বিজ্ঞাপন

আইনজীবীর ফি ১২ কোটির বেশি: তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

July 6, 2022 | 7:25 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুতদের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকার বেশি ফি নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৬ জুলাই) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আশরাফুল ইসলাম এ রিট দায়ের করেন। রিটে আইন সচিব, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বার কাউন্সিল সচিব ও আইনজীবী ইউসুফ আলীকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট দায়েরের বিষয়টি সারাবাংলাকে নিশ্চিত করে আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, বার কাউন্সিলের আইনে ফি নেওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

আইনে বলা আছে, একজন আইনজীবীকে সৎ, নীতিবান ও দেশপ্রেমিক হতে হবে। আইনজীবীকে ফি নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ চুক্তি করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মামলায় জেতার পর বিচার্য মামলার সম্পত্তি বা সম্পত্তির অংশবিশেষ ফি হিসেবে নেওয়া যাবে না। ফি নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনজীবী আলাদা চুক্তি করবেন। এ ছাড়া মামলার বাদী ও বিবাদীকে নিয়ে আইনজীবী কোনো অসম্মানজনক বক্তব্য দিতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, এ মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুতদের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকার বেশি ফি নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চাওয়া হয়েছে রিটে। পাশাপাশি আইনজীবী বার কাউন্সিল রুলস সঠিকভাবে অনুসরণ করেছেন কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। রিটে এসব বিষয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

তবে রিট দায়েরের পর এ বিষয়ে যে আইনজীবীর বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকার বেশি ফি নেওয়ার অভিযোগ সেই আইনজীবী ইউসুফ আলী বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে রিট করার প্রয়োজন ছিল না। কারণ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালত শুনবেন। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা আছে। তারপরেও রিট করেছেন। করতে পারেন। এ বিষয়ে যে কারো স্বাধীনতা আছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ৩ জুলাই গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুতদের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকার বেশি ফি নেওয়ার কথা ‘পরোক্ষভাবে’ স্বীকার করেছেন আইনজীবী ইউসুফ আলী।

তিনি বলেছেন, সমঝোতা করে নয়, মামলায় মুহাম্মদ ইউনূসকে পরাজিত করে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের ৪৩৭ কোটি টাকা আদায় করে দিয়েছি। সেখান থেকে মোটা অংকের ফি ক্লায়েন্টরা আমাকে দিয়েছেন। ৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

৩০ জুন গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানিতে রিটকারীদের আইনজীবীকে ১২ কোটি টাকার বিনিময়ে সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে হাইকোর্ট। পরে গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পাওনা বকেয়া টাকার মধ্যে কে কত টাকা পেয়েছেন, সে বিষয়ে আগামী ২ আগস্ট তথ্য দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ওই দিন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছেন, শুনেছি শ্রমিকদের আইনজীবীকে অর্থের বিনিময়ে হাত করে তাদের মামলায় আপস করতে বাধ্য করা হয়েছে।

হাইকোর্ট বলেন, আদালতকে ব্যবহার করে অনিয়ম যেন না হয়ে থাকে। যদি সবকিছু আইন অনুযায়ী না হয় তবে বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখা হবে। আমি চাই না কোর্ট এবং আইনজীবীর সততা নিয়ে যেনো কোনো প্রশ্ন উঠুক।

এ সময় আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে আরও বলেন, বাংলাদেশ কেন, উপমহাদেশের এমন কোনো আইনজীবী জন্ম নেয়নি যার ফিস ১২ কোটি টাকা হবে।

এক পর্যায়ে আদালত গ্রামীণ টেলিকমের আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কত টাকা ফিস নিয়েছেন? তখন আইনজীবী বলেন, আমি ২০ লাখ টাকা নিয়েছি। আদালত বলেন, আপনি তো ২০ লাখ নিয়েছেন, কিন্তু চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের আইনজীবী কীভাবে ১২ কোটি টাকা নেন। এরপর শ্রমিকরা কে কত টাকা পেয়েছেন তার তালিকা দাখিলের জন্য ২ আগস্ট দিন ধার্য করে দেন আদালত।

আদালতে গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। শ্রমিকদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইউসুফ আলী।

প্রসঙ্গত, মামলা প্রত্যাহারের শর্তে গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুত ১৭৬ জন শ্রমিকের পাওনা বাবদ ৪৩৭ কোটি টাকায় সমঝোতা করে গ্রামীণ টেলিকম। ৭ ফেব্রুয়ারি শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য পাওনাদি আদায়ের লক্ষ্যে গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন (মামলা নং-২৭১/২০২১) করা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে এ আবেদন দায়ের করা হয়।

সারাবাংলা/কেআইএফ/একেএম

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন