বিজ্ঞাপন

কলকাতাযাত্রায় সিয়ামের সঙ্গী নিজের গল্প

July 4, 2022 | 9:08 pm

আহমেদ জামান শিমুল

সিয়াম আহমেদকে যারা ব্যক্তিগতভাবে চিনেন তারা সবাই জানেন তিনি একজন ‘ফ্যামিলি ওরিয়েন্টেড’ মানুষ। তাই তো তিনি নিজের লেখা প্রথম সিনেমার গল্পও রেখেছেন এ জনরার। কলকাতার সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত ছবিটির নাম এখনও ঠিক হয়নি। পারিবারিক জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত যে সংকটের মুখোমুখি হই, তাই নিয়ে সিয়ামের লেখা গল্পের ছবির মূল কাহিনি।

বিজ্ঞাপন

‘এ গল্পটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি মাস দেড়েক ধরে। আর এ গল্পটার ভাবনা মাথায় এসেছে প্রথম কোয়ারেন্টাইনের (২০২০) সময়। ওই সময়ের ঘরবন্দী অবস্থায় প্রাথমিক একটা লাইন মাথায় কাজ করছিল, এরকম একটা প্লট হতে পারে। কারণ, আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তাহলে বলবো আমার ড্রামা বেইজড জনরা বেশ পছন্দের একটা জায়গা। সেটা যদি ফ্যামিলি বেইজড হয়, তাহলে আরও ভালো। কারণ আমি সে গল্পে বিশ্বাস করি। সে গল্পগুলো দেখাতে চাই, কাজ করতে চাই’, — বলেন সিয়াম আহমেদ।

ক. কোয়ারেন্টাইনের সময় যেহেতু গল্প মাথায় এসেছে, সেক্ষেত্রে কোনভাবে গল্পে করোনা মহামারীর ব্যাপার এসেছে কিনা? খ. তার অভিনীত ‘মৃধা বনাম মৃধা’ও পারিবারিক গল্পে নির্মিত। কলকাতার ছবিটির গল্প ভাবনায় কোনভাবে কি ‘মৃধা বনাম মৃধা’ প্রভাব ফেলেছে? সিয়ামের আগের কথার উপর ভিত্তি করে প্রশ্ন দুটি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

— “এ গল্পের সঙ্গে কোভিডের কোন সম্পর্ক নেই। এটি এ সময়ের গল্প। এমনও হতে পারে আগামী কয়েক বছর পরে আমরা কোনো ফ্যামিলি ক্রাইসিস ফেইস করি, অথবা নতুন কোন ক্রাইসিস ফেইস করি তখনকার একটা গল্প। তার মানে এ না যে সেটা কোন ন্যাচারাল ক্রাইসিস, সেটা মানুষের তৈরি ক্রাইসিস। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, ‘মৃধা বনাম মৃধা’ ছবিটি এ গল্প মাথায় আসার বেশ পরে করেছি।”

সিয়াম জানালেন, এ ছবির প্রযোজক বছর খানেকের বেশি সময় ধরে তাকে নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে পোষণ করে আসছিলেন। কিন্তু মনের মতো গল্প পাচ্ছিলেন না। তখন তিনি প্রযোজককে এ গল্পটি দেন। তারা গল্পটি লুফে নেন।

বিজ্ঞাপন

এ ছবিতে সিয়াম অভিনয় করবেন কলকাতার বেশ প্রভাবশালী নায়ক প্রসেনজিতের সঙ্গে। তিনি গল্পটি বেশ পছন্দ করেছেন। সাধারণত তার মতো শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে গেলে নার্ভাসনেস কাজ করে। তবে এখনই বলতে পারছেন না সিয়াম। তিনি বলেন, ‘সেটা হয়তো অভিনয় করার সময় বলতে পারবো। গল্পটা যখন মাথায় ছিল, তখন উনি যে কাজটা করতে রাজি হবেন সেটা মাথায় ছিল না। আমরা শুধু জানতাম আমাদের একজন শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী প্রয়োজন। প্রসেনজিত স্যার তো নিজেই তো একটা সাইনবোর্ড, একটা ব্র্যান্ড—কলকাতার ইন্ডাস্ট্রির জন্য। নার্ভাসের চেয়ে আমি অনেক বেশি এক্সসাইটেড।’

প্রসেনজিতের মতো তারকা যখন কোন ছবিতে থাকে তখন অন্যদের চরিত্রের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশংকা থেকে যায়। সেক্ষেত্রে বলা যায়, সিয়াম আহমেদ ঝুঁকি নিলেন। “তাহলে সে ঝুঁকি তো আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিয়েছি। আমার সবশেষ ছবি ‘পাপ পুণ্য’ ছবিটিও মাল্টিস্টারার। আমি বিশ্বাস করি, কোন ছবিতে যখন বড় পারফর্মার থাকে তখন নিজের লেভেলটাও আপ করতে হয়। সেটার জন্য যদি কেউ লাভবান হয়, তাহলে সিনেমায় লাভবান হয়। আপনার প্রশ্নের পিন পয়েন্টে বলি, এ ধরনের চিন্তাভাবনা থেকে কাজ করতে আসেনি— আমার স্ক্রিণ প্রেজেন্স কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, কত সময় আমাকে দেখাবে”,— সোজাসাপ্টা জবাব সিয়ামের।

বিজ্ঞাপন

কলকাতায় এর আগে বাংলাদেশের নায়ক রাজ রাজ্জাক, আলমগীর, অঞ্জু ঘোষ, ফেরদৌস বেশ শক্তভাবে রাজত্ব করেছেন। বর্তমানে তো জয়া আহসানের জয়জয়কার। সিয়ামের এ ধরণের ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে মৃধু হেসে বলেন, ‘কখনই না। আল্লাহ্‌ আমার ভাগ্যে যদি রাখেন, আমি পরিশ্রম করলে সেটা পাবো। উনি আমার জন্য কী রেখেছেন, আমরা কাজ কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে সেখানে—সবকিছুই কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। আমার হাতে থাকা প্রজেক্টটা আগে মন দিয়ে করতে চাই। অন্য কিছু চিন্তা করতে চাই না।’

ছবিটির চিত্রনাট্য তৈরি করছেন পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। আগামী আগস্টে ছবির শুটিং হবে। সিয়াম আহমেদ, প্রসেনজিত ছাড়া এ ছবিতে আরও অভিনয় করবেন শ্রাবন্তী ও আয়ূষী। প্রযোজনায় আছে শ্যাডো ফিল্মস ও রোডশো ফিল্মস।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এজেডএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন