বিজ্ঞাপন

চার লেন সড়ক প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ১৮ অঙ্গের

June 27, 2022 | 11:22 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হলো চারলেন সড়কের কাজ। এখন নতুন করে একবছর মেয়াদ এবং ব্যয় ১০৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রথম সংশোধন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রকল্পের ১৮টি অঙ্গের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য ‘চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি জাতীয় মহাসড়ক এর হাটহাজারী হতে রাউজান পর্যন্ত সড়কাংশ ৪ লেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের বিরাজ করছে এ চিত্র। ফলে তিন বছরের এ প্রকল্পটিতে সময় যাচ্ছে ৫ বছর। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশীদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘বেশ কিছু অঙ্গের ব্যয় কম বা বেশি হওয়ার ফলে প্রকল্পটি সংশোধন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যৌক্তিক কারণ আছে। প্রকল্পটি সুষ্ঠ বাস্তবায়ন এবং এটি থেকে কাঙ্খিত ফল পেতে সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি জাতীয় মহাসড়কের হাটহাজারী-রাউজান অংশে ১৮ দশমিক ৩০ কিলোমিটার চার লেন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ সহজতর, দ্রুত ও নিরাপদ হবে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়ছিল ৫২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এখন ব্যয় বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে ৬৩৩ কোটি টাকা। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে ১০৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা মো ব্যয়ের ১৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। এদিকে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু  কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যয় বৃদ্ধি না করে একবছর অর্থাৎ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এতেও শেষ হয়নি কাজ। এবার প্রথম সংশোধনীতে ফের ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত একবছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশ।

প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ২৩টি অঙ্গের ব্যয় কম বেশি হয়েছে। এর মধ্যে পরিমাণ ও ব্যয় বেড়েছে ৮টি অঙ্গের। পরিমাণ কমলেও ব্যয় বেড়েছে ৫টি অঙ্গের। পরিমান অপরিবর্তিত থাকলেও ব্যয় বেড়েছে ৫টি অঙ্গের। একই সঙ্গে পরিমাণ ও ব্যয় দুটোই কমেছে ৪টি অঙ্গের। পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও ব্যয় কমেছে একটি অঙ্গের।

বিজ্ঞাপন

সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ দশমিক ৩৮ হেক্টর বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে ২৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এছাড়া রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণে দশমিক ৯০ কিলোমিটার বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। দুই লেন বিশিষ্ট গার্ডার সেতুর ১০ দশমিক ৯০ মিটার বৃদ্ধিতে খরচ বেড়েছে ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। চার লেন বিশিস্ট আরসিসি বক্সকালভার্ট ১০ মিটার বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় বড়েছে ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আরসিসিব রিটেইনিং ওয়াল ২০০ মিটার বৃদ্ধিতে খরচ বেড়েছে ৪ কোটি ৭ লাখ টাকা। ইউ-ড্রেন কাম ফুটপাথ ৩ হাজার মিটার বৃদ্ধিতে ব্যয় বেড়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। সাইন পোষ্টের সংখ্যা ১১২টি বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় বেড়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং কংক্রিট গাইড পোষ্টের সংখ্যা ১ হাজার ২২০টি বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে ৫০ লাখ টাকা।

সংশোধনী প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, যেসব অঙ্গের পরিমাণ কমলেও ব্যয় বেড়েছে সেগুলো হলো পেভমেন্ট প্রশস্তকরনের ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৯০ কিলোমিটার কমলেও ব্যয় বেড়েছে ১৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া পেভমেন্ট মজবুতিকরনে দশমিক ৯০ কিলোমিটার কমলেও ব্যয় বেড়েছে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। পেভমেন্ট উচুঁকরণে দশমিক ৯০ কিলোমিটার কমলেও ব্যয় বেড়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সার্ফেসিং দশমিক ৯০ কিলোমিটার কমলেও ব্যয় বেড়েছে ২ কোাটি ৮১ লাখ টাকা। হার্ড সোল্ডার নির্মাণে দশমিক ৯০ কিলোমিটার কমলেও ব্যয় বেড়েছে ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

যেসব  অঙ্গের পরিমাণ অপরিবর্তিত কিন্তু ব্যয় বেড়েছে সেগুলো হলো- জেনারেল অ্যান্ড সাইট ফ্যাসিলিটিজে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। রোড মিডিয়ানে ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা। রোড সাইড ড্রেন নির্মানে ১৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ডাইরেকশনাল সাইনে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং ইউটিলিটি হস্তান্তরে দেড় কোটি টাকা। যেসব অঙ্গের পরিমাণ ও ব্যয় দুটোই কমেছে সেগুলো হলো- সড়ক বাঁধ প্রশস্তকরণে মাটির কাজ কমেছে ৫৯৩ ঘনমিটার এবং ব্যয় কমেছে ৪৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া সিসি ব্লক উইথ জিও টেক্সটাইল এর পরিমাণ ৯২০ বর্গমিটার কমার সঙ্গে ব্যয় কমেছে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ইন্টারসেকশনের সংখ্যা একটি কমায় ব্যয় কমেছে ৯২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সী ও প্রাইস কন্টিনজেন্সী উভয় খাতের  কমেছে ২ কোটি ৪ লাখ টাকা। এদিকে পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও ব্যয় কমেছে ১৩টি বিদ্যমান কার্লভাট প্রশস্তকরণের ক্ষেত্রে ব্যয় কমেছে ৪৮ লাখ ২১ হাজার টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় দেওয়া হয় প্রায় ১০টি সুপারিশ। এসব সুপারিশ প্রতিপালন করা হয়েছে। ফলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেজে/একে  

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন