বিজ্ঞাপন

রাজা বাবু ও ডিপজলের ক্রেতা নেই

July 7, 2022 | 10:43 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজা বাবু ও ডিপজলের প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা নেই রাজধানীর শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী কোরবানির গরুর হাটে। এরইমধ্যে এই হাটের সবচেয়ে বড় গরু হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে জামালপুরের ‘রাজা বাবু’ এবং ঝিনাইদহ জেলা থেকে আসা ‘ডিপজল’ নামের বিশালাকার দুইটি গরু। গত দুই/তিন দিন ধরে গরু দুইটিকে দেখতে মানুষ ভীড় করলেও দাম বেশি হওয়ায় কিনতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কোনো ক্রেতা।

বিজ্ঞাপন

এই নিয়ে হতাশ প্রকাশ করছেন জামালপুর জেলার ইসলামপুর থেকে আসা ‘রাজা বাবু’র মালিক আবদুল জলিল ও ডিপজলের মালিক মো. শাহীন মিয়া।

বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) রাজধানীর শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী কোরবানির গরু হাট সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

‘রাজা বাবু’ এ হাটের সবচেয়ে বড় গরুটি জামালপুর জেলার ইসলামপুর থেকে নিয়ে আসছে আবদুল জলিল ব্যাপারী। তিনি গরুটি সম্পর্কে বলেন, ‘রাজা বাবুর বয়স সাড়ে চার বছর। সখ করে একে সন্তানের মতো লালন পালন করেছি। আদর করে রাজা বাবু নাম দিয়েছি। একে নিয়মিত গম, খেসারী, ভুট্রা, ছোলা, বাদামের পাশাপাশি ভাত খাওয়ানো হয়। গরুটির পেছনে সাড়ে চার বছরে ৬/৭ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে।’

জলির ব্যাপারী বলেন, ‘আমার নিজের অস্ট্রেলিয়ান গাভি থেকে গরুটির জন্ম। রাজা বাবুর মা মা প্রতিদিন ১৭/১৮ কেজি দুধ দেয়। তার আরও দুইটি ভাইবোন রয়েছে। রাজা বাবুকে গত বছর রাজধানীর রামপুরা হাটে নিয়ে আসছিলাম। তখন ৫ লাখ টাকা দাম ওঠায় বিক্রি না করে বাড়ি নিয়ে যাই। গত এক বছরে এই গরুর পেছনে দেড়/দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এবার ১২ লাখ টাকা দাম চাচ্ছি ১০ লাখ টাকা হলে বিক্রি করব। কিন্তু এখন পর্যন্ত দাম উঠেছে ছয় লাখ।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘শখ করে পালন করা এই রাজা বাবুকে ঢাকায় এনে আমি হতাশ হয়ে পড়ছি। কারণ প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা পাচ্ছি না। গরুটি শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারব কি না আল্লাহ ভালো জানেন।’

তিনি বলেন, ‘৩০ মণ ওজনের গরুটির পেছনে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়েছে। বেশিরভাগ লোকজন গরুটিকে দেখতে আসে। মাঝে মাঝে দুই একজন ক্রেতা গরুটির দাম জিজ্ঞাসা করলেও ১২ লাখ টাকার কথা শুনে তারা কোনো দাম না বলেই চলে যাচ্ছেন।’

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ডিপজল এর মালিক মো. শাহীন মিয়া। তিনিও ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলা থেকে গরুটি শাহজাহানপুর কোরবানির হাটে নিয়ে আসেন। চার বছর বয়সী ডিপজলের দাম চাইছেন ১০ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত দাম চার লাখ টাকা উঠেছে। তবে শাহীন বলছেন ৭ লাখ টাকার কম হলে তিনি গরুটি বিক্রি করবেন না।

তিনি বলেন, ‘গরুটি অমার গাভির বাচ্চা থেকে লালন-পালন করে বড় করেছি। গরুটির ওজন ২০ মণ, প্রতিদিন গরুটি ১০ থেকে ১৫ কেজি ভূসি খাওয়ানো হয়। এ ছাড়াও ভাত, বাদাম, খড় ও ঘাস খাওয়ানো হয়। গরুটির পেছনে দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী দাম পাব বলে মনে হচ্ছে না।’

বিজ্ঞাপন

বাজারে বড় গরুর চাহিদা নেই বলেও তিনি জানান।

এদিকে শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি কোরবানির হাটে প্রচুর গরু উঠলেও সে তুলনায় ক্রেতা নেই বললেই চলে। অধিকাংশ ক্রেতা এসে গরু দাম জিজ্ঞাসা করলেও নিজেরা কোনো দাম বলছেন না। ফলে গত দুই দিনে গরু বিক্রির পরিমাণ খুবই কম বলে জানিয়েছেন হাটের আয়োজক ও গরু ব্যাপারীরা। তাদের অভিমত রাজধানীতে সাধারণ ঈদের আগের দুইদিন মোট গরুর ৮০ শতাংশ বিক্রি হয়। ফলে এখনও তারা হতাশ না।

গত দুইদিনে ৫০০টির মতো গরু বিক্রি হয়েছে জানিয়ে হাট আয়োজকরা বলেন, ‘এক্ষেত্রে ৮০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দামের গরুর চাহিদা বেশি। ক্রেতারা সাধারণত ১ লাখ টাকার কম দামের গরু কিনতে বেশি অগ্রহী।’

এ ব্যাপারে শাহজাহানপুর হাটের হাসিলের টাকা উত্তোলনকারী মো. আবদুল মালেক বলেন, ‘আমাদের বাজারে পরিবেশ বেশ ভালো। ফলে সারাদেশ থেকেই প্রচুর গরু আসছে। বর্তমানে বাজারে সাত থেকে আট হাজার গরু রয়েছে। কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা দামের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে এখন পর্যন্ত আমার কাউন্টারে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের ১টি গরুর হাসিল নিয়েছি। হাসিলের রেট সম্পর্তে তিনি জানান এটি সিটি করপোরেশন থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে হাজারে ৫০ টাকা।’

অন্যদিকে জামালপুর থেকে গরু নিয়ে আসছেন এমন একজন ব্যাপারী মো. আনিস সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি ১৫টি গরু নিয়ে এই হাটে আসছি। গত দুইদিনে তিনটি গরু বিক্রি করেছি। এর মধ্যে এখন একটা গরু বিক্রি করেছি ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু এই গরুটি আমার কেনা ছিল এক বছর আগে ৫০ হাজার টাকা। ফলে আমার কোনো লাভ হয়নি। ভাবছিলাম ৮৫/৯০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব। কিন্তু ক্রেতা কম থাকায় গরুর চাহিদা নেই।’

সারাবাংলা/জিএস/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন