বিজ্ঞাপন

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

June 29, 2022 | 9:23 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রতাসাধনের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেককে তার নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটাসম্ভব কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। প্রত্যেককে মিতব্যয়ী হতে হবে। সবাইকে কৃচ্ছ্রতাসাধন করে সঞ্চয়ের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় তথা অপচয় কমাতে হবে। বিলাসদ্রব্য পরিহার করে কেবল প্রয়োজনীয় জিনিস কেনায় মনোযোগ দিতে হবে।

বুধবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো সংকটে পড়লে আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের পাশে থাকে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিসঞ্চয় বাড়িয়ে জাতীয় সঞ্চয়বৃদ্ধিতে অবদান রাখা, সব ধরনের অপচয় কমানো এবং আমদানিতে বিলাসদ্রব্য পরিহার— এই তিনটি বিষয়ে সবাইকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, সবাইকে দেশি পণ্য ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে। কথায় কথায় দৌড়ে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না। দেশে চিকিৎসা ভালো। শত বাধা ও চাপের মুখে পড়লেও আমরা সামনের দিকে এগয়ে যাচ্ছি। অনেক প্রতিকূল অবস্থায় আমাদের এগুতে হচ্ছে। যেখানে উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমরা আমাদের অর্থনীতির উন্নয়ন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করি।

আরও পড়ুন- ৪২টি স্তম্ভ স্পর্ধিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি— সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, দেশ-বিদেশে সব জায়গায় তো বাধা পেতে হয়। এত বাধা অতিক্রম করেও আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। এর কারণ আমাদের দেশের মানুষের আলাদা একটি শক্তি আছে। যদি তারা সেটি বুঝতে পারে, অনুধাবন করতে পারে, তখন শক্তিটা ‍বুঝা যায়। পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য হয়েছে।

সংসদ নেতা বলেন, চলমান বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯-এর অভিঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় আমদানিভিত্তিক মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে। সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর প্রাধান্য দিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব। এবারের বাজেটও আমরা জনগণের সহযোগিতায় সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব।

আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির চাপ জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না— এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের যে ঘাটতি হবে, তা আমরা দাম বাড়িয়ে ভোক্তা পর্যায়ে শতভাগ চাপিয়ে দেবো না। ফলে আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি ব্যয় বাড়বে। কার্যকর ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকি ব্যয় সহনশীল মাত্রায় রাখা এবং আমদানির ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- ‘সরকারের পদক্ষেপে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের চতুর্থ ঢেউ এসেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯-এর আরেকটি ঢেউ এসেছে। চতুর্থ ঢেউ। করোনাভাইরাস আমরা সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। পাওয়ার যোগ্য সবাইকে ভ্যাকসিন দিয়েছি। জীবন-জীবিকার সুরক্ষা দেওয়ার যতটুকু, সবটুকুই আমরা সক্ষম হয়েছি। করোনা নতুনভাবে আবার দেখা দিয়েছে। সবাইকে বলব স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে চলতে। করোনা মোকাবিলায় আমরা যে সাফল্য এনেছি, সেটা ধরে রাখতে হবে।

করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে ‍উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মহামারি আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। তবে আমরা এই ক্ষতি সামলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। সরকার কার্যকর ও সময়োপী পদক্ষেপ নিয়েছি। যেকোনো ধরনের বাধা আসুক না কেন, তা মোকাবিলা করতে পারব। সেই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। করোনার সময় সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে, তা চলমান থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের রফতানি বেড়েছে। (চলতি অর্থবছরে) ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রফতানি করতে পেরেছি। অতিমারি মোকাবিলা করেও ৫০ বিলিয়নের ক্লাবে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে। এখন করোনাটা যখন কমে গেছে, আমাদের আমদানি বেড়েছে। এই আমদানি নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। আমরা বেশিরভাগই ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি করেছি। এগুলো স্থাপন ও চালু হলে দেশ লাভবান হবে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এটা করতে গিয়ে হয়তো আমাদের ডলারে কিছুটা টান পড়েছে, কিন্তু সেটি এখনো আশঙ্কাজনক স্থানে পৌঁছেনি। মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার জন্য আমরা সব পদক্ষেপ নিয়েছি।

মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সমন্বয়েরর জন্য টাকার মূল্যমান পুনঃনির্ধারণ করা হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে বিলাসবহুল পণ্য আমদানি যেন কম হয়, আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেসব দ্রব্য খুব একটা প্রয়োজন নেই, তা যেন আমদানি কম করেন— সবাইকে সেই আহ্বান জানাব।

দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে এখন বন্যা চলছে। দক্ষিণাঞ্চলে ভাদ্র মাসের দিকে (বন্যা) আসে। এই বন্যাও আমরা মোকাবিলা করতে পারব। পদ্মা সেতু এই বন্যা মোকাবিলায় সহায়তা করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ ক্ষতবিক্ষত। প্রাকৃতিক দুর্যাগ নিয়েই আমাদের চলতে হয়। দুর্যাগ মোকাবিলায় জাতির পিতা দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকার কাজ করে।

সর্বজনীন পেনশন চালুর কথা উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, আমরা এ প্রক্রিয়ায় অনেক দূর এগিয়েছি। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সবশেষ বৈঠকে এ আইনের অনুমোদন দিয়েছি। খুব শিগরিই সংসদে আইনটি উঠবে। আমরা তা কার্যকর করতে পারব। তাতে যারা পেনশন পাবেন, তাদের জীবনটা সুরক্ষিত হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আইনে আছে।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন