বিজ্ঞাপন

রাবির ভর্তি পরীক্ষা: আবাসন সংকট, বেড়েছে গাড়ি ভাড়া ও খাবারের দাম

July 24, 2022 | 10:39 am

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আশফাকুজ্জামান সিফাত। তিনি গত বৃহস্পতিবার নগরীর মির্জাপুর এলাকায় তার এক আত্মীয়র বাড়িতে উঠেছেন। শুক্রবার বিকেলে ঘুরতে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সেখান থেকে রিকশা নিয়ে ফিরেছেন মির্জাপুরে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে আসলাম ২০ টাকা। কিন্তু বিনোদপুর থেকে মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ি যাব, ভাড়া চাচ্ছে ৩০ টাকা। আবার কেউ কেউ ৫০ টাকাও ভাড়া চেয়েছেন। কিন্তু আমার আত্মীয়র কাছে শোনা বিনোদপুর থেকে মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ভাড়া মাত্র ১০ টাকা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সোমবার (২৫ জুলাই) শুরু হবে। চলবে বুধবার (২৭ জুলাই) পর্যন্ত। কিন্তু এর আগেই গত শুক্রবার থেকে নগরীতে বেড়ে গেছে গাড়ি ভাড়া ও খাবারের দাম। একইসঙ্গে রয়েছে আবাসন সংকট। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বাড়তি চাপের সুযোগ নিয়ে রাজশাহীতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ নগরবাসীরও।

সুমাইয়া আফরিন নামের কাজলার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমি প্রতিদিন কাজলা থেকে সাহেববাজার যাই অটোরিকশায়। কাজলা থেকে সাহেববাজারের ভাড়া ৮ টাকা। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে ১০ টাকা নেওয়া হলেও শনিবার ১৫ থেকে ২০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ভাড়া বেশি কেন হচ্ছে জানতে চাইলে অটোরিকশা চালকরা দুর্ব্যবহার করছে। চালকরা বলছেন, গেলে যান, না গেলে না যান।

বিজ্ঞাপন

অটোরিকশা ভাড়ার মতোই বেড়েছে খাবার হোটেলে বিভিন্ন খাদ্যের দাম। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান ক্লাস শেষ করে তালাইমারীর একটি হোটেলে সহপাঠীদের নিয়ে শনিবার দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলেন। আতিকুর রহমান জানান, সেই হোটেলের ওয়েটার জানান দুপুরে গরুর মাংস ও ভাত না ছাড়া আর কোনো খাবার নেই। বাধ্য হয়েই তারা সেই খাবার দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করেন। খাবারের বিল জানতে চাইলে বলা ২২০ টাকা করে। সেখানে তারা প্রতিবাদ করেন। বলেন, এক প্লেট ভাত আর তিন পিস গরুর মাংস কী করে ২২০ টাকা হয়। ক্যাশ কাউন্টারে থাকা ব্যক্তি তাদের বলেন, খেয়েছেন এখন টাকা দেন। বাধ্য হয়ে তারা ২২০ টাকা দিয়ে আসেন।

আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ওই হোটেলে মাছ, মুরগী, সবজি, ভর্তা ও ডালও ছিল। কিন্তু তারা সেগুলো পরিবেশন বা বলেননি। তারা ইচ্ছামত দাম বাড়াতে শুরু করেছেন। আমরা প্রতিদিন তাদের হোটেলগুলোতে খাই। এভাবে যদি দাম ইচ্ছামত বৃদ্ধি করে তাহলে রাজশাহীর নাম খারাপ হবে।

বিজ্ঞাপন

আতিকুরের মতো রাজশাহীর বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বৃদ্ধি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। ভোক্তারা বলছেন, অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসছেন তারা সবাই আমাদের অতিথি। অতিথিদের সঙ্গে এমন আচরণে রাজশাহীর সম্মান ক্ষুণ্ন হবে।

নগরীর কুমারপাড়ার সজিব তার আত্মীয়ের জন্য দুই দিন ধরে আবাসিক হোটেলে সিট খুঁজছেন। শহরের প্রায় অধিকাংশ হোটেলে গিয়েও সিট পায়নি। সজিব বলেন, ‘কোথাও কোনো সিট নেই। এক আত্মীয় এবার ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসবে। তাই ২৫ তারিখের একটি সিট দরকার ছিল পাইনি।’

বিজ্ঞাপন

নগরীর কাদিরগঞ্জের আবরার বলেন, চারদিন খুঁজেছি কোনো আবাসিক হোটেলে সিট পাইনি। শুধু আবরার কিংবা সজিবই নন; নগরীতে প্রায় প্রতিদিনই হাজারো শিক্ষার্থীর অভিভাবক-পরিচিতজনরা সিটের পেছনে ছুটেও কোথাও পাচ্ছেন না।

রাজশাহী আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসান কবির বলেন, ‘প্রতি বছরই এই সময়টায় এ ধরনের সংকট তৈরি হয়। আমরা হোটেল মালিকরা এই সময়টায় বিব্রত হই, বিড়ম্বনাতেও পড়ি। কারণ চেনাজানা অনেকেই আছেন, যারা হোটেলে সিট চান।’

নগরীর অটোরিকশা ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলার জন্য রাজশাহী ইজিবাইক মালিক সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলামের মুঠোফোন নাম্বারে একাধিক বার কল দেয়া হলে তিনি ধরেননি।

ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ জানান, আমরা রোববার (আজ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাগুলো যাবো। সেখাকে প্রতিটা হোটেল ও রেস্তোরাঁর খাবারের মান ও মুল্য তালিকা পর্যবেক্ষণ করবো। কোন ব্যবসায়ী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে খাবারের মূল্যবৃদ্ধি করে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো। এই অভিযান ভর্তি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অব্যবহত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের কোনো দোকানে খাবারের অতিরিক্ত দাম কিংবা যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন ইউনিটে চার হাজার ২০ আসনের বিপরীতে এবার ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিতে রাজশাহী আসবেন এক লাখ ৭৮ হাজার ২৬৮ পরীক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে আসবেন অভিভাবক। সব মিলিয়ে বাড়তি অন্তত প্রায় চার লাখেরও বেশি মানুষের চাপ পড়বে রাজশাহীতে।

সারাবাংলা/এএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন