বিজ্ঞাপন

নভেম্বরের পরে মিলবে না কোভিড ভ্যাকসিনের ১ম ও ২য় ডোজ

July 26, 2022 | 12:15 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারের কাছে মজুত থাকা করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে আগামী নভেম্বর মাসে। এ অবস্থায় নভেম্বর মাসের পর করোনাভাইরাসের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন আর কাউকে দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে সবাইকে সবাইকে দ্রুত করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ও করোনা ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক সারাবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দেশে কোভিড ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই জানিয়ে ডা. শামসুল সারাবাংলাকে বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দেশের জন্য ৩০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের কাছে মজুত আছে এক কোটি ৪৮ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন যারা পাননি, তাদের জন্য এগুলো বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এসব ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ হবে নভেম্বরে। আর তাই নভেম্বরের পরে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন কাউকে দেওয়া সম্ভব হবে না।

বিজ্ঞাপন

সরকার ১৩ কোটিরও বেশি মানুষকে কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল বলে জানান ডা. শামসুল। বলেন, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের তুলনায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধী ভ্যাকসিন প্রয়োগে অনেক এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই মানুষ বিপুল আগ্রহে ভ্যাকসিন নিয়েছে। সরকারিভাবে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৩ কোটি ২৯ লাখ প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে আমরা ১২ কোটি ৯৬ লাখ প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন দিয়েছি। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৩৩ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি।

সব মিলিয়ে প্রায় সোয়া কোটি মানুষের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়া বাকি রয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই কর্মকর্তা বলেন, যারা প্রথম ডোজের করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাদের ৯৪ লাখ এখনো দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নেননি। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে তাই এখনো ভ্যাকসিন নেওয়ার বাকি এক কোটি ২৭ লাখ মানুষ। যেহেতু মজুত ভ্যাকসিনের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, তাই যারা এখনো প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নেননি তারা দ্রুত এই ভ্যাকসিন নিয়ে নেবেন বলে আমরা আশা করছি।

বিজ্ঞাপন

ডা. শামসুল আরও বলেন, যারা এখনো ভ্যাকসিন নেননি বা বাদ পড়ে আছেন, তাদের নিবন্ধন না থাকলেও সমস্যা নেই। তারা নিবন্ধন ছাড়াও কেন্দ্রে গেলে নিবন্ধন করে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। কিন্তু ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে নভেম্বরের পরে আর তা দেওয়া সম্ভব হবে না।

প্রথম ডোজ প্রয়োগে লক্ষ্যমাত্রার অনেক কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হলেও বুস্টার ডোজের ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো বাকি রয়েছেন বলে জানান ডা. শামসুল। তিনি বলেন, যারা ভ্যাকসিনের প্রথম দুই ডোজ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে এখনো ছয় কোটি মানুষের বুস্টার ডোজ নেওয়া বাকি। এখন পর্যন্ত বুস্টার ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন তিন কোটি ৮১ লাখ মানুষ। ঠিক এই সময়ে উপযুক্ত ছয় কোটি ৩০ লাখ মানুষ এখনো বুস্টার ডোজ নেননি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত থাকলেও মানুষ ভ্যাকসিন নিতে আগের চাইতে কিছুটা কম আগ্রহী মনে হচ্ছে। তবু আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি নানাভাবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, আমরা ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদেরও ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছি। এরই মধ্যে তাদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আশা করছি আগস্ট মাসেই এই কার্যক্রম আমরা শুরু করতে পারব।

এর আগে, দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সবশেষ ১৯ জুলাই সারাদেশে বুস্টার ডোজ প্রয়োগে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে সরকার। ওই দিন অবশ্য বুস্টার ডোজের পাশাপাশি কোডিড-১৯ ভ্যাকসিনের নিয়মিত প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিনও প্রয়োগ করা হয়। তবে এর আগের ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনগুলোর মতো সাড়া ফেলতে পারেনি এই ক্যাম্পেইনটি।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, ১৯ জুলাইয়ের বিশেষ ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনে সরকার ৭৫ লাখ বুস্টার ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে ওই দিন ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩ জন বুস্টার ডোজ নেন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৫ শতাংশ।

মাঝে কয়েক মাস করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমে এলে এবং করোনায় মৃত্যু শূন্যের কোঠায় পৌঁছালেও গত মাসখানেক সময়ে ফের দুইটির পরিমাণই বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক জানিয়েছেন, দেশে করোনার এবারের ঢেউয়ে যারা প্রাণ হারাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই ভ্যাকসিন নেননি। ভ্যাকসিন করোনায় মৃত্যু ঠেকাতে শতভাগ সফল না হলেও এর কার্যকারিতা প্রমাণিত বিধায় সবাইকে দ্রুত ভ্যাকসিন নিতেও আহ্বান জানান মহাপরিচালক।

সারাবাংলা/এসবি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন