বিজ্ঞাপন

হাজারীবাগের পশুর হাট প্রায় শূন্য

July 9, 2022 | 7:04 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর হাজারীবাগ বাজার-সংলগ্ন কোরবানির পশুর হাট প্রায় গরু শূন্য হয়ে পড়েছে। এই গরুর হাটে কদর বেশি ছিল মাঝারি গরুর। মাঝারি ও ছোট গরুর বিক্রি প্রায় শেষ বললেই চলে। যা বিক্রির অপেক্ষায় আছে তা কেবল বড় কিছু গরু। তবে গরুর দাম না চড়া না কম হওয়ার কারণে গরু মালিক বা বেপারী শেষ বেলায় লাভের আশায় বেচা বিক্রির ঝুঁকি না নিয়ে শনিবার রাতেই ইদ করতে গরু বিক্রি করে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছেন। আর গরুর হাটের ‘মাঝ বাজারে’ যারা গরু বিক্রি করেছেন তারাই কেবল লাভের মুখ দেখেছেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে দুইটা পর্যন্ত হাজারীবাগ গরুর হাটে গরু বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যার পর হাজারীবাগ হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরুর চাহিদা বাড়লে ঝোঁপ বুঝে কোপ মেরে গরুর বিক্রির ফায়দা ঘরে তোলার আশায় ছিলেন ক্রেতারা। হাটে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি এটি বুঝেই বিক্রেতারা শনিবার রাতেই নিজেদের গরু বিক্রি করে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

হাজারীবাগ পশুর হাট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হাটে এখন পর্যন্ত পশুর আমদানি পর্যাপ্ত। মূলত কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, রংপুর, রাজবাড়ী,নওগাঁ, রাজশাহী থেকে ব্যাপারীরা এই হাটে গরু নিয়ে এসেছেন। গত কয়েক দিন গরুর দাম সন্তোষজনক ছিল।

হাজারীবাগ হাটে শফিক ট্যানারির মোড় থেকে বাঁ দিকের খলিল সরদার মসজিদ, সেখান থেকে ডান দিকের বাজার হয়ে আশপাশের ছোট-বড় রাস্তায় হাট বসানো হয়েছে। রাস্তার ওপরে কোথাও দুই এবং কোথাও কোথাও চার সারি পর্যন্ত পশু বেঁধে রাখা হয়েছিল। যা আজ প্রায় ফাঁকা ছিল।

বিজ্ঞাপন

প্রচণ্ড গরমের কারণে হাটা আসা ক্রেতা বিক্রেতাদের চোখেমুখে গরমের চেহারা লক্ষ করা গেছে। রাস্তার ওপর কোথাও গোবর, খড়কুটাসহ আবর্জনা চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে।

মেহেরপুর থেকে আসা গরু ব্যাপারী রবিউল আলম হাটে ৬২টি ছোট ও মাঝারি গরু নিয়ে এসেছিলেন। আজ পর্যন্ত তিনি দুইটি বাদে সব গরু বিক্রি করেছেন। তিনি এখনো আশাবাদী শনিবার (৯ জুলাই) রাতের মধ্যে বাকিগুলোও বিক্রি করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়া থেকে হাটে ১৩ টি গরু এনেছিলেন লিটন বেপারী। দুপুর দেড়টার দিকে একটি বড় গরু বাদে তিনি সব গরু বিক্রি করে ফেলেছেন। তার সঙ্গে কথা হয় চায়ের স্টলে। তিনি বলেন, ‘শেষ দুইটা ছিল একটা মাঝারি সাইজের গরু ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিলাম। এই গরুতে আমার কমপক্ষে ১৯ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। আর শেষ যে বড় গরুটা দেখছেন, এটা কমপক্ষে চার লাখ না হলে এবারও বেচব না। গত বছরও হাটে এনেছিলাম, দাম আড়াই লাখ পর্যন্ত করেছিল বিক্রি করিনি।

তিনি বলেন, ‘এবার তিন লাখের উপরে দাম করছে না। কিন্তু আমি চার লাখ বা তার একটু কম ছাড়া বিক্রি করমু না। প্রয়োজনে বাড়িতে নিয়ে যাব।’

বিজ্ঞাপন

টানা কয়েক বছর করোনা মহামারী ও বন্যার কারণে গরুর বাজারে কোন প্রভাব পড়ছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল আলম নামে হাটে আসা এক বিক্রেতা জানান, ‘হ্যাঁ, এটার তো কিছুটা প্রভাব আছেই। এ কারণে আমরা অনেকেই ছোট ও মাঝারি গরু কোরবানি দিচ্ছি।’

ঢাকায় এবছর হাজারীবাগ ছাড়াও আরও ১৮টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এসব হাট ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ঢাকা উত্তর আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন