বিজ্ঞাপন

‘উৎপলকে এনে দাও, আমার ছেলে এভাবে মরতে পারে না’

June 29, 2022 | 9:01 pm

রানা আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সিরাজগঞ্জ: আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল এন্ড কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক উৎপলের এই অকাল মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারছেন না মা গীতা রানীসহ তার পরিবার-আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরাও। উৎপলের মা বৃদ্ধ গীতা রানীসহ পরিবারের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্না যেনো কিছুতেই থামছে না। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে সেখানকার বাতাস।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের এলংজানী গ্রামের প্রভাষক উৎপলের বাড়িতে ঢুকতেই শোনা যায় বৃদ্ধ মা গীতা রানীর কান্নার আওয়াজ। বাড়ির উঠানে বসেই কান্না করছেন তিনি। বারবার শুধু একটা কথাই বলছেন, 'আমার ছোট ছেলে উৎপলকে এনে দাও, আমার ছেলে এভাবে মরতে পারে না, আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও।'

কথা হয় উৎপলের বড় ভাই অসীম কুমার ও অসিত কুমারের সাথে তারা ক্ষোভের সাথে বলেন, 'আমাদের ছোট ভাইকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।'

বিজ্ঞাপন

তারা আরও বলেন, 'উৎপল আমাদের ছোট হলেও আমাদের পরিবারের যে কোনো সিদ্ধান্ত সেই নিতো। আমরা এখন উৎপলকে হারিয়ে প্রায় অভিভাকহী হয়ে পড়েছি। উৎপল আমাদের দুই ভাইকে দর্জির দোকান করে দিয়েছিল, আজ সেই ভাই আমাদের মাঝে নেই এটা ভাবতেও পারছি না।'

উৎপলের স্ত্রী বিউটি রানী নন্দী বলেন, '৩ বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে, বিয়ের পর উৎপলকে ছাড়া আমি একদিনও থাকিনি। উৎপল কাজ ছাড়া কিছুই বুঝতো না। আমি তাকে বলেছি, তুমি ক্লাস ছাড়া আর কোনো দায়িত্ব নিও না। কিন্তু সে আমার কথা শুনেনি। কলেজ থেকে তাকে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। উৎপলও সততার সঙ্গে সেই দায়িত্বগুলো পালন করেছে। তাহলে কেন আমার স্বামীকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো?'

বিজ্ঞাপন

উৎপলের শাশুড়ি ছবি রানী নন্দী বলেন, 'উৎপলের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, এখনো ছেলে-মেয়ে হয়নি, আমার মেয়ের জীবনটা নষ্ট করেছে। আমার মেয়েকে বিধবা করেছে, এখন আমার এই বিধবা মেয়েকে নিয়ে কীভাবে থাকবো? আমার মেয়ের জামাই উৎপলকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।'

উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'উৎপল খুব ভালো ছেলে। এলাকার লোকজনের সবসময় খোঁজখবর রাখত। তার এই অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।'

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, শনিবার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। শিক্ষক উৎপল কুমার মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু মাঠ থেকে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত শিক্ষককে দ্রুত উদ্ধার করে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে এনাম মেডিকেলে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়েছে।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন