বিজ্ঞাপন

রাজধানীতে জমজমাট পশুর হাট, বাড়তে শুরু করেছে বিক্রি

July 7, 2022 | 10:51 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কোরবানির ইদ যতই এগিয়ে আসছে ততোই জমজমাট হয়ে উঠছে রাজধানী ঢাকার পশুর বাজার। শুরুতে হাটে ক্রেতা কম থাকলেও এখন ক্রেতা সমাগত বেশ ভালো। বাজারে পর্যাপ্ত পশু থাকায় এবছর দাম নিয়েও অভিযোগ নেই কোনো পক্ষের। তবে এখন বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা ব্যাপক। চাহিদা রয়েছে ছাগল ও খাসিতেও। এছাড়াও এবছর মহিষের চাহিদাও বেশ ভালো বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

বিজ্ঞাপন

হাজারীবাগের গরুর হাটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এই হাটটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা সংকুচিত হয়ে এলেও এখানে পশুর বিক্রি অনেক বেড়েছে। কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকার খামারগুলো থেকে গরু ও মহিষ নিয়ে এসেছেন খামারিরা। এছাড়াও পাশের গ্রামগুলো থেকে এসেছে প্রচুর ছাগল, ভেড়া ও খাসি। এই বাজারে এই তিনটি প্রাণীর চাহিদাই তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে গরুও বিক্রি হচ্ছে ভালো।

হাজারীবাগ বাজারে নিজের পালা ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন নরসিংদীর ব্যবসায়ী শানু মিয়া। সারাবাংলাকে তিনি জানান, ভালো দামের আশায় গরুগুলোকে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন তিনি। কয়েক বছর ধরে গরুগুলোকে লালন-পালন করেছেন তিনি। এই ব্যাবসায়ী বলেন, ‘দুটি গরু বিক্রি করেছি। দুই দিনের মধ্যে বাকিগুলোও বিক্রি হয়ে যাবে। এবার যে দাম পাওয়া যাচ্ছে তাতে আমি খুশি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘গরুগুলো খোলা মাঠে চড়ে বড় হয়েছে। ঘাস খেয়েছে আর খড় খেয়েছে। বাজারে এই ধরনের গরুর আলাদা রকমের চাহিদা রয়েছে।’

নেত্রকোনা থেকে ৭টি গরু নিয়ে এসেছেন সালাম শেখ। তিনি বলেন, ‘ট্রাকে করে গরুগুলোকে ঢাকায় আনতে কয়েক জায়গায় টাকা দিতে হয়েছে। তবে ঢাকায় ঢোকার পর আর তেমন কোনো অসুবিধা হয়নি। আমি এখনও একটা গরুও বিক্রি করিনি। তবে আশা করছি চাঁদ রাতের আগে সব বিক্রি করে ফেলবো।’

বিজ্ঞাপন

এই দুই বিক্রেতা যে গরু নিয়ে এসেছেন সেগুলো মাঝারি আকৃতির গরু। তবে হাজারীবাগ বাজারে এবছর চোখ আটকে যাওয়ার মতো বড় গরুও এসেছে বেশ কয়েকটি। এসব গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। ইজারাদার জামিল মিয়া জানাচ্ছেন, ১০ লাখে এই বাজারে দু’টি গরু বিক্রি হয়েছে। তবে বেশি দামের গরুগুলো আজকে (বৃহস্পতিবার) থেকে বিক্রি বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

রাজধানীতে জমজমাট পশুর হাট, বাড়তে শুরু করেছে বিক্রি

বিজ্ঞাপন

ঢাকায় এবছর হাজারীবাগ ছাড়াও আরও ১৮টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এসব হাট ব্যবস্থাপনা করছে ঢাকা উত্তর আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। বেশ কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, এবার প্রায় সব বাজারের চিত্রই প্রায় একইরকম। দামেও তেমন পার্থক্য চোখে পড়েনি। অনেকে আবার মহল্লায় ঘুরে ছাগল, খাসি ও ভেড়া বিক্রি করছেন। এসব এলাকায় আবার বাজারের তুলনায় দাম কম।

এদিকে এবার গো মাংসের দাম খুব একটা টালমাটাল না হলেও গো-খাদ্যের দাম বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, ‘বন্যার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে পশুর খাবার আসছে না। বিশেষ করে ঘাস আর খড়ের সরবরাহ এবার বেশ কম। একারণে অনেকেই আগে ভাগে পশু কিনছেন না।’

বিজ্ঞাপন

বিক্রেতারা বলছেন, শুরুতে বিক্রি কম থাকার এটা একটা কারণ, তবে আজকে বিক্রি বেড়েছে। এটা আরও বাড়বে। দামও আরেকটু বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরুর দাম বিক্রি বাড়লে বাড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

গো খাদ্যের মধ্যে প্রতি কেজি ভুট্টার ভুসি ৭০ টাকা, গমের ভুসি ৫০ টাকা, খেসারির ভুসি ৮০ টাকা, ছোলার খোসা ৬০ টাকা, ধানের তুষ কেজি ২৫ টাকা, ঘাস এক আঁটি ৫০ টাকা ও ধানের খড় আঁটিপ্রতি ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, শুধু মাত্র ঢাকায় কোরবানির পশুর চাহিদা ২৫ লাখের বেশি। সরকারি ও বেসরকারি হিসাবে গত বছর সারা দেশে কোরবানি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ পশু। চলতি বছর দেশের বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু। এজন্য, সরকার বলছে পশুর চাহিদা বাড়লেও এবছর কোনো ঘাটতি হবে না।

এদিকে হাজারীবাগের পাশে রহমতগঞ্জ ও নয়াবাজারেও দু’টি পশুর হাট বসিয়েছে সিটি করপোরেশন। রহমতগঞ্জে খেলার মাঠের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, গরু ওজন দিয়ে বিক্রি করেছেন অনেক বিক্রেতা। বিক্রেতারা বলছেন, প্রতি মণ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধরে দাম নির্ধারণ করছেন বিক্রেতারা।

রহমতগঞ্জ মাঠে বাজার সংকুলান না হওয়ায় রাস্তায়ও গরু নিয়ে দাঁড়িয়েছেন অনেক বিক্রেতা। এ বিষয়ে ইজারাদার হাজী শরিফ মাহমুদ বলেছেন, ‘হাটের টেন্ডার নেওয়ার সময় বলা আছে, মাঠ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পশুর হাট বসানো যাবে। এটার অনুমতি নেওয়া আছে। পুরান ঢাকার নয়াবাজারের হাটেরও চিত্র একইরকম। সেখানেও আজ থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা এবং বিক্রি বেড়েছে।’

এসব হাটে গরু ছাগলের বাইরেও উট ও দুম্বা নিয়ে এসেছেন কয়েকজন বিক্রেতা। উটের দাম ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। দুম্বার দামও লাখের উপর চাইছেন অনেক খামারি। তবে এই দুটি প্রাণির দরদাম বেশি হলেও বিক্রি কম। এই তিন বাজারে মাত্র এই কদিনে কেবল একটি উটই বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা। সেটাও মাত্র ১৭ লাখ টাকায়।

এবছর ঢাকায় যেসব হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে সেগুলো হলো- গাবতলী, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ পর্যন্ত এলাকার খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের অবস্থিত বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, ভাটারা (সাইদনগর) পশুর হাট, কাওলা শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন খালি জায়গা, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৩০০ ফিট সড়কসংলগ্ন উত্তর পাশের সালাম স্টিল ও যমুনা হাউজিং কোম্পানির এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীনের খালি জায়গা এবং মোহাম্মদপুর বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তাসংলগ্ন খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আবাসিক এলাকা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনালসংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার মৈত্রী সংঘের ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, হাজারীবাগ এলাকায় ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি মাঠসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, লালবাগের রহমতগঞ্জ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ডসংলগ্ন খালি জায়গা, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন খালি জায়গা ও কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের এলাকা এবং পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গায়।

সারাবাংলা/টিএস/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন