বিজ্ঞাপন

১৫০০ পরিবারের মুখে হাসি ফোটালেন বিথী

July 11, 2022 | 12:20 pm

রাব্বি হাসান সবুজ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

রংপুর: আরিফা জাহান বিথী। ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে খেলেছেন। তবে ২০১৭ সালে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে ইতি টানেন পেশাদার ক্রিকেট থেকে। পরে রংপুর ফিরে এসে বিনামূল্যে ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামে নারীদের জন্য উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি নামে প্রশিক্ষণ একাডেমি গড়ে তোলেন বিথী। সেখানে ২৫০ জন নারী বিনামূল্যে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এর বাইরেও রংপুরের বিথীর আরেকটি পরিচয় আছে। ক্রিকেটারের বাইরে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। দেশের যেকোনো দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে বিথীর সামাজিক কর্মকাণ্ড সকলের নজর কেড়েছিল। করোনার সময় মানুষের জীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এই নারী ক্রিকেটার। পরিচিতি পান ‘অক্সিজেন লেডি’ হিসেবে। করোনা এখন নেই, কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় লাখো জীবন ঝুঁকিতে। এবারও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বন্যায় ত্রাণ নিয়ে ছুটেছেন মানুষের বাড়ি বাড়ি। হাঁটু কিংবা গলা পানি পাড়ি দিয়েই ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

ব্যতিক্রম ঘটেনি পবিত্র ইদুল আজহার দিনেও। অসহায় মানুষদের সঙ্গেই কাটিয়েছেন সারাদিন। ইদের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন বানভাসী মানুষদের সঙ্গে। ইদের দিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুরে ১৫০০ পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করেছেন তিনি। এছাড়া বন্যায় আক্রান্ত ৫০০ পরিবারের জন্য মাংস পৌঁছে দিতে আজ সোমবার (১১ জুলাই) কুড়িগ্রামে গেছেন বিথী।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত বছর বিভিন্নজনের সহযোগিতায় তিনটি গরু ও তিনটি খাসি কোরবানি করে মাংস বিলিয়েছেন তিনি। এবারও তার এ মহৎ উদ্যোগে বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি এগিয়ে আসায় কোরবানির জন্য কেনা হয় ছয়টি গরু ও পাঁচটি খাসি।

বিজ্ঞাপন
১৫০০ পরিবারের মুখে হাসি ফোটালেন বিথী
এক বৃদ্ধকে মাংস দিচ্ছেন বিথী, ছবি: সারাবাংলা

 

বিজ্ঞাপন

রোববার (১০ জুলাই) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিথী নিজেই রংপুর নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ নূরপুর, মহাদেবপুর, পাটবাড়ি, লালবাগ রেল স্টেশন, শ্যামাসুন্দরী মাঠ ও মণ্ডলপাড়া এলাকার অসহায়, দুস্থ, কর্মহীন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংসের প্যাকেট পৌঁছে দেন। এসব এলাকা ছাড়াও সিকিউরিটি গার্ড, এতিমখানা, তৃতীয় লিঙ্গসহভাসমান মানুষদের মাঝে মাংস বিতরণ করেছেন। মানবিক এই সহায়তার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিথীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে আরিফা জাহান বিথী বলেন, ‘মানুষের কাছাকাছি না গেলে কষ্ট অনুভব করা যায় না। আমরা বন্যাকবলিত কুড়িগ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানকার মানুষদের মধ্যে সাধ্য, সামর্থ্য ও বিভিন্নজনের সহযোগিতা থেকে ত্রাণ বিতরণ করেছি। ওই সময়ে একজন বানভাসি বলেছিলেন- আপা ইদের দিনেও কি আমাদের এখানে আসবেন? আমাদের কি কোরবানির গোস্ত দিবেন? কিছু না ভেবেই তাকে বলেছিলাম হবে ইনশাআল্লাহ। কারণ আমাদের তো সব দিনই সমান।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘খুব চিন্তায় ছিলাম। আল্লাহ্ আর কিছু মানুষ আমার মনের অবস্থাটা জানতেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি তো নিয়ত করেছিলাম ১ হাজার পরিবারের সঙ্গে ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করব। কিছু মানুষের সহযোগিতা, সাহস ও অনুপ্রেরণায় সেটি দুই হাজার পরিবারে গিয়ে ঠেকেছে। সবার অনুদানে এটি করা সম্ভব হয়েছে। মূলত দুস্থ, এতিম, কৃষক, সিকিউরিটি গার্ড, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং বানভাসি পরিবারের ইদের আনন্দের জন্যই এই চেষ্টা ‘

যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাবেক এই নারী ক্রিকেটার বলেন, ‘ইদের দিনে হয়তো পরিবারের সঙ্গে থাকার কথা। কিন্তু আমার পরিবারের সদস্যরাই আমার এসব কাজের সঙ্গে থাকে। এ কারণে কষ্ট ভুলে থাকি। সত্যি বলতে পরিবারকে তেমন সময় দিতে না পারলেও পরিবারের সবাই আমার সঙ্গে কাজ করছে। আমি ভাগ্যবান একসঙ্গে দুই হাজার পরিবার নিয়ে ইদ আনন্দ উদযাপন করছি।’

১৫০০ পরিবারের মুখে হাসি ফোটালেন বিথী
এক বৃদ্ধকে মাংস দিচ্ছেন বিথী, ছবি: সারাবাংলা

কোরবানির মাংস কাটাকাটি ও প্যাকেট করতে বিথীকে সহযোগিতা করেছেন তার নিজের গড়া উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমির একঝাঁক কিশোরী। মানবিক এ উদ্যোগে অংশ নিতে তার সঙ্গী হয়েছেন বেশকিছু তরুণও। তাদের সঙ্গে নিয়েই প্রায় মাসখানেক ধরে বানভাসিদের কাজ করছেন তিনি।

বিথী জানান, সোমবার কুড়িগ্রামের পোড়ারচর, আলোরচর, আফতাবচরে মাংস বিরতণ করা হবে। সেখানে ২টি গরু ও ২টি খাসি কোরবানি করে ৫০০ পরিবারের মাঝে মাংস বিলি করবেন।

বিথী তার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার একার পক্ষে এত বড় কাজ করা সম্ভব হত না। যারা আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই কাজে যারা যারা পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এতগুলো পরিবারের সঙ্গে ইদ আনন্দ ভাগাভাগির সময়টা ছিল একদম অন্যরকম। তাদের চোখে-মুখের ভাষা বলে দিচ্ছিল, অসহায় মানুষগুলো কতটা খুশি ছিলেন।’

সারাবাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন