বিজ্ঞাপন

ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দূরত্ব রেলপথে কমে অর্ধেক হবে

June 25, 2022 | 11:15 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার কোটি মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। আজ শনিবার (২৫ জুন) স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধনের পর আগামীকাল রোববার (২৬ জুন) সকাল থেকেই সেই সুযোগ পাচ্ছেন তারা। দেশের দুই অঞ্চলকে সড়কপথে সংযুক্ত করা এই সেতুর রেল অংশের কাজও এগিয়ে চলেছে পুরোদমে। সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হলেই ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথের দূরত্ব অর্ধেক হয়ে যাবে। রাজধানীর সঙ্গে খুলনার দূরত্ব কমবে ২১২ কিলোমিটার। যশোরের সঙ্গে কমবে ১৮৪ কিলোমিটার। দুই পাড়ে এই রেলপথের দূরত্ব হবে ১৭২ কিলোমিটার।

বিজ্ঞাপন

পদ্মা রেল সেতুর নকশার তথ্য বলছে, রেলপথটি ঢাকা থেকে বের হয়ে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও যশোরের ভেতরে দিয়ে খুলনায় যাবে। বরিশাল ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গেও রেল যোগাযোগের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হবে। ১৭২ কিলোমিটার রেলপথের প্রায় ২২ কিলোমিটার হবে সেতুর মতো এলিভেটেড আকারে। এলিভেটেড ভায়াডাক্টের ওপর দু’টি প্ল্যাটফর্ম, একটি মেইনলাইন, দুটি লুপ লাইনসহ রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ ও লিফট স্থাপন করা হবে। প্রায় ১১ মিটার উঁচু রেললাইনের নিচে দিয়ে সড়কের জন্য আন্ডার পাস থাকবে।

এই রেলপথে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত থাকবে ১৪টি স্টেশন। এগুলো হলো— কেরাণীগঞ্জ, নিমতলা, শ্রীনগর, মাওয়া, জাজিরা, শিবচর, ভাঙ্গা, নাগরকান্দা, মোকসেদপুর, মহেশপুর, লোহাগড়া, নড়াইল, পদ্মাবিলা এবং জামদিয়া। দোতলা ট্রেনও এই রেলপথে চলতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দূরত্ব রেলপথে কমে অর্ধেক হবে

পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প সূত্র জানায়, এই রেললাইনের মাধ্যমে দেশে ব্যালাস্টবিহীন রেললাইন নির্মাণ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে এলিভেটেড রেললাইন নির্মাণও শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা-যশোর যে রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে, সেটি হবে দেশের প্রথম ব্যালাস্টবিহীন এলিভেটেড রেললাইন। এতে বুলেট ট্রেন চলতে পারবে। নির্মাণের পরবর্তী ৬০ বছর মেরামতের প্রয়োজন পড়বে না। সেতুর ভেতর দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি হবে ঘন্টায় ১৬০ কিলোমিটার। আর মালবাহী ট্রেন ১২৫ কিলোমিটার গতিতে চলবে।

বিজ্ঞাপন

রেলপথটির প্রথম সেকশন কমলাপুর থেকে গেন্ডারিয়া হবে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন। দ্বিতীয় সেকশন হবে গেন্ডরিয়া থেকে মাওয়া ৩৬ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ব্রডগেজ, যেখানে থাকবে চারটি স্টেশন। তৃতীয় সেকশন হবে মাওয়া থেকে ভাঙ্গা জংশন সিঙ্গেল ব্রডগেজ লাইন ৪২ কিলোমিটার, যেখানে থাকবে পাঁচটি স্টেশন। চতুর্থ সেকশন হবে ভাঙ্গা থেকে রুপদিয়া এবং পদ্মাবিলা হয়ে সিংগিয়া স্টেশন ৮৬ কিলোমিটার সিঙ্গেল ব্রডগেজ লাইন, যেখানে ১০টি স্টেশন পড়বে।

ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দূরত্ব রেলপথে কমে অর্ধেক হবে

বিজ্ঞাপন

এই রেলপথ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নতুন রেলকোচ কেনার বিষয়টিও। প্রকল্পের টাকায় ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেন কেনা হবে। যার চারটি কোচ হবে এসি স্লিপার, ১৬টি এসি চেয়ার, ৫২টি শোভন চেয়ার, ১৮টি শোভন চেয়ার এবং ১০টি অন্যান্য কোচ। দেশের যোগাযোগ খাতে সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার ১৮ হাজার কোটি ও চীন-জি-টু জি ভিত্তিতে ২১ হাজার কোটি টাকা অর্থ সহযোগিতা দিচ্ছে এই প্রকল্পে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৮০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ৭৯ শতাংশে। এছাড়া প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন