প নগরীতে মুফতি হান্নার এর ছোট ভাই আনিস এর সঙ্গে যৌথভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়ে ‘সোনার বাংলা ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে টুথপেস্ট, টুথপাউডার, মোমবাতি ও সাবান তৈরির একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। মুফতি হান্নান ও অন্যান্য জঙ্গি নেতারা ২০০০ সালের জুলাই মাসে বেশ কয়েকবার তার ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে। গ্রেফতারকৃত বিভিন্ন সময়ে মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক এবং সমাবেশে অংশগ্রহণ করত।

গ্রেফতারকৃত এনামুল মুফতি আব্দুল হান্নান এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার জন্য পরস্পর যোগসাজশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে লক্ষ্যে তারা ঐ কারখানায় সাবান তৈরির ক্যামিকেল সংগ্রহের আড়ালে বিভিন্ন প্রকার বিস্ফোরক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি কারখানায় জমা করে লোহার ড্রামের ভিতর দুটি শক্তিশালী বোমা তৈরি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় জনসভার অদূরে বোমা পুঁতে রাখে।

ওই ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে গ্রেফতারকৃত এনামুল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে সে নিজের পরিচয় গোপন করে ক্বারী না হওয়া সত্ত্বেও ক্বারী পরিচয় দিয়ে গাজীপুরের একটি মসজিদে ৮ বছরের অধিক সময় ইমামতি করে। গাজীপুরে অবস্থানকালীন সময়ে সে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে। গাজীপুরে অবস্থানকালীন একটি হোমিওপ্যাথি কলেজে ২ বছর প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বলে জানা যায়। একইভাবে সে নিজেকে গাজীপুর হোমিও কলেজ এর প্রাক্তন অধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করত। পরবর্তীতে ২০১০ সালে সে ঢাকার উত্তরা ও বনশ্রীতে বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে থাকে। গ্রেফতারকৃত ঢাকার উত্তরায় ২০১৫ সালে ‘আই কে হোমিও কলেজ উত্তরা’ নামে একটি ভুয়া হোমিও প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে।

পরবর্তীতে ২০২০ সালে ‘আই কে হোমিও কলেজ উত্তরা’ নামক প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে সে ক্যান্সার নিরাময় কেন্দ্র নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান খুলে ক্যান্সারের ভুয়া হারবাল চিকিৎসা প্রদান শুরু করে। তার চিকিৎসায় ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে ভালো হয় বলে সে দাবি করত। সে এইডস রোগ নিরাময়ে চিকিৎসা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করত। সে সবসময় নিজস্ব গন্ডির মধ্যে চিকিৎসা প্রদান করত। এছাড়াও, সে নিজেকে হেপাটাইটিস-ভাইরাস, প্যারালাইসিস, ডায়াবেটিকস, মেদ, বন্ধ্যাত্ব, টিউমার, হার্ট, কিডনি, যৌন, মানসিক রোগসহ বহুবিধ রোগের সফল চিকিৎসক হিসেবে দাবি করত।

সারাবাংলা/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন