বিজ্ঞাপন

জুলাইয়ে ফের বন্যার পূর্বাভাস, এবার প্লাবিত হতে পারে মধ্যাঞ্চল

June 28, 2022 | 10:34 pm

ঝর্ণা রায়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই ফের জুলাইয়ে পানি বাড়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। তবে এবারের বন্যা দেশের মধ্যাঞ্চল দিয়ে বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ব্রক্ষ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে গিয়ে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বিপৎসীমার ওপরে থাকা প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে লোকালয়ে ঢোকা পানিও। তবে এখনো ওই অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানাচ্ছে, আপাতত সিলেট অঞ্চলে নতুন করে বন্যার পূর্বাভাস নেই। তবে তিস্তার পানি বেড়ে গিয়ে উত্তরাঞ্চলে কয়েকটি এলাকায় সামান্য পানি প্রবেশ করতে পারে। তবে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি

বিজ্ঞাপন

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় সিলেট অঞ্চলে। তবে টানা দশ দিন পরে সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। লোকালয় থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব এলাকার পানি এরই মধ্যে নেমে গেছে, সেসব এলাকার মানুষ ঘরে ফিরেছে। তবে এখনো খাবার সংকট রয়েছে। সেজন্য সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তালিকার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে থাকলেও এখনও নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে এই অঞ্চলে বর্তমানে বড়ধরনের বন্যার কোনো পূর্বাভাস নেই।

বিজ্ঞাপন

জুলাইয়ে বন্যার পূর্বাভাস

গত ১৪ জুন থেকে শুরু হওয়া বন্যার রেশ এখনো রয়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জসহ বন্যা কবলিত এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও এখনো সব মানুষ ঘরে ফিরতে পারেনি। রয়েছে খাদ্য ও বাসস্থান সংকট। এই পরিস্থিতির মধ্যেই জুলাইয়ে বন্যার পূর্বাভাস দিচ্ছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাইয়ে ব্রক্ষ্মপুত্র, গঙ্গা ও যমুনার পানি বেড়ে গিয়ে বন্যা হতে পারে। আর সে বন্যায় দেশের মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যা মোকাবিলায় তাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যা আছে পূর্বাভাসে

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ভারতের অরুণাচল, আসাম, মেঘালয় ও হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে নেমে আসা উজানের পানিতে ব্রক্ষ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বাড়বে। আর এই পানি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তখন কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশের কিছু কিছু স্থানে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টির কারণে গঙ্গা নদীর পানি বাড়তে পারে। ফলে ব্রক্ষ্মপুত্র-যমুনার পানি বেড়ে পদ্মায় এসে কয়েকটি জায়গায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এ সময়ে দেশের মধ্যাঞ্চলের রাজবাড়ী, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা হতে পারে। তবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গঙ্গা নদীর অববাহিকার জেলাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা নেই।

আর ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের বৃষ্টির পানিতে সুরমা, কুশিয়ারা ও মেঘনা নদীর অববাহিকার উজানের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, ভুগাই-কংস, মনু, খোয়াই নদ-নদীর পানি বেড়ে বন্যা হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘ব্রক্ষ্মপুত্র, যমুনা ও গঙ্গার পানি এ সময়ে বাড়ে। আমাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাইয়ে বাড়তি থাকে ব্রক্ষ্মপুত্র নদের পানি, আর আগস্টে গঙ্গার। আর পানি বাড়লে বন্যার আশঙ্কা থাকেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে ওই সময়ের বন্যার তীব্রতা কেমন হবে, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ তীব্রতা সব সময় উজানের ভারি বৃষ্টিপাতের ওপরে নির্ভর করে বিষয়টা তা নয়। ভূমির ব্যবহার, নদ-নদীর গতি-প্রকৃতি ও পানি নিষ্কাশনের ওপরও বিষয়টি নির্ভর করে। যে কারণে বন্যা দীর্ঘায়িত হয়।’

এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান সারাবাংলাকে জানান, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আরেকটি বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। ওই সময় গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল এবং মানিকগঞ্জ বেশি প্লাবিত হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সিলেটের বন্যা থেকে শিক্ষা নিয়েছি। বন্যা পর্যবেক্ষণ কমিটিকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পর্যাপ্ত নৌযান প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ফায়ারসার্ভিস এবং বিজিবি সব বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তাদের অনেকেই এখনও সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে সিলেট অঞ্চল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সিলেট ও সুনামগঞ্জ। ওই দুই জেলার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। যে ধকল এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। এখনো চলছে উদ্ধারকাজ।

সারাবাংলা/জেআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন