বিজ্ঞাপন

পদ্মা সেতুর আবেগের ঢেউ ক্রীড়াঙ্গনে

June 25, 2022 | 6:55 pm

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দে ভাসছে পুরো বাংলাদেশ। আজ পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে খুলে গেল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অপরাপর অংশের জন্য সংযোগ, যোগাযোগ ও সম্ভাবনার অনন্ত দুয়ার। এমন অর্জনের সূচনার দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ক্রীড়াঙ্গনেও ছিল বিভিন্ন আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ‘হোম অব ক্রিকেট’ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ছিল ভিন্ন রকম আয়োজন। মাঠের ভেতরের সবুজ গালিচার ওপর বড় করে মঞ্চ তৈরি করা হয়। কাটা হয় কেক, উড়ানো হয় কনফেত্তি। ডিজিটাল স্ক্রিনে পদ্মা সেতু উদ্বোধন আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে। তাদের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ টাইগার্স টিমে থাকা সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, নাঈম ইসলাম, আল আমিন হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বিরা এবং কোচেরা উপস্থিত ছিলেন আয়োজনে।

বিজ্ঞাপন

আয়োজনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘গেম চেঞ্জার বলা হয় না? পদ্মা সেতু আসলে গেম চেঞ্জার। দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি অনেক কিছু বদলে যাবে এখন। আর সত্যি বলতে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্রিকেট নিয়ে আমরা ওইভাবে জোর দিতে পারিনি। কিন্তু এখন আমাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ওই জায়গায় জোর দিলে ক্রিকেটেরও অনেক উন্নয়ন হবে।’

পদ্মা সেতুর আবেগের ঢেউ ক্রীড়াঙ্গনে

বিজ্ঞাপন

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে থাকা জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও কেক কেটে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দ উদযাপন করেছেন। ভিডিও বার্তায় টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য। আমার কাছে মনে হয়, এটা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় অবদান রাখবে। বাঙালি জাতির একটা স্বপ্ন ছিল, যেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কারণেই পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশের জন্য এটা বিশাল এক অর্জন। একটা সময় এমন ছিল যে আমরা নিশ্চিত ছিলাম না, পদ্মা সেতু হবে কী হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। উনার নিবেদন ও চেষ্টার কারণে আমরা সবাই পদ্মা সেতু পেয়েছি। পাশাপাশি এটাও বলব, যারা এই প্রকল্পের অংশ ছিলেন, তাদেকেও ধন্যবাদ। বিশেষ করে যারা শ্রমিক ছিলেন, যারা কাজ করেছেন, তাদেনকে বলতে চাই, আপনারা যা করেছেন, বাঙালি জাতি তা আজীবন মনে রাখবে। আমার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পক্ষ থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’

বিজ্ঞাপন

অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে যেটির স্বপ্ন দেখে আসছিলাম আমরা, অবশেষে তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আমাদের একান্ত নিজস্ব পদ্মা সেতু নিয়ে গর্ব অনুভব করছি।’

সাবেক সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য পদ্মা সেতু কতটা জরুরি, ওই পথে চলাচলের অভিজ্ঞতা ছাড়া তা আসলে বোঝা কঠিন। দুটি ঈদের কথা উল্লেখ না-ই করলাম, শীতকালে যে কী অবস্থা হয়, তার ওপর নানা সময়ে নিম্নচাপ , প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে তো কথাই নেই, সারারাত ফেরি বন্ধ। সবচেয়ে বেদনাদায়ক ব্যাপার হয়, যখন কোনো মুমূর্ষু রোগী নদী পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকে। প্রতিটি মিনিট তখন মনে হয় অনন্তকাল। ঘাটেই রোগী মারা গেছে, ঢাকায় এনে চিকিৎসা করানো যায়নি, এরকম নজির আছে অনেক। আরও কত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সেই যন্ত্রণাময় দিন শেষ হতে চলেছে।’

বিজ্ঞাপন

মাশরাফি বলেন, ‘অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে, প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এই পদ্মা সেতু। কোটি কোটি মানুষের কাছে এটা স্বপ্নের চেয়েও বড় কিছু। অনেকে কখনো কল্পনাও করতে পারেননি, জীবদ্দশায় পদ্মার ওপর সেতু দেখতে পাবেন। এটা স্রেফ ইট-সিমেন্টের সেতু নয়, এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এটা অনেক আবেগ-অনুভূতির প্রতিশব্দ।’

সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলছেন, তর সইছে না আর! হাবিবুল বলেন, ‘আমরা যারা ওই অঞ্চলের বাসিন্দা তাদের জন্য এটা অনেক বড় পাওয়া। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আগে বাড়িতে যেতে ৮-১০ ঘণ্টা সময় লাগত। এখন ৫-৬ ঘণ্টা কম লাগবে। খুবই রোমাঞ্চিত, অপেক্ষায় যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার। আশা করি, শিগগিরই যাব। এমনি দেখতে গিয়েছি পদ্মা সেতু। কিন্তু পদ্মা সেতুতে গাড়ি চালিয়ে যাব, এজন্য আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত ‘

জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ‘স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হলো। এই সেতু আমাদের জন্য আশীর্বাদ। আগে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা যেতে ৮-১০ ঘণ্টা লেগে যেত। এখন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় বাঁচবে। আমাদের অনেক উপকার হলো। প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাদের কষ্ট লাঘবের জন্য।’

সারাবাংলা/এসএইচএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন