বিজ্ঞাপন

‘বাধা আসলেও বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের খনন অব্যাহত থাকবে’

June 29, 2022 | 4:59 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: যত ধরনের বাধাই আসুক না কেন বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল উদ্ধারে শুরু হওয়া খনন কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে আদি বুড়িগঙ্গার শহীদ নগর এলাকায় পুনরায় খনন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে ডিএসসিসির মেয়র এসব কথা বলেন।

এ বিষয়ে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘বিভিন্ন ভূমি দস্যুদের মাধ্যমে ভরাট করে দখল করে নিয়েছে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল। ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলটি উদ্ধার করা যায় কি না- তা খতিয়ে দেখতে ২০১৮ সালে আমাকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আমরা কাজ শুরু করি। আজ আমরা খনন কাজ শুরু করেছি।’

বিজ্ঞাপন

শুধু ব্যক্তি নয় বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল দখল করেছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও। ভূমি জরিপ অধিদফতর, জেলা প্রশাসনসহ পাঁচটি সংস্থার জরিপ অনুযায়ী আদি চ্যানেল দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে লালবাগ মডেল থানা ভবন ও কামরাঙ্গীর চর হাসপাতাল। পাশে রয়েছে শিকদার মেডিকেল কলেজ ও র‌্যাব-১০ এর সিপিসি ক্যাম্প। এ বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জাবাবে মেয়র বলেন, ‘প্রায় সাড়ে একুশ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা হবে নদীর এ অংশ। আর পুরো কামরাঙ্গীর চর এলাকায় করা হবে বিজনেস হাব। তাই প্রয়োজনে সবকিছু সরিয়ে দেওয়া হবে।’

বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল খনন কাজ পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আদি বুড়িগঙ্গা দখল করে নির্মাণ করা রাজধানীর লালবাগ থানাসহ সব ধরনের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর পশ্চিম শহীদ নগর মৌজার লালবাগ মডেল থানা ভবনের পুরোটাই পড়েছে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল। এ ভবনসহ নদীর জায়গা দখল করে নির্মাণ সরকার স্থাপনার কি হবে? এ প্রশ্নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়া হবে লালবাগ থানা ও কামরাঙ্গীর চর হাসপাতাল।’

এদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে হাইকোর্টোর নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও বিআইডব্লিউটিএ। তখন আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ চালালেও লালবাগ থানা ভবন এবং কামরাঙ্গীর চর হাসপাতালে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আদি চ্যানেলের আশেপাশের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, শহিদনগরসহ গোটা এলাকাটি ছিল নদী। থইথই পানিতে এলাকার সবাই গোসল করত। হঠাৎ করে পানিতে নদীর মাঝখান দিয়ে বেরিবাঁধ করা হলো। নদী দুই ভাগ হয়ে গেল। এরপর নদী দখল করে মেডিকেল কলেজ হলো। পানি প্রবাহে প্রথম বাঁধাগ্রস্ত হলো। তারপর আশেপাশে সবাই দখল করা শুরু করল। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ও বিশাল এক জায়গা দখল করে বসলেন। রাতের আধারে সিটি করপোরেশনের গাড়ি ময়লা ফেলে যায়। সেই ময়লা আজ পুনরায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সারাবাংলা/ইউজে/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন