বিজ্ঞাপন

আরেফিন সিদ্দিকের ডক্টরেট ডিগ্রি নেই!

June 30, 2022 | 11:31 pm

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

সংসদ অধিবেশনে ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়াকে ‘রাজনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। শুধু তাই নয়, তিনি এমন অভিযোগও করেছেন— আরেফিন সিদ্দিকের কোনো ডক্টরেট ডিগ্রিই নেই!

বিজ্ঞাপন

আরেফিন সিদ্দিককে নিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদের শেষ অভিযোগটির কোনো সত্যতা মেলেনি। তাই তার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করছেন অনেকেই। আর প্রতিক্রিয়ায় আরেফিন সিদ্দিক বলছেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন ওই সংসদ সদস্য।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান কাজী ফিরোজ রশীদ। দেশব্যাপী শিক্ষকদের হত্যা, লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার বদলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগকে দায়ী করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়েই সাবেক ঢাবি উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিকের প্রসঙ্গ টানেন কাজী ফিরোজ রশীদ। বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কী হচ্ছে? এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, ‘ডাক্তার-প্রকৌশলী বানাচ্ছি, কিন্তু মানুষ বানাচ্ছি কতগুলো?’ দায়িত্ব তো উনিও এড়াতে পারেন না। উনি তো ঢাবির ভিসি ছিলেন। তার কোনো গবেষণা ছিল না। ডক্টরেট ডিগ্রি নেই, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পেয়েছেন। সমস্যাটা এখানে। যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে, সেই দলের শিক্ষকদের পদোন্নতি হবে। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় একশ্রেণির ছাত্রনেতারা মাস্তান হয়ে যায়।

আরও পড়ুন- শিক্ষাব্যবস্থা দলীয়করণের কারণে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন: বিরোধীদল

বিজ্ঞাপন

আরেফিন সিদ্দিকের ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদের এ অভিযোগটির সত্যতা নেই। ১৯৭৫ সালে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৮৬ সালে ভারতের মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন আরেফিন সিদ্দিক। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর পেশাগত প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

কাজী ফিরোজ রশীদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। উপাচার্যের দায়িত্বপালন করেছি। এর মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবকমণ্ডলী ও দেশবাসী অবশ্যই করবে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য আমি উপাচার্য থাকার সময় কিছু অনুরোধ নিয়ে এসেছিলেন, যা আমি রাখতে পারিনি।’

বিজ্ঞাপন

কী ‘অনুরোধ’ নিয়ে ফিরোজ রশীদ গিয়েছিলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য আমার অফিসে অনুরোধ নিয়ে এসেছিলেন। নানা কারণে তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সেসব বিষয়ে হয়তো তার মধ্যে ক্ষোভ কাজ করে থাকতে পারে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহম্মদও সমালোচনা করেন কাজী ফিরোজ রশীদের বক্তব্যের। সারাবাংলাকে তিনি বলেন, ‘একজন মাননীয় সংসদ সদস্য হিসেবে কাজী ফিরোজ রশীদ সাহেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্যারের বিষয়ে যে ঢালাও মন্তব্য করেছেন, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

বিজ্ঞাপন

ড. আবুল মনসুর বলেন, আরেফিন স্যার ভারতের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন। উনার অনেক গবেষণা কাজও রয়েছে। তাই এ ধরনের মন্তব্য করার পূর্বে তথ্য-উপাত্ত সঠিক কি না, তা যাচাই করে মন্তব্য করা উচিত।

কাজী ফিরোজ রশীদের বক্তব্যের সমালোচনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। অনলাইনে-অফলাইনে তারা বলছেন, ড. আরেফিন সিদ্দিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। উপাচার্য হিসেবে তিনি সফল ছিলেন কি না কিংবা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন কি না, এসব নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু তাই বলে তার একাডেমিক ডিগ্রি তো মিথ্যা হয়ে যায় না। জাতীয় সংসদে যখন কোনো সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখেন, তার অন্তত সঠিক তথ্য-উপাত্ত পরিবেশন করা উচিত।

সারাবাংলা/আরআইআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন