বিজ্ঞাপন

অসাম্প্রদায়িক পাঠ্যক্রম, সাংস্কৃতিক বিপ্লব— প্রয়োজন উভয়ই

July 4, 2022 | 10:28 pm

জহিরুল হক বাপি

একের পর এক শিক্ষক হামলা, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নিজ শিক্ষার্থীর হাতে প্রাণও খুইয়েছেন এক শিক্ষক। একটু খেয়াল করলে দেখবেন, যতজন শিক্ষকের ওপর হামলা হয়েছে তারা প্রত‍্যেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বী।

বিজ্ঞাপন

দিনের পর দিন দেখেছি, প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। কিন্তু বারবার হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনার পরও শিক্ষক সমাজ কোনো কর্মসূচি দেয়নি। এ পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, আমাদের শিক্ষক সমাজ কি চায় যে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কেউ শিক্ষকতায় না থাকুক?

বানোয়াট অভিযোগ তুলে বারবার হিন্দুদের মারধর, নাজেহাল করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার তেমন কোনো ব‍্যবস্থা নেয়নি। উল্টো হিন্দুদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে অনেক ঘটনায়।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ভারতে একজন দর্জিকে একজন মুসলিম শিরচ্ছেদ করে হত‍্যার ঘটনায় মোদি সরকার ১৪৪ ধারা জারিসহ বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে, যেন কোনো ধরনের দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি না হয় কিংবা মুসলিমদের ওপর কোনো ধরনের অত‍্যাচার-আক্রমণ যেন না হয়। এ কারণেই সেখান থেকে কোনো মুসলিমকে নিজ দেশ ছেড়ে পাকিস্তান বা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিতে হয়নি।

এর অনেকটাই বিপরীত চিত্র দেখা যায় বাংলাদেশে। কিছুদিন পরপরই হিন্দুদের ওপর হামলা-আক্রমণ চলছে। বলা যায়, নিয়মিতই এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। আর তাতে চক্রব‍ৃদ্ধি হারে ভারত চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

বিজ্ঞাপন

২.

এই লেখাটি এমন একটি সময়ে লিখছি, যখন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচন করেছে সরকার। এই পদ্মা সেতু বাঙালির এক বিজয়গাঁথা। একটি সেতু নির্মাণ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে এমন ষড়যন্ত্র আর আছে বলে জানা নেই। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য এই সেতু নির্মাণ ছিল বড় চ‍্যালেঞ্জ। দেশপ্রেমিক বাঙালির জন্যও পদ্মা সেতু ছিল একটি চ‍্যালেঞ্জ। এই যুদ্ধে বাঙালির জয় হয়েছে। আওয়ামী লীগ সফল হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কেবল পদ্মা সেতু নয়, সরকার ধারাবাহিকভাবে নানা ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশ আর্থিকভাবে সাবলম্বী হয়েছে। দারিদ্র্য কমেছে। এখন আর কাউকে অভাবের কারণে না খেয়ে থাকে না। জীবনযাত্রার সুবিধার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, হচ্ছে। বিদ‍্যুৎ এখন ঘরে ঘরে। কিন্তু আমরা ডুবে গেছি অন‍্যরকম গাঢ় এক অন্ধকারে।

আমাদের আত্মিক আলো একেবারেই নিভে যেতে শুরু করেছে। কিশোর, তরুণ, যুবক, এমনকি মধ্যবয়স্ক মগজেও চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী সফলভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছে গভীরতম সাম্প্রদায়িকতা, ঘৃণা, বিদ্বেষ। নির্দিষ্ট গোষ্ঠীটি এসব করেছে প্রকাশ‍্যেই। তারা দারুণভাবে সফলও।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো— অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক-বাহক মানুষদের কাছে আওয়ামী লীগ ভরসার জায়গা হলেও এই মৌলবাদী গোষ্ঠীটি সেই আওয়ামী লীগেও জায়গা করে নিয়েছে। মাঝে মাঝে ছাত্রলীগ, যুবলীগের কিছু পদধারীর ফেইসবুক পোস্ট দেখে মনে হয়— এরা জামায়াত বা হেফাজতে ইসলামের পদধারী কিংবা বাংলা ভাইয়ের শিষ‍্য!

৩.

যা হওয়ার, হয়ে গেছে। হা-হুতাশ করে লাভ নেই। এখন দরকার মৌলবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে দ্বিমুখী আক্রমণ। একদিকে একডেমিক পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হবে, যোগ করতে হবে অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার উপকরণ; অন্যদিকে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক বিপ্লব যা মানুষকে উদারনৈতিক অবস্থান নিতে শেখাবে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার সহাবস্থানের বাণীতে অন্তরে প্রোথিত করবে।

সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পকে দূরে ফেলে দিয়ে অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে না পারলে আওয়ামী লীগ দেশের অবকাঠামোগত যত উন্নয়নই করুক না কেন, সেসব উন্নয়নের সফলতা ম্লান হয়ে পড়বে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের যে সমান অধিকার— সেই চেতনাকে সামনে রেখেই বাঙালি জাতির স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ সেই চেতনাকে লালন করতে না পারলে সেটি সেই জাতির পিতার দল আওয়ামী লীগেরই পরাজয় ঘটবে।

লেখক: চলচ্চিত্র নির্মাতা লেখক

প্রিয় পাঠক, লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই ঠিকানায় -
sarabangla.muktomot@gmail.com

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব, এর সাথে সারাবাংলার সম্পাদকীয় নীতিমালা সম্পর্কিত নয়। সারাবাংলা ডটনেট সকল মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মুক্তমতে প্রকাশিত লেখার দায় সারাবাংলার নয়।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন