বিজ্ঞাপন

‘হাজারটা পদ্মা সেতু করেও লাভ হবে না’

July 5, 2022 | 4:46 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গণতন্ত্র অবরুদ্ধ রেখে হাজারটা পদ্মা সেতু করেও কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্ যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘দেশের জনগণ আমাদের পাশে থেকে বার বার ভোট দিচ্ছে। আমাদের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আছে’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন দিয়ে দেখুক না উনাদের প্রতি কতটুকু আস্থা আছে? হাজারটা পদ্মা সেতু করেও কোনো লাভ হয় না।’

বিজ্ঞাপন

‘জনগণের রাজনৈতিক মুক্তি যদি না হয়, জনগণ যদি গণতন্ত্র না পায়, গণতন্ত্র যদি না থাকে, তার অধিকার যদি না থাকে, তার ভোটাধিকার না থাকে, সেখানে কিন্তু কোনো লাভ হয় না’- বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘ভোট দিচ্ছে কোথায়? মানুষ ভোট দিতে পারছে কোথায় যে, জনগণের আস্থাটা গ্রহণ করছেন তিনি (প্রধানমন্ত্রী)? তিনি তো কাগজে-কলমে সিল মেরে আগের রাত্রে ভোট দিচ্ছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের মতো আর কি।’

বিজ্ঞাপন

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটা নির্ভর করবে নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হবে কি না তার ওপর। যদি নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হয় তাহলে আমাদের অংশগ্রহণ অবশ্যই দৃশ্যমান হবে। আর যদি না হয়, অংশগ্রহণ দৃশমান হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্ট করে বলেছি, বাংলাদেশে যদি একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হয় তাহলে এখানে অবশ্যই নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার থাকতে হবে। নির্দলীয় সরকার না থাকলে একেবারে স্বর্গ থেকে নির্বাচন কমিশনার নিয়ে এলেও নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারবেন না।’

বিজ্ঞাপন

সরকার দুর্গতদের পাশে নেই অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার বন্যা কবলিত এলাকায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। বানভাসি মানুষের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকারের কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান নয়।’

জনশুমারি-গৃহগণনা সমীক্ষা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ সঠিকভাবে হয়নি বলে পরিকল্পনামন্ত্রীর স্বীকারোক্তি থেকে বুঝা যায় কি অবস্থা। প্রকৃতপক্ষে জনশুমারি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই সরকারের আমলে সবধরনের সমীক্ষা জরিপ এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী হওয়ায় প্রকৃত তথ্য কখনোই পাওয়া সম্ভব হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে এবং বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্য, দেশের উন্নয়ন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করার জন্যই সরকার এই ধরনের নীতি বিবর্জিত কার্য্কলাপ করে চলেছে। ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের কোনো তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। বিএনপি সঠিক পদ্ধতিতে প্রকৃত জনশুমারি ও গৃহগণনার ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছে।’

সমাজে নীতি-নৈতিকতার চরম অবক্ষয় হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সাভারে স্কুল শিক্ষক হত্যার ঘটনা, নড়াইলে অধ্যক্ষকে অপমানসহ সারাদেশে সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্রে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এই বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। সভা মনে করে, এই অনির্বাচিত সরকোরের কোনো দায়বদ্ধতা না থাকায় সমাজের সকল পর্যায়ে নীতি-নৈতিকতা চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে।’

লোডশেডিং প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রচণ্ড লোডশেডিং হচ্ছে- এটা ভয়াবহ। সরকারের শতভাগ বিদ্যুতের যে কথা সেগুলো বাকসর্বস্ব কথা। এগুলো (কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট) করার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে দুর্নীতি করা। এসব করে নিজেদের পকেট ভারি করা, বিদেশে গিয়ে বাড়ি-ঘর তৈরি করা। এখন এটা প্রমাণ হচ্ছে যে, আমরা যেটা বলে আসছিলাম আলটিমেটলি দেখা যাবে যে, সবই একেবারে ভঙ্গুর অবস্থা। সেই ভঙ্গুর অবস্থার দিকেই আমরা চলে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ইডিএফ’ না দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সরকারের শীর্ষ মহলের ঘনিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলারের ঋণ দেওয়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক শূন্য দুই বিলিয়ন ডলার। ওই ধরনের প্রায় সবটাই (ফোর্সডলোন অধিকাংশই রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকের) পর্যবসিত হয়েছে। আইএমএফ এই ধরনের ঋণের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অন্তর্ভুক্ত না করতে বলেছে। এই সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার অবয়বে আর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই বলললেই চলে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার অর্থনীতির সব নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করে, রিজার্ভের সব বিধি ভঙ্গ করে শুধুমাত্র নিজেদের ঘনিষ্ঠ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লাভবান করার জন্য রাষ্ট্রের এই ভয়াবহ ক্ষতি করে চলেছে। ইডিএফ ঋণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করে বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, ব্যবসা, স্থাপনা তৈরি করে দেশের অর্থনীতির ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করছে।’

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন